default-image

কেউ যখন এসে বলে, ‘আমি একজন সিইও হতে চাই। ওই জায়গায় পৌঁছাতে আমাকে কী করতে হবে?’, শুনে আমি খুশি হই। কারণ, এর অর্থ হলো মানুষটি আশাবাদী, সে স্বপ্ন দেখে এবং বিশ্বাস করে যে সে পারবে। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রশ্নের উত্তরে আমি কী বলি? প্রথমত, ‘আমি একজন সিইও হতে চাই’—এই ভাবনা মাথায় নিয়ে শুরু কোরো না। কারণ যখন তুমি সিইও হওয়ার চিন্তায় মশগুল হয়ে যাবে, তখন তুমি যে কাজ করছ, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অতএব আমার প্রথম উপদেশই হলো, সিইও হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ডুবে থেকো না। বরং এখন তুমি যে কাজ করছ, সে কাজেই নিজের সেরাটা দাও।

দ্বিতীয়ত, তোমার যেন একটা বিশেষ দক্ষতা থাকে। মানুষ যেন বলে, এই কাজ সম্পর্কে তোমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না বা তোমার চেয়ে ভালো কেউ পারে না। বলা হয়, তুমি যদি প্রতিষ্ঠানের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ হও, তার মানে প্রতিষ্ঠানের বাইরে তোমার গুরুত্ব আরও বেশি। অতএব যেখানেই কাজ করো না কেন, মানুষ যেন তোমার কাজের মূল্যায়ন করে।

তৃতীয়ত, সাহস রেখো। আমি মনে করি এ সময় সাহসের অভাবই সবচেয়ে প্রকট। তুমি যদি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হও, সেটা জোর গলায় বলো। আমরা যদি এমন সাহসী মানুষ আরও বেশি পাই, যাঁরা জোর গলায় নিজের ভাবনা বা মূল্যবোধের কথা বলতে পারে, তাহলে আমাদের প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজ আরও সুন্দর হবে।

বিজ্ঞাপন

কঠিনকে করি সহজ

দীর্ঘদিনের পেশাজীবনে আমার বিশেষ দক্ষতা হলো কঠিনকে সহজ করা। বিষয়টা যা-ই হোক, তুমি যদি ইন্দ্রার হাতে তুলে দাও, একটা না একটা উপায় হবে। কখনো কখনো এমন বিষয়ও হাতে এসে পড়ে, যে ব্যাপারে আমার আগে কোনো ধারণাই ছিল না। উদাহরণ দিই—আমরা যখন কোয়েকার ওটস প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিলাম, আমাদের এফটিসি (ফেডারেল ট্রেড কমিশন) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। স্টিভ রায়ান তখন সিইও ছিলেন। তখনো এত বড় পরিসরের এফটিসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। আমাদের আইনজীবী বিষয়টার দেখভাল করছিলেন, কিন্তু তিনি কথা বলতেন আইনের ভাষায়।

একদিন স্টিভ আমার অফিসে এসে বললেন, ‘আমি চাই তুমি এফটিসি প্রক্রিয়াটা সামলাও।’ বললাম, ‘আমি প্রধান হিসাবরক্ষক ও চেয়ারম্যান। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কীভাবে প্রতিষ্ঠানটা চলবে, তা নিয়ে আমাকে ভাবতে হচ্ছে। এখনো অনেক কাজ বাকি।’ স্টিভ কোনো কথা শুনলেন না। বললেন, ‘আমি চাই এফটিসি প্রক্রিয়ার দায়িত্ব তুমি নাও, সঙ্গে আইনজীবীরা তো থাকবেনই।’ আদতে আমার হাতে তুলে দিয়ে তিনি পুরো প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করতে চেয়েছিলেন।

এফটিসি প্রক্রিয়া বুঝতে গিয়ে আমাকে রীতিমতো স্কুলে ফিরে যেতে হলো। কাগজপত্রে আসলে কী লেখা হয়, কমিশনারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে কেস দাঁড় করাতে হয়, কোন কোন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, এসব। আমি পুরোপুরি শিক্ষার্থী হয়ে গেলাম। এখন আমি আমার সিইওকে একদম সহজ করে বুঝিয়ে বলতে পারব, এফটিসি প্রক্রিয়াটা কী এবং কীভাবে আমরা এটা কাজে লাগাতে পারি।

আমি জানি এফটিসি কেবল আইনি ভাষাই বোঝে। কিন্তু যাঁরা কেবল এই পুরো প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ফলাফল জানতে চান, তাঁদের প্রতিটি অংশ ভেঙে ভেঙে বুঝতে হয়। অতএব আমার দীর্ঘ পেশাজীবনে জটিল সব বিষয় ঘুরেফিরে আমার কাছেই এসেছে। সবাই বলেছেন, ‘ইন্দ্রা, তুমি আমাদের সহজ করে বুঝিয়ে বলো। তুমি বলো, কীভাবে আমরা কঠিন সমস্যার মোকাবিলা করতে পারি।’ অতএব কঠিনকে সহজ করাই ছিল আমার দক্ষতা, এখনো তা-ই।

কথা বলতে জানতে হবে

সাহস আর যোগাযোগের দক্ষতা দুটোই জরুরি। যদি নেতা হতে চাও, কিন্তু ভালো করে কথা বলতে না পারো, হবে না। মানুষ মনে করে ডিজিটাল পৃথিবীতে খুদে বার্তা বা ই–মেইল পাঠানো, টুইট করতে পারাই যথেষ্ট। ভুল। তোমাকে কর্মীদের সামনে দাঁড়াতে হবে। এমন সব জায়গায় তাঁদের পাঠাতে হবে, যেখানে যাওয়ার কথা তাঁরা কখনো ভাবেনি। তোমার যোগাযোগের সক্ষমতা হতে হবে অসাধারণ। আর তোমার ভেতরে একটা দিকনির্দেশক থাকতে হবে। তোমার নীতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তুমি সাহসী হতে পারো, দারুণ বক্তা হতে পারো, হতে পারে তোমার কর্মদক্ষতা দুর্দান্ত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যদি নীতিহীন হও, কেউ তোমাকে অনুসরণ করবে না।

অতএব আমি সবাইকে এসব ধাপ মেনে চলতে বলি। তুমি যখন এসব বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখবে, সিইওর দায়িত্ব আপনাআপনিই তোমার কাছে আসবে। যথাসময়ে। ওখানে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো কোরো না। রাজনীতির খেলা খেলো না, বরং প্রতিষ্ঠানের রাজনীতি থেকে দূরে থাকো।

ইংরেজি থেকে অনুদিত

সূত্র: লিংকড=ইন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0