default-image

আজকের ম্যাচ থেকে তুমি কী শিখলে?

মনে রেখো, বেশি ম্যাচ খেলা মানেই অভিজ্ঞতা নয়। তুমি কী শিখলে, সেটাই অভিজ্ঞতা। ৩০টি ম্যাচ খেলেও যদি কিছু না শেখো, সেটা একই ম্যাচ ৩০ বার খেলার মতো। যারা প্রতিটা ম্যাচ থেকে শেখে, নিজেকে আরও ভালো জানে, তারাই উন্নতি করে। অনেক সময় আমরা মন খারাপ করি। আহা, ম্যাচটা হেরে গেলাম। আমি তো শূন্য রানে আউট হয়ে গেলাম। কিন্তু একই ম্যাচে অন্য কেউ হয়তো সেঞ্চুরি করেছে। অন্য একটা দল তো জিতেছে। তাঁদের কাছ থেকে তুমি কী শিখেছ? সেটাই তোমাকে সাহায্য করবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্মৃতি। তোমরা সবাই তরুণ। তোমাদের কাজ শেখার সুযোগ কাজে লাগানো, স্মৃতি তৈরি করা, বন্ধু তৈরি করা। আজ অনেক বড় বড় ক্রিকেটার আমার বন্ধু। তাঁদের সঙ্গে নানা জায়গায় দেখা হয়। কখনো কখনো আমি স্কোরগুলো ভুলে যাই। কোন ম্যাচে কত রান করেছিলাম, কতগুলো সেঞ্চুরি করেছি...মনে পড়ে না। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো সতেজ। একসঙ্গে কাটানো সময়, একসঙ্গে খেলা ম্যাচ, সেসব কিন্তু ভুলিনি। সুতরাং সুন্দর স্মৃতি তৈরির পেছনেও একটু সময় দাও।

অনূর্ধ্ব–১৯ বা এ দলের তরুণদের কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সেই ছেলেরাই ভালো করে, যাদের একটা আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব আছে। তোমরা সবাই নিশ্চয়ই প্রতিদিন অনুশীলন করছ, কঠোর পরিশ্রম করছ, এসব নতুন করে বলার কিছু নেই। আমি নিশ্চিত তোমরা খেলাটাকে ভালোবাসো, সুতরাং এই চর্চা তোমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু জীবনে ও খেলায় সফল হতে হলে ক্রিকেটের বাইরে আরও কিছু চর্চা প্রয়োজন। তোমার ব্যক্তিত্বও তোমাকে বুঝতে হবে। কোন পরিস্থিতিতে তুমি দ্বিধায় পড়ে যাও, কী করলে নিজের ওপর তোমার নিয়ন্ত্রণ থাকে, এসব তোমাকে জানতে হবে। শুধু ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও তোমাকে ক্রমাগত পরিণত হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তোমার বয়সী আরেকজনের তুলনায় তুমি হয়তো ভালো খেলো। কারণ, অনুশীলনে তুমি বেশি সময় দিয়েছ। হয়তো তোমার বাবা তোমাকে পাঁচ বছর বয়স থেকে খেলা শিখিয়েছেন, হয়তো তুমি খুব ভালো একজন কোচ পেয়েছিলে। কিন্তু একটা সময় গিয়ে এসব আর কাজে আসবে না। অন্যের সঙ্গে তোমার পার্থক্য কমে আসবে। ১৫ বছর বয়সে সফলতা পেয়েছ মানেই কিন্তু ১৯-এও তুমি সফল হবে, তা নয়। ১৯-এ সফল হলে তুমি ২৩-এও সফল হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তুমি কতখানি চাপ নিতে পারো, সেই সক্ষমতাই অন্যের সঙ্গে তোমার পার্থক্য গড়ে দেবে। যত ওপরে উঠবে, খেলাটা হয়ে উঠবে ততটাই মানসিক।

কীভাবে তুমি ব্যর্থতা বা সফলতাকে সামাল দাও, কতখানি ধৈর্য ধরতে পারো, এসব বিষয়ে এখন থেকেই গুরুত্ব দাও। হয়তো খুব প্রবল নয়, সামান্য মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছ, সেটাই বা তুমি কীভাবে মোকাবিলা করলে? তোমার মাথায় কী চলছিল? আমরা যেভাবে কাভার ড্রাইভ করা শিখি, সেভাবে চাপ সামাল দেওয়াও শিখতে হবে। তোমার মন কীভাবে কাজ করে, সেটা যদি এখন থেকেই বুঝতে শুরু করো, তাহলে সামনের দিনগুলোয় আরও ভালো করতে পারবে। এটাই অন্যদের সঙ্গে তোমার পার্থক্য গড়ে দেবে।

বিরাট কোহলির খেলার দক্ষতা হয়তো অন্য আরও অনেকের মতোই। কিন্তু মানসিক জোরের দিক থেকে তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা। খেলাটা তিনি বাকিদের চেয়ে ভালো বোঝেন। আর খেলা বোঝার চর্চা শুরু হয়ে যায় খুব অল্প বয়স থেকে। বোলিং, ব্যাটিং তোমাকে কেউ না কেউ শেখাবে। কিন্তু তোমার মাথায় কী চলছে, সেটা তোমাকে কেউ শেখাতে পারবে না। কারণ, এটা আর কেউ জানে না। না তোমার কোচ, না তোমার মা-বাবা। এটা কেবল তুমিই শিখতে পারবে। অতএব এখন থেকেই মনকেও প্রশিক্ষণ দাও। তোমাদের জন্য অনেক শুভকামনা।

(ইংরেজি থেকে অনুদিত)

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন