default-image

জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারকে উপাচার্য হিসেবে পাওয়া নিশ্চয়ই ইউএপির জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।

অবশ্যই। ব্যক্তিগতভাবে আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি, স্যারের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। স্যার আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি পরপর দুই মেয়াদে ইউএপির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয় মেয়াদেও আমরা তাঁর বিকল্প কিছু ভাবিনি। কিন্তু শেষের দিকে স্যার বলতেন, ‘আমি আর কত চাকরি করব।’ শুনে একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমরা বলতাম, ‘স্যার আপনি শুধু বটবৃক্ষের মতো থাকেন। কাজ তো সব আমরাই করব।’

তাঁর কোন গুণ আপনাকে মুগ্ধ করত?

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা সরকারের নিয়মকানুনগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে স্যার খুবই কঠোর ছিলেন। তিনি বলতেন, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনেক কিছুর সঙ্গে আমি জড়িত। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা নিয়মও ভাঙা যাবে না।’ ঢাকার ফার্মগেটে ইউএপির যে সুদৃশ্য ক্যাম্পাস আপনারা দেখেন, স্যারের তত্ত্বাবধানেই এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। নিয়মের বাইরে এক ফুটও তিনি করতে দেননি। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে সেই ধারাবাহিকতা আমরা এখনো বজায় রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সমস্ত নিয়ম আমরা মেনে চলি। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে আমরা দুই সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান করি। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই কিন্তু এই নিয়মটা মানে না। আবার ধরুন, আমরা যেমন শিগগিরই এম ফার্ম (ফার্মেসিতে স্নাতকোত্তর) প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছি। সে জন্য ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে, আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনছি। সব প্রস্তুতি শেষ হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন পাব, তারপর আমরা ক্লাস শুরু করব। অনেকে কিন্তু ক্লাস শুরু করে পরে অনুমোদন নেয়। ইউএপি এসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সবার সহযোগিতায় আমরা ইউএপিকে দেশ–বিদেশে একটি অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

বিজ্ঞাপন
default-image

যত দূর জানি, ইউএপিতে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার নানা সুযোগ পায়। করোনাকালে এসব বিষয় আপনারা কীভাবে সামাল দিচ্ছেন?

ব্যবহারিক ক্লাস সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলো আপাতত আমরা বন্ধ রেখেছি। তবে অনলাইন ক্লাসে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। করোনাকালের শুরুতেও জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের তত্ত্বাবধানে আমরা অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি। স্যার খুবই আধুনিক মানুষ। প্রযুক্তির বিষয়গুলো খুব ভালো বুঝতেন। ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের বলেছিলেন, আমরা যেন জুমে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগ নিই। সেই অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধানেরা কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের একজন অধ্যাপক প্রায় ১২০ পৃষ্ঠার একটা ম্যানুয়াল তৈরি করেছিলেন। কীভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া যায়, সে সম্পর্কে আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ফলে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষকেরা যেন ওয়াকম (পেন ট্যাবলেট) ব্যবহার করে লিখে-এঁকে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে পারেন, সে জন্য তাঁদের সব রকম সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে আমরা যখন পরীক্ষা নিয়েছি, তখনো কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। পড়ালেখার মানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করি না।

default-image
বাংলাদেশে একমাত্র ইউএপিতেই সম্মানজনক ইউএমসেইলস বৃত্তি চালু আছে। ইউনেসকো ও সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশন সার্কভুক্ত ৮ দেশের ৮ জন শিক্ষার্থীকে এলএলএম ডিগ্রি নেওয়ার জন্য এই বৃত্তি দেয়। থাকা-খাওয়া-যাতায়াত—সমস্ত খরচই বৃত্তির আওতায় পড়ে। মালদ্বীপ ও পাকিস্তান ছাড়া সব দেশের শিক্ষার্থী আমরা পেয়েছি। শুধু যে শিক্ষার্থীরাই ভিনদেশি তা নয়। বিদেশি অনেক শিক্ষক এই প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান।

সম্প্রতি সিমাগো ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিংয়ে ইউএপি বাংলাদেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থান পেয়েছে। কোন বৈশিষ্ট্যগুলো ইউএপিকে সাহায্য করেছে বলে আপনার মনে হয়?

একটু আগে যা বলছিলাম। প্রথমত—পড়ালেখার মান। ফার্মেসি, পুরকৌশল বা প্রকৌশলের মতো বিষয়গুলোতে আমাদের যে সুনাম, সেটি কিন্তু এই মানের কারণেই। আমাদের প্রকৌশলের বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) অনুমোদন (অ্যাক্রেডিটেশন) পেয়েছে। আইন বিভাগটিও বেশ ভালো করছে। বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় আমাদের ছাত্রছাত্রীদের পাসের হার ৯৭% এর বেশি। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের ছাত্রছাত্রী আছে, কেউ সহকারী জজ হিসেবে কাজ করছে। সারা দেশ থেকে পুরকৌশলের ৩৬ জন শিক্ষার্থী বিসিএস পাস করেছে, তাদের মধ্যে আমাদেরও একজন ছাত্র আছে। আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি, বাংলাদেশে একমাত্র ইউএপিতেই সম্মানজনক ইউএমসেইলস বৃত্তি চালু আছে। ইউনেসকো ও সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশন সার্কভুক্ত ৮ দেশের ৮ জন শিক্ষার্থীকে এলএলএম ডিগ্রি নেওয়ার জন্য এই বৃত্তি দেয়। থাকা-খাওয়া-যাতায়াত—সমস্ত খরচই বৃত্তির আওতায় পড়ে। মালদ্বীপ ও পাকিস্তান ছাড়া সব দেশের শিক্ষার্থী আমরা পেয়েছি। শুধু যে শিক্ষার্থীরাই ভিনদেশি তা নয়। বিদেশি অনেক শিক্ষক এই প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের জন্যই আসলে এই বৃত্তি ইউএপিতে আনা সম্ভব হয়েছে। স্যার সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস চেয়ারপারসন ছিলেন। ২০২২ সালের আইসিপিসি ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্টের ওয়ার্ল্ড ফাইনালের আয়োজক ইউএপি। এত বড় সম্মানজনক দায়িত্ব পাওয়া জেআরসি স্যারের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন