default-image

এ বছর মে মাসে ধানমন্ডি থেকে আশুলিয়ায় নিজেদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। যদিও প্রকৃতির মাঝে গড়ে তোলা বিশাল খোলামেলা সেই ক্যাম্পাস এখন জনশূন্য। করোনা-আতঙ্কে ক্লাসরুম ছেড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখন শুধুই মুঠোফোন কিংবা কম্পিউটারের পর্দায়।

পুরো ক্যাম্পাসটাই যেন এখন অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। ক্লাস-পরীক্ষা সবই চলছে সেখানে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, ‘শুরুতে অনলাইনে পাঠদান নিয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তখন এই পাঠদানপ্রক্রিয়াটি শিক্ষক-ছাত্র সবার কাছেই নতুন ছিল। তবে এখন আমরা সেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে সফলভাবে অনলাইনে পাঠদান করে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

ক্লাস ও পরীক্ষার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার জন্য একাধিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা। লিখিত অ্যাসাইনমেন্টের পাশাপাশি প্রতিটি কোর্সেই শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষাও নিচ্ছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা অনুষদের ডিন তাহমিনা আহমেদ বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগে নাটকের বেশ কিছু কোর্স রয়েছে। অনলাইনেই এখন আমরা শিক্ষার্থীদের এসব নাটকে অভিনয় করিয়ে নিচ্ছি। এ ছাড়া প্রেজেন্টেশন, স্পোকেন ইংলিশ অনুশীলন—এগুলো সবই পুরোদমেই চলছে।’ এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগ থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার ব্যাপারেও নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরের জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে মাসজুড়ে নানা বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান, সেমিনার ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এখন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও সেই কার্যক্রমে একটুও ভাটা পড়েনি। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ওয়েবিনার। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এই অধিবেশনগুলোতে অংশ নিচ্ছেন দেশ-বিদেশের নামী শিক্ষক, গবেষক ও সফল ব্যক্তিরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক সাজেদ ফাতেমীর মতে, অনুষ্ঠানগুলো অনলাইন মাধ্যমে হওয়ায় সহজেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ক্যাম্পাসে এত সহজে ও কম খরচে অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করা সম্ভব হতো না।

গত মাসে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের নিয়ে গল্পলেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রাইটার্স ফোরাম। ক্লাবের সভাপতি ও আইন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানান, প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘দূরে যাওয়ার গল্প’। অর্থাৎ করোনাকালে প্রিয় কোনো কিছু থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতাবিষয়ক লেখা আহ্বান করেছিলেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের সাড়াও পেয়েছেন দারুণ।

পড়াশোনার পাশাপাশি সচল আছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাব কার্যক্রমও। ক্লাবের সদস্যরা ঘরে বসে নানা রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। গত মাসে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের নিয়ে গল্পলেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রাইটার্স ফোরাম। ক্লাবের সভাপতি ও আইন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানান, প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘দূরে যাওয়ার গল্প’। অর্থাৎ করোনাকালে প্রিয় কোনো কিছু থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতাবিষয়ক লেখা আহ্বান করেছিলেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের সাড়াও পেয়েছেন দারুণ। এখন সেরা লেখা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচিত সেরা তিনটি লেখার জন্য নগদ অর্থ পুরস্কারও রয়েছে।

নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন যথাযথভাবে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সুবিধা পান, সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্দিষ্ট কিছু অফিস চালু রাখা হয়েছে। ঘরে বসে ই-লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। ই-লাইব্রেরির কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বই ছাড়া বাইরের অন্যান্য কিছু লাইব্রেরির বইও বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে তাঁদের জন্য। অনলাইনে নিবন্ধন ও টিউশন ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রেখে টিউশন ফি ২০ শতাংশ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। টিউশন ফি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে বাড়তি কোনো জরিমানাও গুনতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0