default-image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। ক্যাম্পাসে ফেরা হয় না অনেকদিন হলো। কীভাবে কাটছে শিক্ষার্থীদের সময়? সেটাই ছাত্রছাত্রীরা লিখে জানাচ্ছেন ‘এ সময়ের দিনলিপি বিভাগে’। আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ইমেইলে: [email protected]। অথবা যোগাযোগ করুন স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজে

পরিবর্তন কখনো হতে পারে ইতিবাচক, আবার কখনো নেতিবাচক। সেটা একান্ত নির্ভর করে একজন মানুষ তার জীবন কীভাবে অতিবাহিত করে যাচ্ছে, কোন বিষয়টি কীভাবে তার জীবনে কাজে লাগাচ্ছে, তার ওপর। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই অনেক পরিবর্তন এসেছে, আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। অনেক কঠিন সময় পার করেছিলাম প্রথম দিকে। কিন্তু থেমে থাকিনি। তাই দীর্ঘ এক বছর হয়ে উঠেছিল আমার কাছে অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এক সময়।

২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাইনি, খুব মন খারাপ হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, বিষয়ও বেশ ভালো পেয়ে যাই। কিন্তু কেন জানি না, ঠিক মন বসাতে পারছিলাম না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। ভাবলাম ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটালে ঠিক হয়ে যাবে। অতঃপর একটি বেসরকারি স্কুলে সিভি জমা দেওয়া। শিক্ষকতা পেশার শুরু।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারির কারণে স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করি। পাশাপাশি টিউশন চলছিল। এভাবে সময় পার করতে করতে একটা সময় কঠোর লকডাউনে টিউশনগুলোও বন্ধের দিকে যাচ্ছিল। আর বাসায় কয় দিন পরপরই নতুন নতুন বিয়ের প্রস্তাব আসছিল। ভাবছিলাম, কীভাবে কী করব! পরে শহর কিছুটা স্বাভাবিক হলো। সিনিয়রদের পরামর্শে মার্কেটিং বা কনটেন্ট রাইটিংয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাই। তারপর আর থেমে থাকতে হয়নি। একে একে বিভিন্ন খণ্ডকালীন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে থাকি।

মজার বিষয় হলো কোনো ইন্টারভিউতে আমি বাদ পড়িনি। খণ্ডকালীন চাকরির জন্য যতগুলো সিভি জমা দিতাম, ইন্টারভিউ দিতাম, আল্লাহর রহমতে নির্বাচিতও হয়ে যেতাম। এভাবে এক বছরে আমার সিভিতে অভিজ্ঞতা অংশটি ভারী হতে থাকে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমি যোগাযোগের দক্ষতা তৈরির সুযোগ পেয়েছি বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে, শেখার মাধ্যমে। পাশাপাশি কম্পিউটারের প্রাথমিক বিষয়গুলোও ঝালাই করে নিয়েছি।

এভাবেই গ্রাফিক ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ তৈরি হতে থাকে। দিন শেষে যখন ঘুমাতে যেতাম, গভীর রাতে নিজেকে নিয়ে ভাবতাম। হয়তো আমার মতো অনেকে ভবঘুরে হয়ে ঘুরছে কিংবা ঘরে অলস সময় কাটাচ্ছে, কেউবা আবার জীবন নিয়ে হতাশার সাগরে ডুবছে। কিন্তু আল্লাহ এই কঠিন মহামারির সময়ে আমাকে সুস্থ রেখে অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, এ জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।

তবে হ্যাঁ, পড়ালেখা থেকে সরে যাইনি। এখনো টিউশনি করি। বই পড়া অন্যতম শখ বলে টুকটাক বই পড়ে সময় ভালোই কেটে যেত। আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১ সালের প্রথম দিকে বিভাগে ইনকোর্স পরীক্ষা হয়েছিল, তখন বন্ধুরা মিলে গ্রুপ স্টাডি করেছি, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে লেগে পড়েছে। আসলে এই বন্ধুদের দেখেও নতুন কিছু করার, নতুন কিছু শেখার অনুপ্রেরণা পাই। ওই যে বললাম না, একটা কঠিন সময় যেমনই হোক, সময়টা একজন মানুষ কীভাবে কাজে লাগাবে, তার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন ইতিবাচক, নাকি নেতিবাচক। সবশেষে বলি, আগ্রহকে পুঁজি করেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়। সেটাই করছি।

ফারিহা রহমান, স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ, পরিসংখ্যান বিভাগ, এম সি কলেজ, সিলেট

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন