default-image

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনে এবার ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বর, কাঁঠালতলা, ভাস্কর্য চত্বর, শহীদ মিনার, রফিক ভবন—রং ছড়ায়নি কোথাও। ক্যাম্পাসের প্রাণ তো আমরাই। আমরা যেভাবে উৎসবটা মিস করলাম, হয়তো ক্যাম্পাসও আমাদের মিস করছে’, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর ইসলামের কথায় আফসোস টের পাওয়া গেল।

২০ অক্টোবর কাগজে-কলমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ বছর পূর্ণ হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস প্রায় দেড় শ বছরের। ১৮৬৮ সালে ‘জগন্নাথ স্কুল’ হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রয়াত জগন্নাথ রায় চৌধুরী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। জগন্নাথ রায় চৌধুরীর ছেলে কিশোরী লাল রায় চৌধুরী ১৮৮৪ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে কলেজে উন্নীত করেন। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই প্রতিষ্ঠান। তখন থেকে দিনটি ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে একরকম অনাড়ম্বরভাবেই পালিত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন। শিক্ষার্থীরা আশায় আছেন, এ বছর নাহয় না-ই হলো, আগামী বছর আবার সবার দেখা হবে তো!

বিজ্ঞাপন

প্রতিবছর সাবেক শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন প্রিয় ক্যাম্পাসে, স্মৃতি রোমন্থন করতে। এবার আসা হয়নি কারও। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন হয় এই দিনে। এরপর ছিল ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আলোচনা সভা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ ছাড়া জনসংযোগ দপ্তর সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন অনলাইনে উৎসব উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছিল। তবে ছিল না প্রতিবছরের মতো শোভাযাত্রা, কনসার্ট, মিলনমেলা...।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চোখে পড়ল শিক্ষার্থীদের আক্ষেপ মেশানো উদ্‌যাপন। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুভকামনা জানিয়ে অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন আগের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের স্মৃতিগুলো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি সোহাগ বাবু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে এই দিনটির জন্য বিশেষভাবে অপেক্ষা করতাম। আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকত, কী রঙের টি-শার্ট বানাব, নকশা কী হবে। ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া বড় ভাই-বোন, নতুন আসা শিক্ষার্থী, সবার একসঙ্গে দেখা হওয়ার একটা সুযোগ হতো।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মাহাদী সেকেন্দার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব সময় দিবসটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ থাকে। আশা করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উদ্‌যাপনে ফিরে আসবে চিরায়ত রূপ।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের আওতায় ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও ক্লাস চলছে অনলাইনে। বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার এবং শিক্ষক প্রায় ৭০০ জন। কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় সম্প্রসারণ করে নির্মাণ হচ্ছে নতুন ক্যাম্পাস। নতুন ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন হয়তো আরও রঙিন, উৎসবমুখর হবে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0