বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্কুল-কলেজ খুলে দিচ্ছে। সত্যি বলতে, কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার অনুভূতি কিছুটা মিশ্র। এত দিন যে সময়সূচিতে জীবন যাপন করেছি, তা থেকে এখন বের হতে হবে। বহু দিন বাসায় বসে থাকতে থাকতে এখন রাত জাগার এক রকম অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন থেকে যে আবার সকালে উঠতে হবে, এটা ভাবতেই মনের একটা অংশ যেন তীব্র বিদ্রোহ শুরু করে দিচ্ছে!

এ ছাড়া কদিন পরই বোর্ড পরীক্ষা। এটা জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার একটি। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে, যে চাপ কলেজ শুরু হলে আরও তীব্রভাবে অনুভব করব।

তবে খারাপের চেয়ে ভালোই অবশ্য বেশি। অনেকেই বলেন, পুরো কলেজজীবন উপভোগ করতে পারিনি বলে আমরা অনেক দুর্ভাগা একটি ব্যাচ। সত্যিই বলেন। আমরা কলেজে ক্লাস পেয়েছি মাত্র সাত-আট মাসের মতো। তাতেই বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের সঙ্গে এত দারুণ সময় কাটিয়েছি যে সারা জীবন মনে থাকবে। ক্লাস তো আছেই। আমার কলেজ সেন্ট যোসেফ থেকে প্রথম বর্ষে ছাত্রদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভ্রমণ নিঃসন্দেহে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতার একটি।

আফসোস যে এই অদ্ভুত সুন্দর সময়টা খুব একটা দীর্ঘায়িত হয়নি। কলেজ খুলে দেওয়ার এটাই সবচেয়ে দারুণ বিষয়। এবার এ আফসোস কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করি। বহু দিন পর প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, আড্ডা হবে। এইচএসসির আগে নির্ভার থাকতে যেটা সাহায্য করবে বলেই মনে হচ্ছে।

তবে এবার বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়টাতে কিছুটা হলেও খাদ মিশে থাকবে। কারণ, স্বাস্থ্যবিধির দেয়াল আছে। আড্ডার সময়ে মাস্ক পড়ে থাকা এবং বহু দিন পর দেখা হলেও জড়িয়ে ধরতে না পারার এই কঠোর বেড়াজাল ঠিক কেমন লাগবে, তা বুঝতে পারছি না। কলেজে যাব কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি-ফুচকা খেতে পারব না, এটা মেনে নেওয়াই তো কষ্ট! তবু যেভাবেই হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে। নতুন এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা এক বড় চ্যালেঞ্জ।

পড়ালেখার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে আর অনলাইন ক্লাস করতে হবে না। বহু দিন ধরে অনলাইন ক্লাস করে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠেছি। নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা তো আছেই। অনলাইন ক্লাসে টানা মনোযোগ ধরে রাখাও খুব কঠিন। এখন এই সমস্যাগুলো আর থাকছে না।

সবচেয়ে বড় কথা, বহু দিন পর মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাব। আপাতত এটাই এখন সবচেয়ে বড় পাওয়া।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন