বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুধু আসমা কিংবা মেহিদী নন, চবির আরও অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীই মহামারিকালে নানা বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রকাশনায়। কখনো একা, কখনো দু-তিনজন একসঙ্গে, আবার কখনো শিক্ষকের সহযোগী হিসেবে গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেন তরুণ গবেষকদের দল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের তথ্য বলছে, করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি গবেষণা প্রকল্পের আবেদন জমা পড়ে। ইতিমধ্যে ১৩টি প্রকল্পের কাজ শেষে প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তাঁরা শিখেছেন নিত্যনতুন বিষয়। অন্যদিকে স্কুপাস ও গুগল স্কলারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার তথ্য জানা যায়। এসব গবেষণা প্রকল্পেও কাজ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালে ছুটে, দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে, এসব গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা। পরে তা কাজে লাগিয়ে কেউ টিকার নকশা প্রস্তুতের কাজ করেন, কেউ তৈরি করেন মোবাইল অ্যাপ।

এমনই একজন অণুজীববিজ্ঞানের স্নাতকের শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার। আইসিইউতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেসব রোগী মারা যাচ্ছেন, তাঁদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানই তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও আট শিক্ষার্থী। তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। সবার ঐকান্তিক পরিশ্রমে প্রকল্পটি সফল হয়। এটি প্রকাশিত হয় ইতালিভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘জার্নাল অব প্রিভেন্টেটিভ মেডিসিনে’। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে চিকিৎসাশাস্ত্রবিষয়ক আরেকটি জার্নালেও এটি প্রকাশিত হয়।

default-image

অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে করোনার ডেলটা ধরন খুঁজে বের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের একদল গবেষক। ওই দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কল্যাণ চাকমা ও তৌসিফ রেজা। তাঁরা হাসপাতাল থেকে শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে আরটি–পিসিআর ও জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে করোনার বিভিন্ন ধরন শনাক্ত করেন। পরে তাঁদের গবেষণাটি গৃহীত হয় আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিতে’। কল্যাণ চাকমা বলেন, ‘শিক্ষক ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। এই কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন বিষয় শিখেছি, যা গবেষক হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক চট্টগ্রামের সব জেলা থেকে করোনার নমুনা নিয়ে জিনোম বিন্যাস উন্মোচন করেন। গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, মো. আরিফ হোসাইনসহ আরও বেশ কয়েকজন। নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে গবেষণাগারের বিশ্লেষণ—সব কাজেই দক্ষতার পরিচয় দেন তাঁরা।

গবেষণাগারে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘তাঁদের এ কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বড় গবেষক হতে ভূমিকা রাখবে; পাশাপাশি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক অবস্থা কেমন, শারীরিক অবস্থা কী, পুরোনো কোনো রোগ ছিল কি না, রোগ থাকলে সেসব রোগ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে কি না—এমন সব প্রশ্নের উত্তর বের করতে কাজ করছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রোমিও আফরিন ও সিফাত জামান। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে এখন চলছে ফলাফল তৈরির কাজ। শিগগিরই এটি কোনো জার্নালে জমা দেওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

দুর্গম পাহাড়ে গ্রামবাসী সাধারণত ঝরনা, ঝিরি বা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করেন। কিন্তু এই পানি কি নিরাপদ? বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রলি দেওয়ান। রলি জানালেন, ইতিমধ্যে ১০ জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন চলছে নমুনা বিশ্লেষণের কাজ। গবেষণায় পানির মান উঠে আসবে।

রোমিও, সিফাত ও রলির গবেষণা প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছেন ওই বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা করোনার মধ্যেও দারুণ কাজ করছে। হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। করোনার ভয় তাদের থামাতে পারেনি। আশা করা যায়, তাদের গবেষণা শিগগিরই প্রকাশিত হবে আন্তর্জাতিক কোনো জার্নালে।’

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন