বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন বেছে নেবেন

১. বিনা মূল্যে শিক্ষা

জার্মানির মোট ১৬টি স্টেটের মধ্যে বাদেন-ইয়ুর্তেমবার্গ বাদে বাকি ১৫টি স্টেটেই উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো টিউশন ফি নেই। পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কেবল আপনার কাছ থেকে প্রতি ছয় মাসে একবার সেমিস্টার ফি নেবে এবং এই ফি-ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সাধারণত ২৮০ থেকে ৩৫০ ইউরোর (২৪ থেকে ৩৪ হাজার টাকা) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যেহেতু আপনার সেমিস্টার টিকিট এই ফির আওতাভুক্ত, সুতরাং যে স্টেটে আপনি পড়াশোনা করছেন, সেখানে যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়–প্রদত্ত সেমিস্টার কার্ডই যথেষ্ট। গণপরিবহনের জন্য আলাদা করে আপনাকে টিকিট কাটতে হবে না।

২. সহজ আবেদন প্রক্রিয়া

কোনোরকম তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই এক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজের দক্ষতায় কেবল ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়েই পুরো আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। জার্মানির কোন বিশ্ববিদ্যালয়, কোন কোর্স, কোন সেশনে ভর্তির আবেদনপত্র আহ্বান করছে? এসব কোর্সে আবেদনের সময়সীমা ও যোগ্যতাই–বা কী? সব যাচাই-বাছাই করতে দেখতে পারেন এই ওয়েবসাইট

default-image

৩. সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

বর্তমানে কোভিড-১৯–এর কারণে বাংলাদেশে জার্মান এম্বাসির কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও সাধারণত জার্মানির ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া এবং ভিসা লাভের নিশ্চয়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ। ভিসার আবেদন এবং এ–সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য দেখতে হবে এই ওয়েবসাইট: dhaka.diplo.de

৪. বৃত্তির সুবিধা

জার্মানিতে টিউশন ফি না থাকার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বৃত্তি পাওয়ার হার কিছুটা কম। তবে নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে ডিএএডি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যেতে পারে। এ ছাড়াও আছে ইরাসমুস। তবে জার্মানি আসার আগে বৃত্তি না পেলেও ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টেটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মেয়াদি বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যেগুলো পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখা জরুরি।

৫. খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধা

জার্মানিতে একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতে পারেন। এভাবে নিজের এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বও নেওয়া সম্ভব। নিয়মানুযায়ী একজন শিক্ষার্থী বছরে ১২০ দিন পূর্ণ দিবস কিংবা ২৪০ দিন অর্ধদিবস কাজ করতে পারেন। এসব কাজের মধ্যে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বারে কাজসহ খাবার পরিবহনের কাজ যেমন রয়েছে; তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রজেক্টে অধ্যাপকের সঙ্গে কাজের সুযোগ আছে যথেষ্ট। একেবারে শুরু থেকেই কোনো শিক্ষার্থী যদি কথিত 'অড জব' না করে অধ্যাপকের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হন এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে যান; তাহলে এই অভিজ্ঞতা পরে চাকরির বাজারেও সেই শিক্ষার্থীকে এগিয়ে রাখবে।

৬. শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুবিধা

যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণত জার্মানিকে এগিয়ে রাখেন। কারণ, একবার স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার মানে আপনি শেনজেনভুক্ত ২৬টি দেশে ঘোরার ভিসা পেয়ে গেছেন। ইউরোপ ঘুরে দেখার এই অপূর্ব সুযোগ লুফে নেওয়ার জন্যই অনেকে জার্মানিতে পড়তে চান।

৭. পড়াশোনা শেষে চাকরি এবং স্থায়ীভাবে থাকার সুবিধা

জার্মানিতে ডিগ্রি শেষ করার পর ১৮ মাসের একটি 'জব সার্চিং ভিসা' দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী তাঁর পড়ার বিষয়সংশ্লিষ্ট চাকরি খুঁজে নিতে পারলে জব সার্চিং ভিসা ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তর করা হয়। দুই বছর চাকরির পর একজন শিক্ষার্থী পিআর বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।

কাদের জন্য অসুবিধা

জার্মানিতে থাকা কিংবা পড়ালেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ভাষা। জার্মানরা নিজেদের ভাষাকে ভীষণ ভালোবাসেন। ইংরেজি জানলেও সাধারণত কেউ অনুরোধ না করলে তাঁরা ইংরেজি বলেন না। ভাষা না জানলে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে শুরু করে পরে চাকরি—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা আছে। জার্মান সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে নিজেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে জার্মান ভাষা। সুতরাং যতই সুবিধা দেওয়া হোক না কেন, জার্মান ভাষা শিখতে না পারলে কিংবা ভাষাটা কঠিন মনে হলে উচ্চশিক্ষার জন্য এই দেশ বেছে না নেওয়াই ভালো। বাংলাদেশে বসেই জার্মান ভাষা শেখার যাবতীয় তথ্য পাবেন এই ওয়েবসাইটে। জার্মানিতে আসার আগে অন্তত 'এটু' সমমানের জার্মান শিখে আসার পরামর্শ থাকবে যে কারও জন্য। কারণ, ইংরেজি দিয়ে এখানে কেবল পড়াশোনাই করা যায়, বাকি সবকিছুর জন্য একটাই জাদুমন্ত্র—জার্মান।

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। করোনাকালে জার্মানির ভিসা পাওয়া একটু সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। তাই সম্প্রতি জার্মানির ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, এমন কারও সঙ্গে আলাপ করে নিলে সুবিধা হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব গোটিনগেন, জার্মানি

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন