বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?

আমি যখন নিউইয়র্কের একাডেমি অব আমেরিকান স্টাডিজে ক্লাস নাইনে পড়ি, তখন স্কুলের একটা ছোট্ট প্রজেক্ট হিসেবে আমরা ইওয়াইবিডি শুরু করেছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তহবিল সংগ্রহ করেছি। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের একটা এতিমখানায় আমরা নতুন কাপড় আর বই পাঠিয়েছিলাম। পরে যখন বই হাতে, নতুন জামা পরা বাচ্চাদের ছবি আমাদের পাঠানো হলো, আমরা সবাই মিলে ছবিগুলো দেখলাম। দেখে ভীষণ ভালো লেগেছিল। তখনই প্রথম মাথায় আসে, ক্লাসের অল্প কয়েকজন মিলে যদি কয়েকটা বাচ্চার জীবনে একটু হলেও প্রভাব ফেলতে পারি, তার মানে নিশ্চয়ই আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ আছে। এরপর ধীরে ধীরে সংগঠনটা বড় হলো। এখন বিশ্বের আটটি দেশে আমাদের প্রায় ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক আছে। আমরা শুধু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে চাই, তা নয়। বরং বিভিন্ন দেশের তরুণদের অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের একটা প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে চাই।

default-image

এত বড় নেটওয়ার্ক কীভাবে তৈরি হলো?

২০১৮ সালে যখন শুরু করি, তখন আসলে আমাদের কার্যক্রম শুধু নিউইয়র্কভিত্তিক ছিল। আমরা বিভিন্ন স্কুলে যেতাম, সেমিনারে আমাদের প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতাম। এভাবে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি হচ্ছিল। মহামারি শুরু হওয়ার পর আমরা অনলাইনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ শুরু করলাম। দেখলাম সারা বিশ্বে আরও অনেক আগ্রহী ছেলেমেয়ে আছে, যারা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হতে চায়। এদের কারও কারও বয়স খুবই কম। ক্লাস সিক্সে পড়ে কিংবা হাইস্কুলে পড়ে। ওরাও এখন খুব আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশের কথা জানতে চায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের কলকাতা ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুদের জন্য কাজ করছে।

তোমার বেড়ে ওঠা কি যুক্তরাষ্ট্রেই?

ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় আমি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসি। এখন ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়ছি। ছোটবেলা থেকে আমার বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমি নিজেই যেহেতু ছোট মানুষ, তাই ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কী করব। এখানে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর দেখলাম নানা কিছু করার সুযোগ আছে। আসলে তখন থেকেই ভাবনাটা মাথায় ঘুরছিল।

সর্বশেষ কবে বাংলাদেশে এসেছিলে?

২০২০ সালে করোনার ঠিক আগে দেশে এসেছিলাম। তখন মাদকাসক্ত শিশুদের নিরাময় নিয়ে কাজ করেছি। ব্র্যাক, ইউসেপসহ বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার কার্যক্রম দেখতে গিয়েছি। ২ জানুয়ারি আবার দেশে আসছি। এবার বেশ কিছু স্কুল ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন