default-image

স্টার্টআপ বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা আর লেখালেখির শেষ নেই আজকাল। চাকরির সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে অনেক তরুণই এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার কিন্তু কোনো শর্টকাট পথ নেই! গ্রাহক, প্রতিযোগী, বাজার-পরিস্থিতি এবং কী কী আনুষঙ্গিক ঝুঁকি রয়েছে—এসব বোঝার জন্য প্রয়োজন বেশ ভালো ‘হোমওয়ার্ক’।

শিক্ষার্থীরা মনে করতে পারেন, লেখাপড়া শেষ না করে কি ব্যবসার পরিকল্পনা শুরু করা উচিত? বাস্তবতা হলো বিল গেটস, স্টিভ জবস, মার্ক জাকারবার্গের মতো অনেক সফল উদ্যোক্তা ছাত্রাবস্থায়ই নিজের উদ্যোগ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিলেন। আপনিও সম্ভবত আপনার প্রচেষ্টায় সফল হতে পারবেন, যদি এখনই উদ্যোগী হন।

দুর্যোগ থেকে সুযোগ

বিস্তারিত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা শুরু করা এবং অন্যান্য প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ব্যবসায় নেমে কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন, সেটা প্রথমেই ভেবে নিন। ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য আপনাকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হবে। কিন্তু ব্যবসায় সফলতার জন্য উদ্যোগের পেছনেও অনেকটা সময় ব্যয় করতে হবে। এখন করোনা মহামারিতে ক্যাম্পাস বন্ধ আছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে বেশ খানিকটা সময় আছে। আমি মনে করি, এই দুর্যোগকে সুযোগে পরিণত করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন ধারণা নিয়ে কিছু করার মোক্ষম সময় এটা। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার যাচাই, ইত্যাদি ঘরে বসেই করে ফেলা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসা শুরুর হোমওয়ার্ক

আপনার উদ্যোগটি যে সফল হবেই, এমন কোনো গ্যারান্টি কিন্তু নেই। তবে নিচের কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আপনি আপনার ব্যবসাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন বলে মনে করি।

  • একা কোনো ব্যবসা শুরু করার চেয়ে এক বা একাধিক সহযোগী নিয়ে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার হয়তো ভালো ধারণা বা আইডিয়া আছে, কিন্তু যথেষ্ট কারিগরি দক্ষতা নেই, অথবা ব্যবসা চালানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি যে ‘ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং’, সে বিষয়ে আপনার স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই সম্পূরক দক্ষতাসম্পন্ন সহযোগী নিয়ে যদি ব্যবসা শুরু করতে পারেন, তাহলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

  • আপনার পণ্য বা পরিষেবা বর্তমান বাজারের সঙ্গে কতটা খাপ খায় এবং তা ভোক্তাদের চাহিদা ও প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম কি না, সে সম্পর্কে জানা খুব জরুরি। সেই অনুযায়ী আপনার উদ্যোগটি সমন্বয় করুন। তাড়াহুড়ো করলে ভুল হতে পারে।

  • আপনার আইডিয়া নতুন হলেও মনে রাখবেন, একই রকম চিন্তা হয়তো অনেকে করেছেন বা করছেন। আপনার পণ্য বা পরিষেবার মতো আর কী কী বাজারে আছে, অর্থাৎ আপনার প্রতিযোগী কে কে আছে, এসব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা জরুরি। দরকার হলে আপনার পণ্য বা পরিষেবাকে কী করে অন্যদের চেয়ে আরও ভালো বা সহজ করা যায়, ভোক্তাদের কাছে কী করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনার একটি ইউএসপি বা ইউনিক সেলিং পয়েন্ট থাকতে হবে। না হলে প্রতিযোগিতায় টেকা মুশকিল হবে।

  • অনেকেই কোনো রকম ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই ব্যবসা শুরু করে দেন। একজন নতুন উদ্যোক্তার পক্ষে এটা হলো সবচেয়ে মারাত্মক ভুল। কোনো নতুন আইডিয়া বিচার-বিশ্লেষণ করে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছরের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে হবে। এই পরিকল্পনা করার সময় খুব বেশি আশাবাদী না হয়ে কিছুটা রক্ষণশীল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অর্থায়ন ভালো বোঝেন এমন কাউকে অথবা কোনো অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে দিয়ে পরিকল্পনাটি পরীক্ষা করিয়ে নিলে সেটা আরও পোক্ত হবে। ব্যবসা চলাকালে কিছুদিন পরপর নিয়মিতভাবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবসা পরিচালনায় কিছুটা পরিবর্তনও আনতে হতে পারে।

নতুন স্বাভাবিকে নতুন উদ্যোগ

এই ‘নতুন স্বাভাবিকতায়’ কী ধরনের ব্যবসার প্রসার ও বিস্তার বাড়তে পারে, সেই আলোচনায় আসা যাক। প্রথমেই মনে রাখবেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের জীবাণু সংক্রমণের ব্যাপারে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত করে দিয়েছে। তাই কোনো ব্যবসায় যদি ধরাছোঁয়া বা মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে, সেটি এই সময়ের জন্য বেশি উপযোগী হবে। অনলাইনে শিক্ষা বা অনুশীলন, পরামর্শ, পরিষেবা দেওয়া ইত্যাদি এখন বেশি গ্রহণযোগ্য। ‘ডেলিভারি সার্ভিস’ ইতিমধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে এই একই কারণে। এর বিস্তৃতি আরও বাড়বে। অনলাইনে অর্ডার করে ছোটখাটো কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য পরিষেবা দেওয়ার নতুন নতুন উদ্যোগ শুরু হবে। বাসা-অফিস-হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবসা আরও বেশি প্রচলিত হবে। অনলাইন ব্যবসায় যেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতার সংস্পর্শ প্রয়োজন হয় না, সেহেতু যেকোনো ধরনের অনলাইননির্ভর ‘রিমোট সার্ভিস’–এর জনপ্রিয়তা বাড়তেই থাকবে।

করোনা মহামারি আমাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে অনেক দূর ঠেলে দিয়েছে। তাই এই সম্পর্কিত নতুন প্রযুক্তি নিয়ে যাঁরা ব্যবসায় নামবেন, তাঁদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়—এমন সব উদ্যোগ গ্রাহকদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে যাঁরা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট ব্যবসা শুরু করবেন, তাঁরা ভালো করবেন। ফ্যাশন বা প্রসাধনী শিল্পে অগমেন্টেড বা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার গ্রাহকদের বেশি আকৃষ্ট করবে। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বা হলোগ্রামের সংযোজন ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলবে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের কাছে। যাঁরা নতুনভাবে উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা তাঁদের উদ্যোগে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন