বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির গবেষক বিয়াস বিনতে কামাল। টেক্সটাইল ডাই পানিতে ধ্বংস করা নিয়ে প্রায় এক বছরের গবেষণার পর নিবন্ধ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাস্টার্স পর্যায়ে গবেষণার অংশ হিসেবে আমি কাজটি করেছি। এখন গবেষণার ওপর ভিত্তি করে একটি পেপার প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। খুব দ্রুতই প্রকাশিত হবে।’ গবেষণার জন্য ২০১৮-২০১৯ সেশনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ পেয়েছিলেন বিয়াস বিনতে কামাল। আইসিডিডিআরবিতে সহকারী বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণা করছেন কামরুন নাহার। এ পর্যন্ত ১৫টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে নানা জার্নালে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল থেকে সাউথ এশিয়ান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২০১৭ সালে। তিনি বলেন, ‘খুব মনোযোগ দিয়ে গবেষণা করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু সন্ধানের চেষ্টা করতে হবে। নামীদামি জার্নালে সব লেখারই সম্পাদনা কিংবা নতুন করে লেখার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বলে ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মামুন। স্প্রিঞ্জার জার্নালে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। শতাধিক গবেষণাপত্র গবেষক মামুন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েই বেশি আগ্রহী। তাঁর বিভিন্ন গবেষণাপত্রের তিন হাজারের বেশি সাইটেশনের খোঁজ পাওয়া যায় গুগল স্কলারে। মামুন বলেন, ‘গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীদের জন্য। স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের নানা বিষয় গবেষণার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। আমাদের মতো দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে।’

যে কারণে জার্নাল প্রকাশ করা প্রয়োজন

বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও গবেষণা ও জার্নাল প্রকাশনার দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আমাদের চারপাশের অনেক স্থানীয় সমস্যার সমাধান গবেষণার মাধ্যমে বের করা সম্ভব। সেগুলো আমরা খুঁজে বের করে জার্নালে প্রকাশ করতে পারি।’

আরজু আফরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। ২০২১ সালে ‘সাউথ এশিয়া: আ মাল্টিডিসিপ্লিনারি’ জার্নালে বাংলাদেশের নিরাপদ পানির সংকট নিয়ে তাঁর নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমি আরও কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি গবেষণা শুরু করি। ছয় মাসের মতো সময় নিয়ে আমরা একটি নিবন্ধ তৈরি করেছি।’

জার্নাল চিনবেন যেভাবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ বলেন, ‘যাঁরা ভবিষ্যতে শিক্ষকতা করবেন, কিংবা কোনো গবেষণাগারে গবেষক হিসেবে যোগদান করবেন, জার্নালে তাঁদের প্রকাশনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একজন গবেষক গবেষণার ফলাফল ও প্রভাব জার্নালের মাধ্যমে সবার কাছে তুলে ধরতে পারেন। ভালো জার্নালে লেখা ছাপানোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একেক জার্নালে একেক পদ্ধতিতে ও রেফারেন্সিংয়ের ধারা অনুসারে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।’

নানা বিষয়ে নানা জার্নাল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়। যেসব জার্নালে এডিটোরিয়াল বোর্ডের মাধ্যমে লেখা প্রকাশিত ও সম্পাদিত হয় না, সেগুলো সাধারণত কিছুটা কম গুরুত্ব পায়। পিয়ার-রিভিউড জার্নালে একটি নিবন্ধ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ও সম্পাদকেরা পরীক্ষা করে আদর্শ মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করেন। জার্নালের স্কোপাস ইনডেক্স থেকে বোঝা যায়, একটি জার্নাল কতটা প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ। স্কোপাস হচ্ছে গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসিভিয়ারের অ্যাবস্ট্রাক্ট ও সাইটেশন ডেটাবেইস।

যা খেয়াল রাখতে হবে

  • নামকাওয়াস্তে জার্নালে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করবেন না। এতে গবেষক হিসেবে ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে।

  • অর্থের বিনিময়ে শুধু ছাপানোর জন্য লেখা প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণার বিভিন্ন দিক ও নিবন্ধ লেখার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

  • সব জার্নালেরই ওয়েবসাইট ও বইয়ে নিবন্ধ জমা দেওয়ার নিয়ম লেখা থাকে। একেক জার্নালের নিয়ম একেক রকম হয় বলে এদিকে খেয়াল রেখে নিবন্ধ জমা দিতে হবে।

  • রেফারেন্সিং ও লেখার ধরনের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন