বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অনলাইনের সুবিধাগুলো থাক

আদিবা তাবাসসুম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কথাটা করোনাকালে পরিচিতি পেয়েছে। আর আমাদের জন্য ‘স্টাডি ফ্রম হোম’। অনলাইনেই ক্লাস, ল্যাব, এমনকি একটা সেমিস্টার ফাইনালও হয়ে গেল। আগে দুই ক্লাসের মাঝের বিরতিতে সুমন ভাইয়ের স্টলে চা খেতে যেতাম সবাই, আর এখন নিজের বাসার সোফায় বসে ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে আড্ডার ঝড় তুলি। মানিয়ে নিয়েছি ঠিকই। কিন্তু ক্যাম্পাসে ফিরতে মুখিয়ে আছি। স্মৃতিতে আবছা হয়ে আসা মুখগুলো আবার ক্লাসরুমে বসে সামনাসামনি দেখতে চাই। স্যার ক্লাসে চলে এসেছেন শুনে গরম চা এক চুমুকে শেষ করে এক দৌড়ে ক্লাসের সামনে এসে বিষম খেতে খেতে অপরাধীর মতো ক্লাসে ঢোকার অনুমতি নিতে চাই। এটাই তো ছিল আমাদের স্বাভাবিক জীবন। যদি প্রশ্ন করা হয়, সেই স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে নতুন করে আর কী পরিবর্তন চাই? আমি বলব, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটা পেয়ে গেছি। আর তা হলো, প্রতিটি ক্ষেত্রই একরকম ‘ডিজিটালাইজেশন’–এর প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই পথ ধরে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় ঘটিয়েছে। এখন রেজিস্ট্রার ভবনে চক্কর না কেটে ঘরে বসেই ভর্তি ও পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজগুলো নির্ঝঞ্ঝাটে করা যাচ্ছে। আশা করি এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আরও বেগবান হবে।

default-image

পরিবর্তন যেন আমাদের শক্তি হয়ে থাকে

আশিকুন্নবী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) হলগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে ১৮ অক্টোবর, সশরীর ক্লাস শুরু হবে ২১ অক্টোবর থেকে। গত বছর ক্যাম্পাস যখন বন্ধ হলো—শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে দ্রুত অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়েছিল। এ ছাড়া দ্রুত নীতিমালা তৈরি করে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা এখনো বজায় আছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইনভিত্তিক ক্লাস-পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু রাখা, সেমিস্টারের ব্যাপ্তি কমিয়ে এনে, ক্লাসের সময় বাড়িয়ে দ্রুত পরীক্ষা শেষ করা, ফলাফল প্রকাশ করা—এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, শ্রেণিকক্ষগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের বিচরণ রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নজরদারি থাকবে বলে আশা করছি। সবার পারস্পরিক সহযোগিতায় শিক্ষাব্যবস্থার এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে নিজেদের মধ্যে যে পরিবর্তন ও নতুনত্বের জন্ম দিয়েছি আমরা, তা যেন আমাদের শক্তি হয়ে থাকে আজীবন। এই কামনাই করি।

default-image

সহপাঠীদের কাছে সহমর্মী ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি

আসেফ আজহার খান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা যেখানে পুরো জীবনযাত্রার ধারা পাল্টে দিয়েছে, সেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আসা খুব স্বাভাবিক। অনেক কিছু বদলেছে। যেমন আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে ই–মেইলের প্রচলন খুব একটা ছিল না। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি যখন আমাদের এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করল, ছাত্রছাত্রীরা ঠিকই ই–মেইলের ব্যবহারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেল। অজান্তে কিন্তু ভবিষ্যতের একটা প্রস্তুতিও হয়ে গেল। আমি চাই এই ইতিবাচকতাগুলো আমরা যেন কাজে লাগাই। একটা লম্বা সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বা পরীক্ষাও অনেক দিন পিছিয়ে পড়েছে, শিক্ষাবর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হয়ে গেছে। তাই ক্যাম্পাস খোলার পরপরই এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একটা বিকল্প পদ্ধতি ভাবতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমকে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। করোনা মহামারির এই সময়টায় অনেকেই আপনজনকে হারিয়েছে, তাই সহপাঠীদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন আরও সহমর্মী ও দায়িত্বশীল আচরণ করে। ক্লাস শুরু হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সহপাঠীদের স্বাস্থ্যসচেতনতার দিকে উদাসীনতা আমাদের আবারও ঠেলে দিতে পারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। তাই এদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি কাম্য।

default-image

সবাই যেন শিক্ষকের সমান মনোযোগ পায়

মারদিয়া আলম, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

আমাদের মেডিকেল কলেজের পড়ালেখায় প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকতে হয়। অথচ কোনো কলেজেই কাউন্সেলিংয়ের তেমন ভালো সুবিধা নেই। পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিতে দিতে বিকেলগুলো আর দেখা হয় না। অচেনা থেকে যায় জানালার ওপাশটাও। রাতের পর রাত জেগে যে হতাশার কালো রেখা পড়ে চোখের নিচে, সেটাই বা কে দেখে। যেন সব প্রশ্নের একটাই উত্তর, ‘তাহলে মেডিকেলে পড়তে এসেছ কেন?’ অথচ মনটাকে সুস্থ রাখার দিকেও তো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমি চাই আমাদের দুই শতাধিক জনের ক্লাসটা অন্তত ১০ ভাগে ভাগ হোক। যেন হতাশায় থাকা ছেলেটা বা মেয়েটা তার মনের কথা শিক্ষককে বলতে পারে, শিক্ষকও যেন সবার প্রতি সমান মনোযোগ দিতে পারেন। হলের খাবারগুলো আরও স্বাস্থ্যসম্মত হোক, পোলট্রি মুরগি আর ডিমের দিন শেষ হোক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নতুন হল দেওয়া হোক। ওয়াশরুমগুলো হোক স্বাস্থ্যসম্মত। মেডিকেলের সংখ্যা না বাড়িয়ে বাড়াতে হবে মান। একজন চিকিৎসকের মনটা যদি সুস্থ থাকে, তবেই তিনি ধৈর্য ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে পারেন।

default-image

সেশনজট কমিয়ে আনা হোক

কানিজ ফাতেমা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা খুলছে দীর্ঘ ১৮ মাস পর। যদিও ইতিমধ্যে অনেক ক্যাম্পাসের আবাসিক হল খুলে দিয়েছে এবং সশরীর পরীক্ষাও হচ্ছে। এত লম্বা সময় পর ক্যাম্পাসে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু আগের মতো পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে যেমন পরিবর্তন এসেছে ক্যাম্পাসের পরিবেশে, তেমনি পরিবর্তন এসেছে শিক্ষার্থীদের মানসিকতার। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, আবার অন্যদিকে অনেকেই এই বন্ধ কাজে লাগিয়ে নানা রকম দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে মানসিকভাবে বিপর্যয়ই ঘটেছে বেশি। পড়াশোনায় এত বড় বিরতি আগে কখনো হয়নি বলে অনেক শিক্ষার্থীই অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। তাই ক্যাম্পাস খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের সেশনজট কমিয়ে আনা হোক। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা যদি আমাদের প্রতি সহনশীল হন, শিক্ষার্থীবান্ধব হন, তাহলেই আশা করি আমরা সেশনজট কাটিয়ে দ্রুত পড়ালেখার ঘাটতি পূরণ করে ঠিক আগের গতিতেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব। শিক্ষার্থীরা ফিরে গেলেই প্রাণ ফিরে পাবে সব ক্যাম্পাস। তবে অবশ্যই আমাদের সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব রকম কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

default-image

ক্লাস খুলেই পরীক্ষা নয়

মো. মাজহারুল ইসলাম, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর

১৮ মাস পর খুলছে ক্যাম্পাস। দেশে এখনো করোনা নির্মূল হয়নি। সব শিক্ষার্থী টিকা পায়নি। এ ছাড়া করোনাকালে ছাত্রছাত্রীরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ আর মানসিক চাপে ভুগছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে ক্লাস শুরু হচ্ছে, এটাই এখন বড় পাওয়া। প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেই ক্লাস বা পরীক্ষা না নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোনো বিনোদনমূলক খেলাধুলা, বিতর্ক বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমবে, পাশাপাশি পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করবে। কারমাইকেল কলেজ প্রশাসন এ ব্যাপারে অনেক আন্তরিক। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে প্রায় সব বিভাগের ইনকোর্স ও টেস্ট পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আনন্দের। তবে আমরা সবাই কঠিন সময় অতিক্রম করছি। অনেকের মনমানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন মেনে নিয়ে সহপাঠীরা যেন একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করে, সে বিষয়ে যত্নবান হতে হবে। আবার নতুন উদ্যমে শুরু হোক শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, প্রাণ ফিরে পাক প্রিয় ক্যাম্পাস।

default-image

ক্যাম্পাস খুলতেই পড়ালেখায় ডুব দিতে চাইনি

মো. রাফাত হাসান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আমরা আমাদের ক্যাম্পাসকে বলি ‘সবুজস্বর্গ’। ঘরে আবদ্ধ সময়টাতে বসে বসে শুধু দিন গুনেছি, কবে আমাদের স্বর্গে ফিরব। মনে হচ্ছিল, বোধ হয় প্রথম বর্ষের মতোই সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। এখন ক্যাম্পাস খুলেছে। সবাই নিজের মতো করে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এত দিন বাসায় থাকার কারণে অনেকেরই মানসিক অবস্থা খানিকটা অস্থিতিশীল। তাই ফেরার পর মনটাকে শান্ত করার জন্য একটু অবসর খুব চেয়েছিলাম। প্রায় দেড় বছর একরকম বিরতির পর আসলে সেভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করাটাও সহজ নয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনটা ঠিক উল্টো। যেখানে গল্প–আড্ডায় নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মন্ত্র খোঁজার কথা, সেখানে ছুটছি এখন স্যারের লেকচার শিট আর বই–খাতা নিয়ে। মনটা স্থির করার সময় আর পেলাম কই! বন্ধুবান্ধব আর কাছের বড় ভাইবোনদের সঙ্গেও চলাফেরা অনেক বদলে গেছে। মনে হচ্ছে সবার সঙ্গে আবার নতুন করে পরিচিত হচ্ছি। কেমন যেন একরকম দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। তাই একটু ধীরগতি দরকার ছিল। ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে প্রয়োজন সতেজ প্রাণের উচ্ছ্বাস। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি আমাদের সবাইকে মানসিকভাবে একটু মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াটা অনেকাংশেই জরুরি বলে মনে করি।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন