বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনলাইন থেকে অফলাইনে

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছেন কাজী জোবায়রুল হক। প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাস থেকে দূরে, ক্লাসরুম থেকে দূরে ছিলেন। ফিরতে পেরে কতটা আনন্দিত, বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘ক্যাম্পাসে আসব বলে আগের রাতে ঘুম হয়নি। কেউ বললে বিশ্বাস করবে না, কিন্তু সত্যি। কত দিন পর ক্লাসের সবাইকে একসঙ্গে পাচ্ছি। আবার ক্লাসে সামনে থেকে শিক্ষক, বন্ধুদের অভিব্যক্তি দেখছি। অনলাইনে পড়াশোনা চললেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সব অনুষঙ্গ খুব মিস করেছি।’

ঘুরে ঘুরে কথা হলো নওশীন আহমেদ, রাব্বী কবির, নাবিলা, সামিরা আহসান, সারোয়ার জাহান, রওনক জাহানদের সঙ্গে। সবাই দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে আসতে পেরে ভীষণ খুশি। সেলফি আর দল বেঁধে ছবি তোলার দৃশ্যও চোখে পড়ল ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে।

default-image

হাতে-কলমে শেখা

বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিকস নিয়ে কাজ করছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রোবোটিকসের চর্চাটা ক্যাম্পাসে সবচেয়ে ভালোভাবে করা যায়। হার্ডওয়্যারের কাজ তো অনলাইনে আসলে সম্ভব নয়। বহুদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে আবারও কাজ করতে পারছি, ভালো লাগছে। বন্ধুদের পাশাপাশি নিজেদের বানানো রোবটগুলোর সঙ্গেও দেখা হলো বহুদিন পর।

শুধু শিক্ষার্থীরা নন, শিক্ষকেরাও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ফিরতে মুখিয়ে ছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইউআইইউতে এখন তাঁরা ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশন, প্রোজেক্ট সুপারভিশনের মতো কাজগুলোও শুরু হয়েছে পুরোদমে। তাই ব্যস্ত সময় কাটছে শিক্ষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্বাক্ষর শতাব্দ বলেন, ‘আমার ১৪ বছরের শিক্ষকজীবনে করোনার কারণে গত দেড় বছর অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা সময় গিয়েছে। অনলাইনে কিছুটা দূরত্ব ছিল আমাদের। এখন ভালো লাগছে। অনেক দিন পর শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আসছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মতো আবারও ক্লাসরুমে ফিরতে পেরে আনন্দিত।’

হাতে-কলমে পাঠদানের জন্য ইউআইইউতে আছে সার্কিট ল্যাব, মেশিন অ্যান্ড পাওয়ার সিস্টেম ল্যাব, ডিজিটাল ডিজাইন ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, মাইক্রোপ্রসেসর ল্যাব, হাইড্রোলিক্স ল্যাব, সার্ভেয়িং ল্যাব, এসএম ল্যাব, ইলেকট্রনিকস ল্যাবসহ ৩০টি বিশেষায়িত ক্লাসরুম। সব ল্যাবই দীর্ঘদিন পর আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে এক ল্যাবের সামনেই কথা হয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের শিক্ষার্থী রকিব হাসান বলেন, ‘প্রকৌশলে পড়ার কারণে ল্যাব আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে আর সব ক্লাস হলেও ল্যাবের কাজগুলো হাতে–কলমেই শিখতে হয়। এ শেখায় একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছিল। এখন আশা করি ঘাটতিটা দূর হবে।’ রকিবের সঙ্গে আরও যুক্ত হন মাশরাফি, সনি, সজীবুল ইসলাম মিয়া, তাহমিদ রায়হান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও সামিয়া বিনতে নাসের। দলগতভাবে সার্কিট, ডিসি মোটরসহ নানা বিষয় নিয়ে হাতে-কলমে কাজে ব্যস্ত সবাই।

default-image

ক্লাব কার্যক্রম শুরু

দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ক্লাস না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো অনলাইনেই সক্রিয় ছিল। আবারও ক্যাম্পাসে সরব হয়েছে সংগঠনগুলো। ক্যাম্পাসে ঢুকতেই চোখে পড়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের একটি স্টল। নতুন শিক্ষার্থীদের ভিড়ই বেশি দেখা গেল সেখানে। কালচারাল ক্লাবের সভাপতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের শিক্ষার্থী আশফিয়া আহমেদকে বেশ ব্যস্ত মনে হলো। এক ফাঁকে বললেন, ‘লাল ইটের ভবন আর সবুজে ঘেরা এ ক্যাম্পাস যে আমাদের জীবনে কত বড় স্থান নিয়ে আছে, তা গত দেড় বছরে টের পেয়েছি। আবারও যেন মুক্ত হয়ে ফিরে এসেছি এ ক্যাম্পাসে। আবারও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য তৈরি আমরা। সব ক্লাব নিয়ে সমন্বিতভাবে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে আমাদের। সামনেই ডিসেম্বর মাস, বিজয়ের মাস—এই মাস ঘিরেই এখন পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবায়েত হৃদি, ইকরার ইমতিয়াজ, হৃদয়, তিথী দত্ত, সানজিদা, আফ্রিদিসহ ক্লাবের শিক্ষার্থীরা আলোচনা করছিলেন—কীভাবে ক্যাম্পাসটা আবার রাঙানো যায়। অনেক নতুনকে সঙ্গে নিয়ে পুরোনো দিনগুলো ফিরে পেতে চান এ শিক্ষার্থীরা।

default-image

পড়ালেখায় কোনো ঘাটতি তৈরি হতে দিইনি

চৌধুরী মোফিজুর রহমান, উপাচার্য, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

প্রায় ১৯ মাস পর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু হলো। শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্ভবত আমরাই প্রথম সশরীর ক্লাস শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের পদচারণে ক্যাম্পাসের খেলার মাঠ থেকে শুরু করে করিডর এখন মুখর। আগের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। করোনা মহামারির স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছে। এ কারণে সবার মুখে আনন্দ দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে শুরু করে ক্যাফেটেরিয়া, গেমরুমসহ পুরো ক্যাম্পাস আবারও চঞ্চল হয়ে উঠেছে।

করোনার মধ্যেও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস, কর্মশালা, সেমিনার ও পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে কোনো রকম ঘাটতি তৈরি হতে দিইনি আমরা। মহামারির প্রথম থেকেই আমরা অনলাইনে ক্লাসের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যেন শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখছি আমরা। আমরা অনলাইনের মাধ্যমে আরও কার্যকর শিক্ষা কাঠামো তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। অনলাইন ও প্রযুক্তি আমাদের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, আমরা সেই সুযোগ আর সংকটকালের অভিজ্ঞতাকে দারুণভাবে কাজে লাগাতে চাই।

মনে রাখতে হবে, এখনো মহামারি শেষ হয়নি। তাই আমরা সচেতনতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছি। একদিকে যেমন ক্লাস চলছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক আয়োজন, খেলাধুলার মতো বিষয়গুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখছি। আমাদের প্রত্যাশা, পৃথিবী দ্রুত ভালো হয়ে উঠবে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন