default-image

আজকের দিনে স্নাতক হওয়ার অনুভূতি নিশ্চয়ই খুব দুরূহ। প্রতিদিনই শুনছি এটা খুব অদ্ভুত সময়, নতুন আর অভূতপূর্ব মুহূর্ত। একদিকে অর্জন, অন্যদিকে বৈশ্বিক বিপর্যয়, অনিশ্চয়তা, হারানোর কষ্ট, সব মিলিয়ে তোমাদের অনুভূতি নিশ্চয়ই অদ্ভুত, বিরোধপূর্ণ। অনুমান করতে পারি, তোমাদের সবার মধ্যেই কোনো না কোনো শোক কাজ করছে। তোমরা অনেকেই হয়তো কাছের কিংবা দূরের মানুষদের জন্য কিছু করার প্রত্যয় অনুভব করছ। আমরা সবাই অবাক হয়ে ভাবছি, ছয় মাস কিংবা এক বছর পরের পৃথিবীটা কেমন হবে।

আমি যেখানে পড়াই, সেই প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে স্প্রিং সেমিস্টারের মাঝামাঝি সময় থেকে আমরা ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করেছিলাম। ক্লাসে মুখোমুখি শেষ যেদিন পড়িয়েছি, সেই দিনটা আমার মনে পড়ে। আমাদের বলা হয়েছিল, সবাই যেন একে অপরের কাছ থেকে চেয়ারগুলো দূরে সরিয়ে বসি। অনুভূতিটা আমাদের জন্য খুব অস্বাভাবিক ছিল। আকস্মিকতা, হতাশা, দুশ্চিন্তা আর সাহসের সংমিশ্রণ নিয়ে আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সবার জন্যই যে একটা নিরাপদ ঘর অপেক্ষা করছিল তা নয়। কারও কারও জন্য এই ক্যাম্পাসই আশ্রয়। অতএব শেষ ক্লাসে পড়ালেখার বদলে আমার ক্লাসে জায়গা করে নিয়েছিল নানা প্রশ্ন: তোমরা কোথায় যাচ্ছ? কেমন লাগছে? তোমাদের মাথায় কী চলছে? আমি কীভাবে তোমাদের সাহায্য করতে পারি?

বিজ্ঞাপন

আমি মনে করি, এই প্রশ্নগুলো সব সময় আমাদের মধ্যে থাকা উচিত। এমনকি এই সংকট কেটে যাওয়ার পরও। আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমরা কেমন অনুভব করছি? আমাদের মনে কী চলছে? কীভাবে আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি?

কয়েক বছর ধরে আমার ছাত্রছাত্রীদের চোখে পৃথিবীকে দেখে আমি বেশ আলোকিত, অনুপ্রাণিত হয়েছি। স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ওরা আমাকে একেবারেই নতুন ধারণা দিয়েছে। তোমাদের প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, তোমাদের মূল্যবোধ যখন আরও বেশি গুরুত্ব পাবে, সেই সময়টা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। স্বার্থ, সবকিছুতে লাভ খোঁজার মানসিকতা, ক্ষমতা ও দমনের পুরোনো ধারণা মুছে দিয়ে তোমরা আমাদের বিকল্প শেখাবে, সেই অপেক্ষায় আছি। তোমাদের প্রজন্ম আমাদের শেখাবে, দিগন্তের দিকে পা বাড়ানোর মতো নতুন অনেক লক্ষ্য তৈরি হয়েছে। আমি খুব রোমাঞ্চ নিয়ে তোমাদের কাছ থেকে শেখার অপেক্ষায় আছি।

আমরা যেহেতু একটা ভিন্ন গতির দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার চেষ্টা করছি, নিজের অনুভূতিগুলো কান পেতে শোনার একটা চর্চা গড়ে তোলার এখনই সময়। আশপাশের অনেক কণ্ঠস্বর তাদের মতামত, তাদের পণ্য, তাদের চলতি ট্রেন্ড বা বিশ্বাস তোমার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই কণ্ঠস্বরের শব্দ কমিয়ে দিয়ে বরং নিজেকে জিজ্ঞেস করো, তোমার কাছে জরুরি আর অর্থবহ কোনটা? তোমার কী ভালো লাগে? তুমি কোথায় শান্তি ও সম্ভাবনা খুঁজে পাও? কোন মূল্যবোধ তুমি ধারণ করো? প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় নির্জনতায় কাটাও, নিজের ভেতরে উঁকি দিয়ে এই প্রশ্নগুলো করো।

তোমার মনে কী চলছে? কী তোমাকে ধাঁধায় ফেলে দেয়? কিসে মন খারাপ হয়? বুকের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে ফেলতে কোন কথা তুমি ভাগাভাগি করে নিতে চাও? যত একাকীই বোধ করো না কেন, মনের ওপর দিয়ে যত ঝড়ই যাক না কেন, একটা কথা ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারো, যেটা আমার মা সব সময় বলেন: পৃথিবীতে কোনো অনুভূতিই নতুন নয়। তুমিই প্রথম বা শেষ ব্যক্তি নয়, যাকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। (সংক্ষেপিত)

ইংরেজি থেকে অনুদিত

সূত্র: নিউইয়র্ক পাবলিক রেডিও

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন