default-image

চেনা পরিবেশটা ছিল না। ছিল না দর্শকের করতালি, টেবিল চাপড়ে সতীর্থকে উৎসাহ জোগানো। চোখের ভাষায় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার খুব একটা সুযোগও পাননি প্রতিযোগীরা। কিন্তু অনলাইনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এক বিতর্কের মঞ্চে ঠিকই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের বিতার্কিকদের একটি দল।

হবার্ট অ্যান্ড উইলিয়াম স্মিথ কলেজ রাউন্ড রবিন ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) একটি দল। ঢাবির এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল।

বিজ্ঞাপন

২০০৭ সাল থেকে নিজেদের ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় প্রতিবছরই বিশ্বের নামকরা ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এ বছর বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ঢাবির দুই শিক্ষার্থী সৌরদ্বীপ পাল ও সাজিদ আসবাত খন্দকার।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো অনলাইনে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন আয়োজকেরা। প্রতিযোগিতার নামানুসারে প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি দল ‘রাউন্ড রবিন’ পদ্ধতি, অর্থাৎ সব কটি দলই একে অপরের বিপক্ষে বিতর্কে অংশ নেয়। সেখান থেকে সেরা চারটি দল চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়। এরপর ওই চার দল নিজেদের মধ্যে দুই দলে বিভক্ত হয়ে চূড়ান্ত বিতর্কে অংশ নেয়।

বিজ্ঞাপন

চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবির সঙ্গে সেরা চারে আরও ছিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যক্তিগত অর্জনেও দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এই দুই বিতার্কিক। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সেরা বক্তার স্থান পেয়েছেন সাজিদ। অন্যদিকে সপ্তম সেরা বক্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সৌরদ্বীপ। আন্তর্জাতিক এ অর্জনের অনুভূতি জানতে মুঠোফোনে কথা হয় বিতার্কিক সাজিদের সঙ্গে। তিনি জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজ সৌরদ্বীপের সঙ্গে এর আগেও বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। দলীয় ও ব্যক্তিগত একাধিক সাফল্যও রয়েছে তাঁদের ঝুড়িতে।

বিজ্ঞাপন

গত বছর ইউনাইটেড এশিয়ান ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। একই প্রতিযোগিতায় ২০১৭ সালে সেরা বক্তার খেতাবও অর্জন করেছিলেন সাজিদ। এদিকে ২০১৯ সালে এশিয়ান ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এশিয়ার সেরা নির্বাচিত হয় তাঁদের দল।

স্কুলজীবন থেকেই বিতর্কের মাঠে নাম লেখান সাজিদ। নিজ স্কুল ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল ডিবেটিং ক্লাবের নিয়মিত সদস্যও ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোয় অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় ইংরেজি ভাষায় বিতর্ক করতে হয়। সাজিদ বলেন, ইংরেজি বলার দক্ষতার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশের বিতার্কিকেরা অনেক সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ করতে দ্বিধা বোধ করেন। তবে এসব চিন্তা না করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা সম্ভব।

মন্তব্য পড়ুন 0