বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যরকম পাঠশালা

বুয়েটে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালেই ‘অন্যরকম পাঠশালা’র সূচনা করেন মাহমুদুল হাসান সোহাগ। বন্ধুর হ্যান্ডিক্যাম দিয়ে রেকর্ড করা লেকচার ভিডিও ডিভিডিতে তুলে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে দেওয়া থেকেই এর কার্যক্রম শুরু। শিক্ষার্থীদের জন্য শর্ত ছিল, যিনি ডিভিডির কপি পাবেন, তিনি আরও দুজনকে কপি করে দেবেন। এভাবেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে যায় অন্যরকম পাঠশালা। ২০১২ সালে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত তোলা শুরু হয় লেকচার ভিডিও। অন্যরকম পাঠশালায় রয়েছে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর ওপর বানানো অধ্যায়ভিত্তিক ভিডিও লেকচার। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর ওপর অধ্যায়ভিত্তিক ভিডিওগুলো হতে পারে বিজ্ঞানের একজন ছাত্রের ভর্তি পরীক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির অন্যতম সহায়ক। অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ভিডিওগুলো মূলত কোনো বোর্ড পরীক্ষা কিংবা ভর্তি পরীক্ষাকে উদ্দেশ্য করে নয়। আমি মনে করি, কোনো কলেজশিক্ষার্থী যদি তার পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়গুলো বিস্তারিতভাবে বুঝতে সক্ষম হয়, তাহলে তার পক্ষে সামনের পরীক্ষাগুলোতে অবধারিতভাবেই ভালো করা সম্ভব। তাই আমরা আসলে মূল জোরটা দিই কোনো একটা অধ্যায়কে বিস্তারিতভাবে বোঝানোতে। একজন কলেজশিক্ষার্থী তার বইয়ের সব টপিক ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়ও সে ভালো করবে।’

অন্যরকম পাঠশালার ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমানে প্রায় সাত লাখ গ্রাহক রয়েছেন। বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের ওপর নিয়মিতই লেকচার ভিডিও বানানো এবং আপলোড করা হচ্ছে।

ব্যাকবোন স্কুল

উচ্চশিক্ষায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালে চাঁদপুরের হাইমচরে মাহিন মতিন ও তাঁর এক জাপানি বন্ধুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ই-এডুকেশন প্রকল্প। শুরুতে এটা শুধু ডিভিডি ক্লাসের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। প্রথম বছর ৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং বাকি ৩৯ জন সুযোগ পান চাঁদপুর সরকারি কলেজে। এরই ধারাবাহিকতায় এক যুগ ধরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে সহায়তা করে আসছে ই-এডুকেশন। শুরুতে পুরো ব্যাপারটি অফলাইনে পরিচালিত হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চার বছর যাবৎ অনলাইনেই এ কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২১-২২ সেশনে ব্যাকবোন সারা দেশ থেকে ১০০ শিক্ষার্থীকে বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য তাঁদের প্রস্তুত করা হবে।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ জন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। যার মধ্যে খ ইউনিটে পঞ্চম স্থান এবং গ ইউনিটে প্রথম হয়ে মেধাতালিকায় জায়গা করে নেন দুজন। এ ছাড়া মোট শিক্ষার্থীর ১৫০ জনই বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন।

ব্যাকবোন করোনার সময় জাইকা ও সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে সংসদ টেলিভিশনের জন্য গণিতের কনটেন্ট তৈরি করে। এ ছাড়া বর্তমানে এডিবি ও সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ডিজিটাল টিচার্স প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্টের কাজ করে যাচ্ছে।

ব্যাকবোন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আরিফ উল্যাহ খান বলেন, ‘অনলাইনে শিক্ষার পরিসর নিয়মিতই বড় হচ্ছে। নিয়মিতই নতুন নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটছে। অনলাইনে শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের কার্যক্রমকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছি। অনলাইনে পাঠদান নিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে অনেক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে আমাদের আশা।’

প্রো উইথ স্বাধীন

বিধিনিষেধের সময় সব বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ছিল বন্ধ। তাই ভর্তি–ইচ্ছুকদের কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি–সহায়ক একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের ছাত্র স্বাধীন আহমেদ। ভিডিওটি বেশ সাড়া ফেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সেখান থেকেই মূলত ‘প্রো উইথ স্বাধীন’-এর শুরু। পরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভর্তি পরীক্ষা–সহায়ক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন তিনি।

প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত আছেন ২০ জনের অধিক শিক্ষক। তাঁদের সব লেকচার ভিডিওই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি, সি ও ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বানানো। শুধু রেকর্ডেড ভিডিও নয়, রয়েছে লাইভ ক্লাসের ব্যবস্থাও। ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত লাইভ ক্লাসের আয়োজন করা হয়। ‘প্রো উইথ স্বাধীন’–এর ইউটিউব চ্যানেলে মোট ভিডিওর সংখ্যা বর্তমানে ৩৮২। প্রতিনিয়তই এ সংখ্যা বাড়ছে। প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধু সঠিক নির্দেশনার অভাবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। আমরা মূলত গ্রাম ও শহুরে শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমরা প্রতিদিন ১৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে অনলাইনে পড়াচ্ছি। আমাদের আশা, একদিন আরও বড় পরিসরে শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে এ প্ল্যাটফর্ম। এটা মাথায় নিয়েই আমরা এখন কাজ করে যাচ্ছি।’

আই এডুকেশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি, ডি ও সি ইউনিটে ভর্তি–ইচ্ছুকদের জন্য অন্যতম সহায়ক হতে পারে আই এডুকেশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থী থাকাকালে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিধিনিষেধের মধ্যেই অনলাইনে আই এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন সিদ্দিকী মহসীন পাটওয়ারী। গত বছরের ভর্তি পরীক্ষার সময় ফেসবুকে নিয়মিত লাইভ ক্লাসের আয়োজন করে আই এডুকেশন। উপকৃত হন বহু শিক্ষার্থী। এ বছরও ভর্তি পরীক্ষার সময় ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত লাইভ ক্লাস করবে আই এডুকেশন। শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যেই এসব লাইভ ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন