default-image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। ক্যাম্পাসে ফেরা হয় না অনেকদিন হলো। কীভাবে কাটছে শিক্ষার্থীদের সময়? সেটাই ছাত্রছাত্রীরা লিখে জানাচ্ছেন ‘এ সময়ের দিনলিপি বিভাগে’। আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ইমেইলে: [email protected]। অথবা যোগাযোগ করুন স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজে

২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মোটামুটি বাসায়ই ছিলাম। জুন মাসে ঈদের ঠিক কয়েক সপ্তাহ পর আমার মা-বাবার খুব জ্বর হয়। তখন করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল আসতে অনেক সময় লাগত। এর মধ্যে এক রাতে আমার বাবার জ্বর প্রায় ১০৪ ডিগ্রির ওপরে উঠে গেল। তখন রাত তিনটা বাজে। আমরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করি। এক সপ্তাহ পর জানতে পারি, আমার বাবা ও মা দুজনেরই করোনা পজিটিভ। তারপর জীবনের সব চেয়ে দুর্বিষহ সময় শুরু হয়। আমার বাবার তেমন কিছু না হলেও মায়ের অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছিল, তাঁর রক্তও জমাট বাঁধতে থাকে। আমরা যেন আক্রান্ত না হই, তাই মা-বাবা আমাদের হাসপাতালে যেতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এই সময়ে আমাদের মানসিক অবস্থা খুব ভেঙে পড়ে। করোনা পজিটিভ হাওয়ায় কোনো আত্মীয়-স্বজন আমাদের সাহায্য করতে চাননি। শেষ পর্যন্ত আমি আর আমার ভাই একদম একা হয়ে পড়ি। জীবনে এমন অসহায় মুহূর্ত আর কখনো আসেনি। নিজেদের খুব অভিভাবকহীন মনে হচ্ছিল তখন। এরই মধ্যে পুলিশ এসে আমাদের বাসায় লকডাউন করে দিয়েছিল। পাড়া-প্রতিবেশী, এমনকি আমার আপন চাচারাও সাহায্য করেনি। সবাই আমাদের দেখলেই কেমন দূরে চলে যেত।

এরপর আল্লাহর রহমতে আমার মা-বাবা দুজনেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। কিন্তু তাতেও আমাদের পরিবারের সমস্যা শেষ হলো না। করোনার কারণে আমার মায়ের হার্টের সমস্যা দেখা দিল। এখনো মা পুরোপুরি সুস্থ হননি। এক অসুখের ক্ষতি আমরা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি।

আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ চট্টগ্রামের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের ছাত্রী। গত এক বছর ধরে চরম মানসিক সমস্যায় ভুগছি। করোনা আমার পরিবারকে একেবারে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এক বছর ধরে বইয়ের সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে পরীক্ষা না হওয়ার কারণে দুই বছরের সেশনজট তৈরি হয়েছে। শুধু করোনার কারণে জীবন থেকে একটা বছর হারিয়ে গেল, এই বছরটাও মনে হচ্ছে একই রকম যাবে। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা শেষ করে ব্যাংকার হব। কিন্তু মহামারির কবলে পড়ে আমি এবং আমার পরিবার মানসিক ও আর্থিকভাবে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি যে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারব কি না জানি না। কবে যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হবে তা-ও এখন অনিশ্চয়তার বিষয়ে। আর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন না করলে পরিবারের হালও ধরতে পারছি না। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ায় পরিবারের হাল আমারই ধরার কথা ছিল। আর এই করোনার ফলে সবকিছুই প্রায় শেষের পথে। শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছি, সঙ্গে ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।

কাজী নাজিয়া ইসলাম, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন