বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যা-ই ভাবুক, চাপা রোমাঞ্চ যে ওদের অস্থির করে তুলেছে, সেটা বেশ টের পাচ্ছি। কত রকম প্রশ্ন যে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আর আমাদের জ্বালিয়ে মারছে।

যতই লেপের তলা থেকে কোনোরকম কানে হেডফোন গুঁজে লগইন করুক, এত দিন পর সবাইকে দেখার যে আনন্দ আর খুশি তাদের চোখে ঝিলিক দিয়ে উঠবে—সেটা দেখার জন্য ভেতরটা আকুলিবিকুলি করছে ভীষণ।

default-image

যদিও ক্লাসের অর্ধেকটা সময় ‘ওহে তোমরা ভিডিওটা একটু অন করো বাছাধনেরা’ বলে বকাঝকাতেই চলে যায়, তবু এই বকুনিগুলো না দিলে যেন দিনটা কেমন আলুনি হয়ে যায়।

ওরা তো বোঝে না এই চাঁদমুখগুলো দেখার জন্যই আমরা হাপিত্যেশ করে বসে আছি এত দিন।

সারা ক্যাম্পাসে দাপাদাপি, হইহুল্লোড়, ছোটাছুটি, অ্যাসেম্বলিতে গলা ছেড়ে গাওয়া ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে বাস্কেটের বদলে স্ট্যান্ড ধরে ঝোলাঝুলি, ফুটবল ম্যাচে হেরে গিয়ে টলমল চোখেমুখ লুকিয়ে ফেলা, মিসদের কাছে যত আবদার, সারা বছর না পড়ে পরীক্ষার খাতায় একটা নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন...সেই দিনগুলো ফিরে আসছে আবার।

ঝকঝকে হাসিমাখা মুখ আর সারল্যভরা চোখগুলো যেন আমাকে, আমাদের চুম্বকের মতো টানছে। এরা জ্বালায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসে তার চেয়েও বেশি। এই ভালোবাসার প্রাপ্তিতে আমাদের জীবন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। এ ভালোবাসায় কোথাও কোনো খাদ বা কোনো স্বার্থ নেই। বহু দিন অদেখার পর যখন পুরোনো মুখগুলো ‘মিইইইস’ বলে ছুটে আসে, তখন তো মনে হয় আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া কে যেন সমস্ত মাধুরী দান করে দিয়েছে। ওরাই তো আমাদের জিয়নকাঠি। পৃথিবীর তাবড় ধনীরা আমাদের কাছে একেবারেই তুচ্ছ! নস্যি। আমাদের যা আছে, তার ধারেকাছে ওরা নয়।

আজ অনেক দিন পর নির্ঝরের স্বপ্ন ভেঙে আবার ওরা মূল স্রোতে ফিরবে। তাই অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবার কাছেই বিনীত অনুরোধ, হয়তো এ কয়েকটা দিন খুব ধরেবেঁধে কষে ওদের পড়ানো যায়নি। তাই বলে স্কুল খোলামাত্র ওদের রামগরুড়ের ছানাটি বানিয়ে দেবেন না। হাসতে দিন, খেলতে দিন। বুক ভরে নিশ্বাস নিতে দিন। জীবনের কঠিন–কঠোর দিনগুলো তো পড়েই আছে যুদ্ধ করার জন্য। এখন বরং দুহাত ভরে দিতে শেখান। তবেই কোনো একদিন ফেরত পাবে ওই দুহাত ভরেই।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন