বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমরা অভিযোগ করি, বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা মুঠোফোনে আসক্ত, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা কি পেরেছি তাদের যথেষ্ট সুযোগ করে দিতে বা সঠিক নির্দেশনা দিতে? অনেকেই হয়তো ভাবছেন, ব্যায়াম করার জন্য জিমে যেতে হবে, ভারী ওজন তুলতে হবে। মুঠোফোন বা কম্পিউটারের জন্য বরাদ্দ কিছু সময়ও কিন্তু ফিটনেসের জন্য কাজে লাগানো যায়। আশপাশে পার্ক বা মাঠ না থাকলে ঘরে বসেই ব্যায়াম করতে পারেন। কয়েকজন বন্ধু মিলে অথবা ইউটিউবের ভিডিও বা অ্যাপের মাধ্যমে শরীরের যত্ন নিতে পারেন। সপ্তাহে ৪-৫ দিন ১৫ মিনিট সময় দিলেই ফল পাবেন।

আমাদের এলাকায় খেলার মাঠগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, যারা খেলাধুলা করে, তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮–এর কম। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ক্যারিয়ার সব মিলিয়ে শারীরিক ফিটনেসের ব্যাপারটা একরকম হারিয়েই যায়। যেন এরপর শরীরের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য একটাই, প্রতিষ্ঠিত হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই একজন ছাত্র নিজেকে চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন এবং সেই পরিকল্পনায় শারীরিক ফিটনেস জায়গা পায় না। উনিশ বছর বয়সেই একজন তরুণ বুড়িয়ে যাচ্ছেন। যেখানে তাঁদের চিন্তায় ব্যাট-বল-খেলার স্কোর থাকার কথা, সেই জায়গাটা জুড়ে আছে বায়োডাটা, চাকরির বিজ্ঞপ্তি আর শার্ট-টাই! যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথাই বলি, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির সুযোগ আছে। শুধু দেশেই নয়, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সময় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি আবেদনকারীর সহশিক্ষা কার্যক্রমও বিবেচনায় নেওয়া হয়। হাইস্কুল নিয়ে হলিউডের সিনেমাগুলোতে আমরা দেখি স্কুলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছেলেটা স্কুলের সেরা ক্রীড়াবিদ। আমাদের গল্প–সিনেমায় কিন্তু এমন চরিত্রের চিত্রায়ণ দেখা যায় না এবং সুযোগও নেই, কারণ আমাদের দেশে পড়ালেখা আর খেলাধুলা মোটামুটি মুখোমুখি বৈরী অবস্থানে।

আমরা ধারণা তৈরি করে নিয়েছি, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর আর খেলাধুলার প্রয়োজন নেই। শরীরের প্রতি নজর না দিলেও চলবে, ৪০ পেরোলে আবার নজর দেওয়া যাবে। অথচ গবেষণা বলছে, যেসব কর্মী শারীরিকভাবে ফিট, কর্মক্ষেত্রে তাঁরা বেশি সফল। কারণ, যিনি শারীরিকভাবেভাবে ফিট তিনি মানসিকভাবেও ফিট। নিয়মিত ব্যায়াম কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাড়তি চাপ সামলানো, পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদি আপনি পেশার প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই ফিট থাকার চেষ্টা করবেন।

আমাদের সমাজে মেয়েদের খেলাধুলার বিষয়টি ঐচ্ছিক বিষয়ের গুরুত্বও পায় না। ছেলেদের কিছুটা হলেও উৎসাহ দেওয়া হয় খেলাধুলা বা শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে। অথচ একজন ছাত্রী একজন ছাত্রের সমানই শারীরিক পরিশ্রম করেন। ছেলেদের মতো তাদেরও শরীরের যত্ন নেওয়া ও ব্যায়াম করা জরুরি। মেয়েরা ঘরে বসেই দড়িলাফ, অ্যারোবিকস, যোগব্যায়াম করতে পারে। আমাদের সমাজে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়। ব্যায়াম ও খেলাধুলা তাকে আত্মবিশ্বাসী করবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।

অনেকে ভাবেন, বয়স তো পড়ে আছে। আগে ক্যারিয়ার গড়ে নিই, তারপর শরীরের যত্ন নেব। ক্ষতিটা হয়ে যায় এখানেই। তখন অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সতেজ রাখা যে কতখানি জরুরি, করোনা মহামারি নিশ্চয়ই সেটা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। অতএব পড়াশোনায় ভালো ফল, ভালো চাকরি কিংবা জীবনে সাফল্য—লক্ষ্য যা-ই হোক, সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই।

খেলোয়াড় হওয়ার জন্যই খেলাধুলা করতে হবে—এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমাদের সবার ধারণা, যিনি পেশাদার খেলোয়াড় হবেন, শুধু তিনিই খেলবেন। খেলাধুলার লক্ষ্য যেন একটাই। ঘুরেফিরে সেই পেশা বা জীবিকাকেন্দ্রিক ভাবনা। পেশাদার খেলোয়াড় না হলেও আপনার ফিটনেসের প্রয়োজন আছে। সাকিব আল হাসান যখন বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাবেন, আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না উল্লাস করতে গিয়ে পেশিতে টান খেয়ে আপনার জয়ের আনন্দ মাটি হোক!

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন