default-image

‘আমার মনে হয়েছে শুধু একাডেমিক পড়ালেখা দিয়ে শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা যাবে না, সে জন্য প্রয়োজন অনন্যসাধারণ কিছু দক্ষতা। এ বিষয়ে আমি আরও জানার চেষ্টা করেছি। সেই জায়গা থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ক্যারিয়ার ক্লাবের যাত্রা শুরু, ’ বলছিলেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শিপন মিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন জাপানের মেইজি ইউনিভার্সিটি, নটিংহাম ইউনিভার্সিটিসহ (মালয়েশিয়া ক্যাম্পাস) বিশ্বের নামী কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার তাগিদ তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। তারই ফল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ক্যারিয়ার ক্লাব।

বিজ্ঞাপন

ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা যখন কর্মমুখী শিক্ষাসহ নানা বিষয় নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা শুরু করেছেন, তখনই করোনার প্রকোপে বন্ধ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দিনকে দিন করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জমতে শুরু করে ক্লাব নিয়ে নানা পরিকল্পনা। তবে থমকে যাওয়া এ সময়টাকেই কাজে লাগিয়েছে সংগঠনটি। অনলাইনে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের কোর্স। মুঠোফোনে সে গল্প শোনাচ্ছিলেন ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সুদীপ্ত আচার্য্য। ভিক্টোরিয়া কলেজের মার্কেটিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি, ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপার হিসেবেও কাজ করছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরুতে ‘ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট কোর্স’ শুরু হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। সুদীপ্ত বলছিলেন, ‘শুরুতে আমরা একটু ভয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, শিক্ষার্থীদের সাড়া পাব কি না, কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে সাড়ে ৬০০ আবেদন জমা পড়ে। আমরা সব যাচাই–বাছাই করে ২২৬ জনকে সুযোগ দিই। শেষ অবধি প্রায় ১০০ জন সফলভাবে এই কোর্স শেষ করেছে।’

সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে জুম মিটিংয়ে ২০টি ক্লাস নিয়েছেন সুদীপ্ত। ১৫টি ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ দেখে নিজে থেকে বাড়তি সময় দিয়েছেন তিনি। তাতে কোনো আক্ষেপ নেই সুদীপ্তর। কোর্স শেষ করা কয়েকজন এরই মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করেছেন, এটাই তাঁর আনন্দ।

সুদীপ্তর কথার প্রমাণ পাওয়া গেল প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মায়মুনা জামালের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘শুরু করার পরই আমি বুঝতে পেরেছি, কোর্স শেষ করতে না পারলে কোনো লাভ নেই। এত যত্ন নিয়ে কোর্স আসলে প্রফেশনাল কেউ করায় কি না, আমার জানা নেই। স্যারদের সহযোগিতাও ছিল অনেক। সব মিলিয়ে এই নতুন অভিজ্ঞতা আমি খুব উপভোগ করেছি। এখন কাজও শুরু করেছি। কীভাবে দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, সেটাই ভাবছি।’

ক্যারিয়ার ক্লাবের আহ্বায়ক, সহযোগী অধ্যাপক শিপন মিয়া জানালেন, এ কোর্সই শেষ নয়। মান বাড়াতে আরও পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। অনলাইনের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়েই শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে আরও প্রকল্প হাতে নেবেন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে সদ্য শেষ হওয়া দক্ষ উন্নয়ন কোর্সটি আশাবাদী করছে তাঁকে। বললেন, ‘ছেলেমেয়েদের আগ্রহ দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে চাই। সরকার সারা দেশে আইটি পার্ক তৈরি করছে। কুমিল্লাতেও একটা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে পারে, সেভাবেই আমরা তাদের তৈরি করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0