বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে আমার কাছে খুবই খারাপ লাগত, বাড়ি থেকে এত দূর এলাম। পরিচিত কেউ নেই। কাউকে চিনি না, সবাইকে দেখি যাঁর যাঁর মতো ব্যস্ত। সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে, কারও হাতে একটুও সময় নেই অন্য কারও জন্য। এভাবেই চলতে থাকল, ক্লাস শুরু হয়ে গেল এরই মধ্যে। ক্লাস, পরীক্ষা, খাওয়া-দাওয়ার সময় বাদে নিজেকে খুবই একা লাগত, বারবার মনে হতো বাড়িতে চলে যাই। তারপর পরিচয় হলো রিপন, মুকুল, জেমি ও তুষারের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তাদেরও একই অনুভূতি হচ্ছে। এটা ভেবে সান্ত্বনা পেলাম—আমার মতো একই অনুভূতির কাউকে খুঁজে পেলাম। তারপর নিজেদের মধে৵ আলোচনা করলাম, কীভাবে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা যায়। এক বন্ধু পরামর্শ দিল, চলো কোথাও গিয়ে ঘুরে আসি ক্লাস শেষে। সবাই মোটামুটি একমত, হ্যাঁ চলো ঘুরতে যাই।

সেদিন আমরা স্থানীয় একটি দর্শনীয় জায়গায় ঘুরতে যাই। যাওয়া–আসা, খাওয়াদাওয়া এবং দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার কারণে আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায়। নিজেদের আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলাম, ভালোভাবে চিনতে শুরু করলাম। পরে শুরু হলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া, খাওয়াদাওয়া ও ঘোরাফেরা। আমাদের সঙ্গে আরও যোগ দিল রিয়া ও পলাশ। সব মিলিয়ে আমরা সাতজন। আমাদের মধে৵ কারও কোনো ভালো খবরে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। ঠিক একইভাবে আমাদের কষ্টগুলোও সবাই নিজেদের মধে৵ শেয়ার করে নিই। একেকজন দেশের একেক জায়গা থেকে এসেছে, নিজেদের মধে৵ সাংস্কৃতিক বিনিময় ছাড়াও পড়াশোনা হয় সমানতালে। একজন হয়তো গণিতে ভালো, অন্যজন থিওরিতে, কিন্তু সাতজন মিলেই আমরা সবকিছুতেই ভালো। আড্ডা জমে উঠলে একজন গেয়ে ওঠে ক্ল্যাসিকাল গান, কেউ–বা আবৃত্তি করে কবিতা। এভাবেই চলছে এই সাতজনের ক্যাম্পাস–জীবন। অনেক চড়াই–উতরাইয়ের মধ্য দিয়েই এই বন্ধুত্বের বয়স আজ তিন বছরে পা দিতে যাচ্ছে। অথচ এক সময় আমরা কতটা দূরে ছিলাম, কতটা অপরিচিত ছিলাম! আজ আমরা একে অন্যের কতটা কাছের, কতটা ভালোবাসার। এরই নাম বন্ধুত্ব। বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব, বেঁচে থাকুক ভালোবাসায়।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন