বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সত্যি বলতে, ক্লাবগুলো আছে বলেই মনে হয় পড়া আর টিউশনের বাইরেও জীবন বলে কিছু একটা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাবজীবন শুরু হয় স্পার্টানস কমিউনিকেশন ক্লাব দিয়ে। অনলাইনে এই নানা কাজ, অনুষ্ঠান, আয়োজন মিলিয়ে এখানে একটা হুলুস্থুল লেগেই থাকে। স্থবির সময়টাতেও প্রাণ খুঁজে পাই। এরপর যোগ দিই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সংগঠন এফবিএস ড্যান্স স্কোয়াডে। সত্যি বলতে, এটা আমার বড্ড প্রশান্তির জায়গা। একদল মানুষ যার যার জীবনের সব সমস্যা, দুর্ভাবনা ঝেড়ে ফেলে নিজেদের তাগিদে কোরিওগ্রাফি করে, অনলাইনে বা সুযোগ পেলে অফলাইনেও অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এই তো কিছুদিন আগে এফবিএস ড্যান্স স্কোয়াডের সুবাদে অনেক দিন পর ক্যাম্পাস গেলাম, কিছু সিনিয়রের সঙ্গে দেখা হলো, সারা দিন মহড়া হলো, টিএসসি-মল চত্বর-ভিসি চত্বরে শুট হলো, আড্ডা হলো। সবচেয়ে বড় ব্যাপার—মনে হলো কোথাও একটা এখনো আছে আমার ক্যাম্পাসজীবন। ওই কয়েক দিনের আনন্দ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগিয়েই হয়তো আরও কয়েক মাসের বন্দিজীবন মেনে নেওয়ার শক্তি পাবে মন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ক্লাব—ন্যাকনেশনও আমার আরেক শান্তির জায়গা। কিছুদিন আগেই আমরা ঢাকায় যারা আছি, কোভিড-১৯-এর সব রকম সতর্কতা মেনে দেখা করলাম, আনন্দ-হইচই-আড্ডাও হলো অল্পবিস্তর। মনটাই ভালো হয়ে গেল। মনে হলো এই তো আমার সিনিয়র আছে, সহপাঠী আছে। কথা বলার, গাট্টা দেওয়ার মানুষ আছে। কেবল কিছুদিনের অপেক্ষা। সব ঠিক হলে এদের সঙ্গে নিশ্চয়ই দারুণ একটা সময় কাটবে।

সত্যি বলতে, এই দুঃসময়ে ক্লাবগুলো আমার খরার জীবনে একটুখানি শান্তির সুবাতাস। ক্লাবের জন্য অনেক কাছের বন্ধু পেয়েছি, ভরসা করা যায়—এমন বড় ভাইয়া-আপু পেয়েছি। অনেক কিছু শিখেছি, একটা মঞ্চ পেয়েছি নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য। এসবের জন্য আমি সত্যিই ক্লাবগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ। ঘরবন্দী জীবনে ক্লাবগুলোই আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে—আমারও একটা ক্যাম্পাস আছে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন