default-image

প্রায় এক বছর হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। স্বল্প পরিসরে সবকিছু খুললেও আজও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলেনি। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মূল্য বুঝতে পেরেই খুব সাবধানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

অনেক শিক্ষার্থী হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন—ভাবছেন, সবকিছু খুলছে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় কেন? অনেকে বলছেন সেশনজটের কথা। কেউ বলছেন বয়স বেড়ে যাচ্ছে, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, ক্যারিয়ারের কী হবে...ইত্যাদি। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেই পড়ার চাপ বেড়ে যাবে, পরীক্ষা দিতে হবে, সে ভাবনায় অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আমার মনে হয়, আমাদের আরও ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন। আমাদের ও আমাদের আশপাশের মানুষকে ভালো রাখার জন্যই তো এত প্রচেষ্টা। অনেক অভিভাবককে বিরক্তি নিয়ে বলতে শুনি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়ের পড়ালেখা গোল্লায় যাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা কি ভাবছেন না, এই সতর্কতাটুকুর কারণেই হয়তো এই অভিভাবক ও তাঁদের সন্তানেরা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন! বড়দের বোঝাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছেলেমেয়েরা সামাজিক দূরত্ব বুঝবে না, ঠিকমতো মাস্ক পরবে না—এটাই স্বাভাবিক। একবার করোনার ভয়াবহতা বেড়ে গেলে তখন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেই ভালো হতো’—এ কথা চিৎকার করে বলেও কোনো লাভ হবে না।

আর যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তাঁরা তো প্রায় ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের কারও মধ্যে করোনা হলে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ যানবাহন ও নিজস্ব জেলাতেও করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারত।

অনেক শিক্ষার্থী তাঁদের পড়াশোনার কথা ভেবে আবার শহরে ফিরে গেছেন। মেসে ও রুম ভাড়া করে থাকছেন। কারণ, তাঁরা পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু তাঁরা বর্তমান নিয়ে ভাবছেন না। পড়াশোনা তো নিজস্ব ব্যাপার। শহরে বা বাসায় হোক, পড়াশোনা তো নিজেকেই করতে হবে। পড়াশোনা শুধু শহরেই হয়, তা তো নয়।

সরকার, দায়িত্বে থাকা মানুষ শত ব্যবস্থা নিলেও লাভ নেই, যদি না আমরা সচেতন হই। এরই মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। করোনায় মৃত্যুর হারও কমে এসেছে। প্রায় এক বছর যখন আমরা ধৈর্য ধরতে পেরেছি, আর কয়টা দিন কি অপেক্ষা করতে পারি না?

প্রিয় পাঠক, স্বপ্ন নিয়ের এ সময়ের দিনলিপি বিভাগে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও। ইমেইল: Swapno@prothomalo.com

অথবা লেখা পাঠাতে পারেন স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজে

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন