বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা দিল ভিন্ন মাত্রা

২০২০ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলেন। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, সংস্কৃতিচর্চা করে বেড়ে ওঠা ইকরা ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ঠিক বুঝে উঠতে না উঠতেই বিশ্বব্যাপী দেখা দিল করোনা মহামারি। বন্ধ হয়ে গেল ক্যাম্পাস। বিধিনিষেধে ঘরে অলস বসে না থেকে ইকরা সময়টাকে কাজে লাগাতে চাইলেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। নিজের পছন্দের সব কবিতা আবৃত্তি করে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে দেওয়া শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে খুব একটা সাড়া পাননি। তবে দমেও যাননি। সাহস করে ফেসবুকে নিজের নামে একটি পেজ খুলে ফেলেন। ‘ইকরা-আ স্টোরিটেলার’ নামের এই পেজে আবৃত্তির পাশাপাশি জীবনঘনিষ্ঠ গল্প বা নিবন্ধ পড়া শুরু করেন। আর তাতেই পাওয়া গেল অবিশ্বাস্য সাড়া! ইকরার বলা একটি গল্প প্রায় ১৫ লাখ মানুষ শুনেছেন এখন পর্যন্ত। এমন আরও অনেক গল্প আছে, যেগুলোতে লাখো শ্রোতার ভালোবাসা পাচ্ছেন তিনি। ইকরার পেজটিতে বর্তমানে অনুসারীর সংখ্যা ৬৮ হাজার।

শিক্ষকতায় টান

আবৃত্তির বাইরে শিক্ষকতায় সবচেয়ে বেশি মন টানে, আবার মা–বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী বিসিএস দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হতে চাওয়ার ইচ্ছেটাও উঁকিঝুঁকি মারে মনে। তবে এসব নিয়ে এখনই খুব বেশি ভাবতে চান না ইকরা। নিজের পছন্দমতো কাজ করে যেতে চান সবার ভালোবাসা নিয়ে। এসবের বাইরে ছবি আঁকাআঁকিতে এখনো ঠিক ছোটবেলার মতোই টান অনুভব করেন। তাই আঁকার সরঞ্জাম সব সময় সঙ্গেই রাখেন। সেই সঙ্গে চলছে লেখালেখির চর্চাটাও।

শব্দে দিতে চান প্রাণ

আবৃত্তি যে ইকরার পরিচয় হতে পারে, এটা তিনি কখনো ভাবেননি। কিন্তু এখন হাজারো মানুষ তাঁকে চেনেন শুধুই আবৃত্তি বা গল্প বলার জন্য। এ ব্যাপারটি দারুণ উপভোগ করেন তিনি। তাই শব্দে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার কৌশল আরও মন দিয়ে শিখতে চান, যেন বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষ তন্ময় হয়ে তাঁর আবৃত্তি, তাঁর গল্প শোনেন। তবে মাঝেমধ্যেই ভয় কাজ করে ইকরার মনে। কেন? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী বললেন, ‘বুলিংয়ের কারণে অনলাইনে মেয়েদের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্মই আজকাল নিরাপদ নয়। এই ভীতিটা আমি জয় করতে চাই। আমার কণ্ঠে শ্রোতারা যেন তাঁদের জীবনকে অনুভব করেন, সেভাবেই নিজেকে গড়তে চাই।’

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন