default-image

‘অটো পাস’ নিয়ে নানা কথা শুনতে হচ্ছে

ইয়ানুর সুলতানা, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ

এইচএসসিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে আমি পেয়েছি জিপিএ-৫। ফল প্রত্যাশিত হলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। কারণ, নিজের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পেলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আমি কতটা প্রস্তুত, সেটাও জানা হলো না। তার ওপর অটো পাস নিয়ে মানুষের নানা কথাবার্তা তো আছেই। যেখানে আমাদের সাহস দেওয়া উচিত, সেখানে অনেকেই মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের ওপর তো আমাদের হাত নেই। এটি বৈশ্বিক মহামারি। সব মিলিয়ে এ রকমভাবে পাস করায় একধরনের মানসিক অশান্তিতে ভুগছি। তারপরও এগিয়ে যেতে হবে। ছোটবেলা থেকেই আমার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার ইচ্ছা; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে। কিন্তু তার আগে আমি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সুযোগটা নিতে চাই।

default-image

এই ফল নিয়েই এগোতে হবে

মোহাম্মদ আকাশ, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

এসএসসিতে আমার ফল আশানুরূপ হয়নি। তাই উচ্চমাধ্যমিকের শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ দিই। কিন্তু আমার পরিশ্রম কাজে এল না। করোনা মহামারির দাপটে অটো পাসে আমার ফল প্রত্যাশিত হয়নি। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে এই ফল নিয়েই আমাকে পরের ধাপে অগ্রসর হতে হবে। এই ফল নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে পারব কি না, তা নিয়ে সংশয় তো আছেই, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারব কি না, তা-ও জানি না। এখন ভেবে আফসোস হয়, হয়তো এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারলে ব্যাপারটা অন্য রকম হতো। অন্যদিকে পরিবারের যা আর্থিক অবস্থা, তাতে কোনো ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সামর্থ্যও আমার নেই। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে এক অজানা গন্তব্যের দিকে পা বাড়াচ্ছি।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষা যেন দীর্ঘ না হয়

আইভি আক্তার, নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ

আমি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসির মূল্যায়নে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এর আগে এসএসসি পরীক্ষার ফল ১ নম্বরের জন্য জিপিএ-৫ আসেনি। তখন থেকেই এইচএসসির জন্য জোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। করোনাভাইরাসের কারণে অটো পাস দেবে শুনে শুরুতে চিন্তায় পড়েছিলাম, এসএসসির মতো এবারও জিপিএ-৫ হাতছাড়া হবে কি না ভেবে। শেষ পর্যন্ত আমার পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটেছে। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সে স্বপ্ন নতুন করে দেখতে শুরু করেছি। প্রস্তুতি নিচ্ছি। এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি হবে না, ফল কবে দেবে—এসব নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষা এত দীর্ঘ হবে না।

default-image

পরিবারের সবাই আমাকে নিয়ে চিন্তিত

আবদুল্লাহ আল মারুফ, ঢাকা সিটি কলেজ

এসএসসিতে আমার বিভাগ ছিল বিজ্ঞান। পরে এইচএসসিতে বিভাগ পরিবর্তন করে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে আসি। করোনার কারণে যখন পরীক্ষা পেছাচ্ছিল, আমি সময়টা কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকি। ভেবেছিলাম, দেরিতে হলেও পরীক্ষার মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েছি। অটো পাস হওয়ার কারণে আমার ফল আশানুরূপ হয়নি। এদিকে ফল প্রকাশের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার সঠিক দিকনির্দেশনাও পাচ্ছি না। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারব কি না বা কোথায় ভর্তি হব, কিছুই বুঝতে পারছি না। পরিবারের সবাই আমাকে নিয়ে চিন্তিত।

default-image

সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছি না

মোজাহিদা মোশাররাত, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর

কলেজে ভর্তি হয়েই আমি খুব পরিশ্রম শুরু করেছিলাম। শেষ অবধি প্রস্তুতিও ভালো ছিল। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় এবার যে অটো পাস দেওয়া হলো, তাতে আমার পরিশ্রম বিফলে গেছে। ফল মনের মতো হয়নি। প্রথমে বেশ ভেঙে পড়েছিলাম। এরপরে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে নিজেকে প্রস্তুত করার প্রস্তুতি শুরু করলাম, করোনাকালে সে ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা ঠিকঠাক পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে এখন বেশ হতাশায় পড়ে গেছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ পাব বলে মনে হচ্ছে না। মা-বাবা আমাকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা ভাবছেন। কিন্তু এমনটা তো আমার পরিকল্পনায় ছিল না।

default-image

একটা অনিশ্চিত সময়ের শেষ তো হলো

মো. মেহেরাজ হাসান, যশোর সরকারি সিটি কলেজ

এইচএসসির মূল্যায়নে আমার ফল জিপিএ-৫ এসেছে। শুরু থেকে প্রস্তুতি ভালোই ছিল। পরীক্ষা নিলে ফল হয়তো আরও ভালো হতে পারত। তবে আমি খুশি, একটা অনিশ্চিত সময়ের শেষ তো হলো। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি। আমার প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর জীববিজ্ঞান আমার স্বপ্নের বিষয়। এমনিতেই আমাদের ফল এল অনেক দেরিতে। এখন শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার অপেক্ষা। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছি। আশা করছি করোনার এ মহামারি দ্রুত থেমে যাবে। আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু করতে পারব।

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন