বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ডকলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি করে আমি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজেভর্তি হই। কিন্তু বরাবরই আমারআগ্রহের বিষয় ছিল প্রকৌশল। তাই মেডিকেলে ভর্তি হয়েও ঠিক মন মানছিল না। এক সপ্তাহ ক্লাস করতে না করতেই শুরু হলো করোনার প্রকোপ। ক্লাস বন্ধ হয়ে গেল। এ সুযোগে আমি নানা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে শুরু করি।

ভিনদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনপ্রক্রিয়া আমার কাছে খুব যে কঠিন মনে হয়েছে, তা নয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটেই সব তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতা থেকেও পেয়েছি অনেক বৃত্তির খোঁজ। আমি শুধু ধৈর্য ধরে আবেদন করে গেছি। জাপানের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ বৃত্তি পেয়েছিলাম। অস্ট্রেলিয়াতেও বৃত্তি পেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সুযোগ করে দিল হাঙ্গেরি সরকারের দেওয়া স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ।

হাঙ্গেরির উচ্চশিক্ষার বার্তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতেই মূলত এ বৃত্তি। ২০১৩ সাল থেকে যা পরিচালনা করছে টেম্পাস পাবলিক ফাউন্ডেশন। বর্তমানে পাঁচটি মহাদেশের প্রায় ৮০টি দেশে এ বৃত্তি দেওয়া হয়। ৬০০–র বেশি পূর্ণ ডিগ্রি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ আছে বৃত্তির অধীনে।

স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ আমাকে শুধু যে বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে তা নয়। এখানে মাসিক উপবৃত্তি দেওয়া হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতি মাসে দেওয়া হয় ৪৩ হাজার ৭০০ হাঙ্গেরীয় ফোরিন্ত বা প্রায় ১১ হাজার টাকা। পিএইচডিতে থাকাকালীন মাসিক অনুদানের পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার ফোরিন্ত বা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। আবাসন খরচও দেওয়া হয় বৃত্তির অধীনে।

স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম বৃত্তির জন্য এই ওয়েবসাইটে শুরুতে একটি আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার সময় হাঙ্গেরির নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দসই দুটি বিষয় বাছাই করতে হয়। কোনো আবেদন ফি নেই। প্রথম ধাপে যাঁরা নির্বাচিত হন, তাঁদের সাক্ষাৎকার বা লিখিত পরীক্ষায় ডাকা হয়।

আমি মনে করি, অনেকে অনেক যোগ্যতা থাকার পরও আবেদনের সময় বা সাক্ষাৎকারে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না বলে এ ধরনের বৃত্তির সুযোগ হারান। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের যা কিছু অর্জন, নিজের আগ্রহ, এসব তুলে ধরতে পারলেই আমি মনে করি এগিয়ে থাকা সম্ভব।

উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে, একা একা এত দূর দেশে পড়তে আসা আমার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু এখন যখন নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আমার প্রিয় প্রকৌশলের বিষয়গুলো নিয়ে পড়ালেখা করি, মনে হয় এটাই তো চেয়েছিলাম।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন