শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ

ঘরে থেকে সৃজনশীলতার মঞ্চে

দেশ–বিদেশে চলছে নানা প্রতিযোগিতা
দেশ–বিদেশে চলছে নানা প্রতিযোগিতাগ্রাফিকস: মনিরুল ইসলাম
বিজ্ঞাপন

লেখার শিরোনাম ছিল—এই দুঃসময়ে বেঁচে থাকার গল্প। লেখক কনক আদিত্য একজন চিত্রশিল্পী ও সংগীতশিল্পী। তাঁর সেই লেখা স্বপ্ন নিয়ে পাতায় ছাপা হয়েছিল গত ২৯ মার্চ। তখন করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয়ে গেছে দেশে। ঘরবন্দী থেকেও কীভাবে নিজের সৃজনশীলতায় শান দিয়ে একটা সুন্দর সময় কাটানো যায়, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেই পথ বাতলে দিয়েছিলেন কনক আদিত্য। তিনি বলেছিলেন একটা পারিবারিক সাহিত্য উৎসবের কথা। যেখানে বাড়ির ছোটজন হয়তো নিজ হাতে একটা ছবি এঁকে হাজির হলো, কেউ লিখল গল্প, কেউবা আবৃত্তি করে শোনাল একটা কবিতা।

নতুন স্বাভাবিক সময়ের সঙ্গে আমরা একটু একটু করে মানিয়ে নিতে শিখেছি। ঘরে আছি বলে সৃজনশীলতার চর্চা কেবল যে পরিবারের মধ্যেই করতে হবে, তা নয়। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে যাঁদের মন খারাপ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা-উৎসব যাঁরা মিস করছেন খুব, চাইলে অনলাইনে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। সরাসরি হতো এমন প্রতিযোগিতারও আয়োজন হচ্ছে অনলাইনে। ইন্টারনেটে বহু প্রতিযোগিতার খবর আপনি পাবেন। উদাহরণ হিসেবে এই প্রতিবেদনে আমরা চলমান কয়েকটি প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরছি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোকচিত্রের আলোয়

ক্যামেরার লেন্স দিয়ে যাঁরা পৃথিবী দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে একাধিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ। আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দ্য অ্যালেক্সিয়া ২০২০ ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি কম্পিটিশন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পেশাদার আলোকচিত্রী ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা দুটি বিভাগ। শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের বিভাগে চূড়ান্ত বিজয়ীকে দেওয়া হবে এক হাজার ডলার অনুদান। যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকুজ ইউনিভার্সিটিতে বিনা বেতনে এক সেমিস্টার অধ্যয়ন এবং সেমিস্টার চলাকালীন অ্যালেক্সিয়ার একজন পরিচালকের গবেষণা সহকারী হিসেবে সম্মানীসহ কাজের সুযোগও থাকছে। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন এই ওয়েবসাইটে: alexiafoundation.org।

দেশি একটি প্রতিযোগিতার খবরও জানিয়ে রাখি। ‘ভিন্ন রূপে পুরুষ’ নামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতায় গৃহস্থালি কাজে পুরুষের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরতে হবে। প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে ৫০ হাজার টাকা ও সনদ। বিস্তারিত জানা যাবে একশনএইডের ফেসবুক পেজে: fb.com/actionaidbangladesh

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুঠোফোনেই সিনেমা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের (ডিআইএমএফএফ) সপ্তম আসরের জন্য চলচ্চিত্র জমাদান চলছে। শুধু মুঠোফোনে বানানো চলচ্চিত্রই জমা দেওয়া যাবে এই উৎসবে। সিনেমা মানেই যে বিশাল বাজেট আর দামি ক্যামেরা—এমন ধারণাকে পাল্টে দিতে ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষানবিশি কার্যক্রম সিনেমাস্কোপ। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও পেশাদার নির্মাতাদের জন্য রয়েছে তিনটি আলাদা বিভাগ। প্রতিটি বিভাগের বিজয়ীদের জন্য রয়েছে অর্থ পুরস্কার, সনদ ও স্মারক। চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর। ওয়েবসাইট: www.dimff.net।

ডিআইএমএফএফের উপদেষ্টা, ইউল্যাবের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নবীন নির্মাতাদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট-বড় যেকোনো ধরনের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা কিংবা উৎসব সামনে পেলেই তাঁদের সেগুলোতে অংশগ্রহণ করা উচিত। এতে অভিজ্ঞতা বাড়ে।’

নবীন নির্মাতাদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট-বড় যেকোনো ধরনের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা কিংবা উৎসব সামনে পেলেই তাঁদের সেগুলোতে অংশগ্রহণ করা উচিত। এতে অভিজ্ঞতা বাড়ে।
মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, ইউল্যাব
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রংতুলিতে ঝড় তুলি

করোনার এই সময়ে ঘরে বসে ছবি এঁকেও যে পুরস্কার পাওয়া যায়, তার প্রমাণ ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসারা তাসনীম। সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২০–এর ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৪০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে।

আফসারা ছবি আঁকতে ভালোবাসে। তবে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য ছবি আঁকার বাইরে খুব একটা আঁকাআঁকি হতো না। করোনাকালে ঘরবন্দী থেকে থেকে একঘেয়েমি কাটাতে নিয়মিত আঁকাআঁকি শুরু করে সে। এর মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে একদিন এই প্রতিযোগিতার খবর পায়। করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ভূমিকা ও ত্যাগের বিষয়টি সে তুলে ধরেছিল ছবির মাধ্যমে। আফসারা বলে, ‘প্রথম হওয়ার পর ছবি আঁকার আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। এখন বিভিন্ন বিষয় ভেবে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ছবি আঁকার চেষ্টা করছি।’

জানিয়ে রাখি, এখন ‘পাহাড়ের রং আর্ট কনটেস্ট–২০২০’ নামে ছবি আঁকার একটা প্রতিযোগিতা চলছে। উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘মনঘর’ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো রংতুলির আঁচড়ে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্য আর সম্প্রীতির গল্প তুলে ধরা। আঁকা ছবির ছবি তুলে জমা দিতে হবে এই ঠিকানায় (shorturl.at/GIRUV)। ষষ্ঠ থেকে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা দুইটি আলাদা বিভাগে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে প্রতিটি গ্রুপের বিজয়ী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী সবার জন্য থাকবে ইউএনডিপি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সনদ। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছবি জমা দেওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছোটগল্পে বড় পুরস্কার

কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে প্রতিবছরই আয়োজিত হয় কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি কনটেস্ট। কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা ছোটগল্পের জন্য রয়েছে পাঁচ হাজার ইউরো, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার। যেকোনো বিষয়ের ওপর নিজের লেখা ছোটগল্প জমা দেওয়া যাবে প্রতিযোগিতায়। অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। আগে কোথাও প্রকাশিত হওয়া গল্প জমা দেওয়া যাবে না। আর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স ১৮। বিস্তারিত: www.commonwealthwriters.org

একের ভেতর সব

নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ছবি তোলা, ভিডিও চিত্র নির্মাণ, লেখালেখিসহ ১৬টি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে কালচারাল ক্লাসিসিস্ট নামে ফেসবুকভিত্তিক একটি সংগঠন। মজার ব্যাপার হলো, আয়োজকদের সবাই স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। আয়োজকেরা বয়সে ছোট হলেও তাদের আয়োজনের কলেবর বেশ বড়। প্রতিযোগিতাটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছে। নিবন্ধন চলবে কাল ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যেকোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগিতার মূল আয়োজক ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলল, ‘করোনা মহামারির মধ্যেই আমাদের এই সংগঠনের যাত্রা শুরু। মে মাসে আমার স্কুলের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ফেসবুকে একটি পেজ ও গ্রুপ খুলি। উদ্দেশ্য ছিল সংস্কৃতিপ্রেমী ও প্রতিভাবানদের প্রতিভা তুলে ধরার একটি কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।’ মাস চারেকের ব্যবধানে এখন তাদের এই গ্রুপে প্রায় ৫১ হাজার সদস্য রয়েছে।

চোখ রাখতে পারেন ইয়ুথ অপরচুনিটিজের ওয়েবসাইট (youthop.com) বা অ্যাপে। ইয়ুথ অপরচুনিটিজের প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন নূর বললেন, ‘যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারি। ইদানীং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেন্টরশিপের ব্যবস্থা থাকে। এতে নিজের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো জানার সুযোগ হয়। ঘরে বসেই এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। যেন এই মহামারির সময়ও বলার মতো একটি অর্জন থাকে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন