default-image

জন্মের পর একটি শিশু ছোট ছোট কিছু শব্দের মাধ্যমে তার মনের ভাব প্রকাশ করে। সে যখন কথা বলে, তখন বাংলা ব্যাকরণ নিয়ে মাথা ঘামায় না। ছোটবেলা থেকে শেখা এবং বলা, দুটোই পাশাপাশি চলতে থাকে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সে তার মনের ভাব সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারে। তার মানে, মাত্র পাঁচ বছর চর্চা করে একটি শিশু কথা বলা শিখে ফেলে। অথচ আমরা অনেকে সেই প্লে গ্রুপ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ইংরেজি পড়ার পরও ইংরেজিতে কথা বলতে পারি না। ঘাবড়ে যাই, ভয় লাগে। স্নাতক, এমনকি স্নাতকোত্তর শেষ করার পরও অনেকে এই সমস্যায় ভোগেন।

ইংরেজিতে কথা বলাকে আপনি সাইকেল চালানোর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। ধরুন, আপনি সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানেন। বছরের পর বছর আপনি এ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু কোনো দিনই সাইকেলে চড়ে চালানোর চেষ্টা করেননি। সারা জীবন সাইকেল নিয়ে পড়াশোনা করেও কিন্তু আপনি সাইকেল চালাতে পারবেন না, যদি আপনি চালানোর চেষ্টা না করেন। সাঁতারের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। ইংরেজিতে কথা বলাও সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটার মতো। বছরের পর বছর ইংরেজি ব্যাকরণ শিখলেও আপনি আসলে স্বাচ্ছন্দ্যে ইংরেজি বলতে পারবেন না, যদি না চর্চা করেন।

কীভাবে ইংরেজি বলার ভয় দূর করবেন। কয়েকটি পরামর্শ দিতে চেষ্টা করছি।

বিজ্ঞাপন

১. চর্চা, চর্চা এবং চর্চা

ইংরেজিতে কথা বলা শেখার জন্য আপনাকে প্রচুর চর্চা করতে হবে। এখানে চর্চার কোনো বিকল্প নেই। ইংরেজি বলার ভয় দূর করতে হলে আপনাকে বেশি বেশি ইংরেজিতে কথা বলতে হবে।

২. অন্যের কথা শুনুন

লক্ষ করে দেখবেন, যারা কানে শুনতে পায় না, তারা কথা বলতে পারে না। তার মানে আমাদের শোনার সক্ষমতার সঙ্গে কথা বলার দক্ষতাও জড়িত। আমাদের দেশে অনেকেই হিন্দি ভাষা খুব ভালো বুঝতে পারেন, বলতেও পারেন। কারণ, হিন্দি গান, সিনেমা, টিভি সিরিয়াল দেখার প্রচলন আমাদের মধ্যে আছে। একইভাবে প্রচুর ইংরেজি সিনেমা, তথ্যচিত্র, খবর দেখা ও মন দিয়ে শোনার মাধ্যমেও আপনার একধরনের দক্ষতা তৈরি হতে পারে।

৩. কথা বলার সঙ্গী

ইংরেজি চর্চা করার জন্য আপনার একাধিক ‘কথা বলার সঙ্গী’ প্রয়োজন। আপনার বন্ধু, মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন, যে কেউই ‘স্পিকিং পার্টনার’ হতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলে চর্চা করতে পারেন।

৪. ব্যাকরণ নিয়ে ভাববেন না

শুরুতেই যেমনটা বলছিলাম, একটি ছোট্ট শিশু কিন্তু ব্যাকরণ নিয়ে ভাবে না। সে শুধু তার মনের ভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করে। প্রথমে সে কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করে মনের ভাব বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সে শুদ্ধভাবে কথা বলা শিখে যায়। সে যখন কোনো ভুল করে, তখন কিন্তু বড়রা তাকে ব্যাকরণ বুঝিয়ে ভুল ধরিয়ে দেন না। বরং সঠিক বাক্যটা শুধু বলে দেন। অতএব কথা বলার সময় শুরুতে কোনোভাবেই ইংরেজি ব্যাকরণ নিয়ে চিন্তা করা যাবে না। স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার দক্ষতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে নির্ভুলভাবে বলার চেষ্টা করতে হবে।

৫. ইংরেজিতে ভাবুন

ইংরেজিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতে চাইলে আপনাকে ইংরেজিতে চিন্তা করা শিখতে হবে। মনে মনে বাংলায় ভেবে তারপর ইংরেজিতে অনুবাদ করবেন না। বরং ইংরেজিতেই ভাবুন। যা কিছু দেখবেন, সবকিছু মনে মনে ইংরেজিতে চিন্তা করুন। দুই মাস এভাবে চর্চা করলেই অনেকটা এগিয়ে যাবেন।

৬. সহজভাবে কথা বলুন

শুরুতে খুব ছোট ছোট বাক্য দিয়ে কথা বলার চর্চা করুন। জটিল বাক্য তৈরি করার প্রয়োজন নেই।

৭. কথা বলে ভিডিও করুন

মোবাইলের ক্যামেরাটিকে আয়নার মতো ব্যবহার করুন। ক্যামেরার সামনে যেকোনো বিষয়ে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করুন, ভিডিও ধারণ করুন। এভাবে প্রতিদিন তিনটি করে দুই মিনিটের ভিডিও তৈরি করা শুরু করুন। এক মাসে আপনি ৬০টি ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। এবার ১ নম্বর ভিডিওর সঙ্গে ৬০ নম্বর ভিডিওটির তুলনা করে দেখুন। আপনি নিজেই নিজের উন্নতি টের পাবেন।

লেখক: প্রধান প্রশিক্ষক, ইংলিশ টিচিং অ্যান্ড ট্রেইনিং অ্যারেনা

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন