default-image

সপ্তম শ্রেণিতে আমি চলে যাই ক্যাডেট কলেজে। তখন থেকে খাকি পোশাক হয়ে গিয়েছিল নিত্যসঙ্গী। ক্যাডেট কলেজের ওই পোশাক পরার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি যখন, তারও আগে থেকে স্বপ্ন ছিল—একদিন মেডিকেলের সাদা অ্যাপ্রোন পরব। ২০১৯ সালে সেই স্বপ্নপূরণ হয়। ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়ে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পাই। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরুটা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আমাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। শপথের দুটি অংশ আমার খুব ভালো লেগেছিল। একটি হলো, মানবকল্যাণে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ও সেরা প্রয়োগের নির্দেশনা। আর অন্যটি হলো, লোভ ত্যাগ করে পেশাদার জীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করার ব্রত।
সেই অনুষ্ঠানের পরদিন ছিল এমবিবিএসের প্রথম ক্লাস। প্রথম কয়েক দিনের ক্লাস ছিল পরিচয়পর্বের মতো। ঢাকা মেডিকেলের বড় বড় ক্লাসরুমগুলো আমার খুব পছন্দের। সপ্তাহ দুয়েক ক্লাস করার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় মানবদেহ ব্যবচ্ছেদের ব্যবহারিক ক্লাসে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা পেয়ে নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মনে হয়েছিল।
কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন বেশ কজন বন্ধু হলো। ভিনদেশি কয়েকজন বন্ধুও পেলাম। ওরা পড়তে এসেছে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও ইতালি থেকে। ক্যাডেট কলেজের জীবনটা ছিল রুটিনমাফিক। ওখানে সবকিছু ছিল হাতের কাছে। খাওয়ার সময় হলে খাবার সামনে চলে আসত। কিন্তু মেডিকেল কলেজের জীবনটা অন্য রকম। ক্লাস, পড়ার চাপে মাঝেমধ্যেই রুটিন ওলটপালট হয়ে যায়। ক্যানটিনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে খাই। সময়টা বেশ উপভোগ করছিলাম। মাসখানেক এভাবে ক্লাস করার পরই তো করোনা মহামারিতে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেল। এখন অনলাইনে ক্লাস চলছে। কিন্তু সেই বড় ক্লাসরুম, বন্ধু আর ক্যানটিনের আড্ডা ভীষণ মিস করি। খুব বেশি দিন তো ক্লাসরুমে ক্লাস করার সুযোগ হয়নি। নিশ্চয়ই আরও অনেক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।
দীর্ঘ বিরতি দিয়ে অবশেষে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যারা এ বছর পরীক্ষা দিতে যাচ্ছ, তাদের জন্যই তো এই লেখা। ভাবতে পারো, কেন শুরু থেকে আমার অভিজ্ঞতার কথা বলছি। কারণ, আমি যখন তোমাদের মতো ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম, তখন এই দিনগুলোরই স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্ন আমাকে সাহস জোগাত।

বিজ্ঞাপন

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য রাগীবের ৭ পরামর্শ

১. পুরোনো কথা আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিই। এখন আর নতুন কিছু পড়ার দরকার নেই। এত দিন যা পড়েছ, সেগুলোই বারবার ঝালিয়ে নাও।

২.পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আশা করি গত কয়েক মাসে কোনো শিক্ষকের কাছে, অনলাইনে বা নিজে নিজে অনেক মডেল টেস্ট দিয়েছ। ওই পরীক্ষাগুলোতে যা ভুল হয়েছিল, সেগুলোতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নাও। যেসব প্রশ্নের উত্তরে ভুল হয়েছে, প্রয়োজনে সেগুলো আরেকবার সমাধান করা যেতে পারে।

৩. পরীক্ষার আর বেশি দিন বাকি নেই। এখন বেশি রাত জেগে না পড়াই ভালো। বরং ধরে নাও আগামীকাল তোমার পরীক্ষা। তাই আজ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো। পরদিন ঘুম থেকে উঠে সকাল নয়টায় একটা মডেল টেস্টের সমাধান করো। পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত এই অভ্যাস ধরে রাখো। এতে পরীক্ষার দিন বাড়তি কোনো চাপ অনুভব হবে না।

৪. সম্ভব হলে পরীক্ষার কেন্দ্রটি আগে একবার গিয়ে দেখে এসো। ফলে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র খুঁজে বের করতে সমস্যা হবে না।

৫. পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। তা না হলে পরীক্ষার হলে গিয়ে ঝিমুনি আসবে। ফলে পরীক্ষার খাতায় পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে না।

৬. পরীক্ষার দিন হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় রাস্তায় বই নিয়ে পড়তে থাকে। এটা কারও কারও জন্য কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এই সময়ে মানসিকভাবে হালকা থাকা বেশ জরুরি। পথে যাওয়ার সময় মা–বাবা অথবা অভিভাবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনকে চাঙা রাখতে পারো।

৭. সর্বোপরি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। করোনার কারণে তোমার মতো সবাই বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই প্রস্তুতির দিক থেকে তুমি পিছিয়ে আছো, এমন ভাবার কারণ নেই। আত্মবিশ্বাস ধরে রেখো। এই পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাস খুব দরকার।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন