বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনলাইনে বিজয়ীরা জানালেন, এবারের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ১৫টি প্রোগ্রামীয় সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়েছিল। ১৫টির মধ্যে ১২টি সমস্যার সমাধান করে বুয়েট হেলবেন্ট প্রতিযোগিতায় ২৮তম স্থান অর্জন করে। এই অবস্থান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ। এ ছাড়া আইসিপিসির চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডিইউ সোয়াম্পফায়ার' ৩৩তম স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে রাশিয়ার নিজনি নভগরদ স্টেট ইউনিভার্সিটি।

শুরুর গল্পটা বিজয়ী দলের সদস্য অর্ঘ্য পালের মুখেই শোনা যাক। তিনি বলেন, 'প্রোগ্রামিং আসলে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতাকে লক্ষ করে হয় না। নিখাদ ভালোবাসা থেকেই মূলত বছরের পর বছর একটু একটু করে নিজেকে উন্নত করা। তবে আমাদের তিনজনের শুরুটাই হয়েছে অলিম্পিয়াড থেকে। এ ক্ষেত্রে আমরা অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশকে ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অন্যতম অগ্রপথিক তিনি। আইসিপিসিতে ২২ বছর ধরে বুয়েট দলের কোচ ছিলেন তিনি।'

বুয়েটে প্রোগ্রামিং চর্চার সংস্কৃতিও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছে, বললেন বিজয়ী দলের সদস্যরা। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় প্রতি মাসেই একটি করে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হয়। এসব প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা সদস্যদের মধ্য থেকে দু-তিনজনকে নিয়ে একেকটি দল গঠন করা হয়। এভাবেই জন্ম হয়েছিল বুয়েট হেলবেন্টের।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের ছাত্র হয়েও কীভাবে প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুতি নিলেন, জানতে চেয়েছিলাম আশিকুল ইসলামের কাছে। তিনি বললেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে প্রোগ্রামিংয়ের একটি ব্যবহারিক ক্লাস ছিল। এই ক্লাসটি তখন নিতেন বুয়েটের সাবেক প্রভাষক কায়সার রহমান। স্যার একদিন আমাকে ল্যাবে ডেকে বললেন, তুমি তো কোডিংয়ে অনেক ভালো, বিশ্ববিদ্যালয়ে তো নিয়মিতই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হয়। তোমার এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা উচিত। মূলত স্যারের সেদিনের কথাগুলোই আমাকে প্রোগ্রামিং শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয়।'

উল্লেখ্য, আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে ২০২১–এর ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। প্রোগ্রামিং চলার সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অর্ঘ্য পাল বলেন, '১ অক্টোবর প্রোগ্রাম শুরু হলেও আমরা পৌঁছাই ৩ অক্টোবর। আমাদের যাওয়া-আসার খরচ বিভাগ বহন করে, আর ওখানে থাকা-খাওয়া—সবকিছুর ভার নিয়েছেন আয়োজকেরা। তাই প্রথম দিন থেকেই আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখতে শুরু করি। চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয় ৫ অক্টোবর। প্রতিবছর তিনজনের জন্য একটি করে কম্পিউটার বরাদ্দ থাকলেও এবার করোনার কারণে সবার জন্য আলাদা কম্পিউটার ছিল। পুরো সময় আমরা সবাই সবার অবস্থান জানতাম। আমরা একটা একটা করে কোড লিখেছি, আর আমাদের অবস্থান লাফিয়ে লাফিয়ে এগোচ্ছিল। এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ।'

দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য প্রীতম কুণ্ড বলেন, 'আমাদের অর্জন আসলে বাইনারি নয়। বুয়েটে অনেকগুলো ভালো ভালো দল ছিল। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে করতেই নিজেদের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করেছি। এই জয়ের ভাগীদার বুয়েটের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।'

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন