বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যে খেলাগুলোতে ভর্তি হওয়া যাবে

বর্তমানে বিকেএসপির ভর্তি কার্যক্রম চলছে। প্রতিবছর সাধারণত ১৯টি খেলায় ভর্তির সুযোগ থাকলেও এবার যোগ হয়েছে ব্যাডমিন্টন ও ভারোত্তোলন। বাকি খেলাগুলো হলো ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, আর্চারি, সাঁতার ও ডাইভিং, কারাতে, বক্সিং, জুডো, কাবাডি, উশু, জিমন্যাস্টিকস, বাস্কেটবল, টেনিস, হকি, স্কোয়াশ, ভলিবল, তায়কোয়ান্দো, শুটিং ও টেবিল টেনিস।

ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র

১৪ জানুয়ারি রংপুর বিভাগ দিয়ে শুরু হবে দেশব্যাপী বাছাই প্রক্রিয়া। বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দিনাজপুরে নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে থাকছে নিজ নিজ বিভাগের নির্বাচনী পরীক্ষার ব্যবস্থা। ঢাকা বিভাগের ভর্তি–ইচ্ছুদের জন্য আছে ঢাকার প্রধান কেন্দ্র। রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে যেহেতু বিকেএসপির শাখা নেই, এ দুটি অঞ্চলের ভর্তি পরীক্ষা হবে যথাক্রমে রাজশাহী জেলার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম ও ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে।

ভর্তি ফরম অনলাইনে পূরণ করতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ের দিন প্রশিক্ষণার্থীদের অনলাইনে পূরণ করা রেজিস্ট্রেশন ফরমের প্রিন্ট কপি ও পরীক্ষা ফি বাবদ ২০০ টাকা পরীক্ষা কেন্দ্রে জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা নিবন্ধনের মাধ্যমে একাধিক খেলার ওপর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। বাছাই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানা যাবে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে: www.bksp.gov.bd/

বিভাগকেন্দ্রিক সূচি: রংপুর (১৪-১৫ জানুয়ারি), রাজশাহী (১৭-১৮ জানুয়ারি), চট্টগ্রাম (২৩-২৪ জানুয়ারি), সিলেট (২৬-২৭ জানুয়ারি), বরিশাল (১-২ ফেব্রুয়ারি), খুলনা (৪-৫ ফেব্রুয়ারি), ময়মনসিংহ (৭ ফেব্রুয়ারি), ঢাকা (৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি)। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

ভর্তির নিয়মকানুন

১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। জনপ্রিয় খেলার মধ্যে ক্রিকেটে ষষ্ঠ ও সপ্তম, ফুটবলে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ আছে। তবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ মেধাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের জন্য বয়স, শ্রেণি ও উচ্চতা শিথিলযোগ্য।

প্রাথমিক বাছাইয়ে সাধারণত স্বাস্থ্য ও বয়স দেখা হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে দেখা হয় শারীরিক সক্ষমতা। তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীকে মাঠে পাঠানো হয়। সেখানে আবেদন অনুযায়ী নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণদের পরবর্তী সময় সাত দিনের বাছাই ক্যাম্পে ডাকা হয়। সপ্তাহব্যাপী অনুশীলনের পর শেষের দিন নেওয়া হয় লিখিত পরীক্ষা। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় মাঠের খেলা ৭০, লিখিত পরীক্ষায় (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ২০ ও ক্রীড়াবিজ্ঞানে ১০।

default-image
‘দেশের জন্য ভালো খেলোয়াড় তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেরা প্রতিভা তুলে আনার জন্য এবার আমরা ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময় বাড়িয়েছি। দেশের আনাচকানাচ থেকে সেরা প্রতিভাটা খুঁজে আনতে চাই। ভর্তি-ইচ্ছুক ছেলেমেয়েদের বলব, স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা কর। দেশের ক্রীড়া প্রতিভাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের খেলোয়াড় হিসেবে সুন্দর জীবন গড়ার সুযোগ আছে বিকেএসপিতে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাজহারুল হক, মহাপরিচালক, বিকেএসপি

স্বাস্থ্য পরীক্ষা (প্রথম ধাপ)

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ওপরেই নির্ভর করছে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার যোগ্যতা। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকেরা আবেদনকারীর বয়স, উচ্চতা, ওজন ইত্যাদিসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘ইয়েস কার্ড’ পেলেই আবেদনকারী খেলার মাঠে গিয়ে শারীরিক সক্ষমতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

শারীরিক সক্ষমতা (দ্বিতীয় ধাপ)

এই ধাপে সাধারণত স্পিড (গতি), স্ট্রেংথ (শক্তি), অ্যান্ডুরেন্স (দম), অ্যাজিলিটি (ক্ষিপ্রতা), ব্যালান্স (ভারসাম্য) ও ফ্লেক্সিবিলিটি (নমনীয়তা) পরীক্ষা করা হয়।

ব্যবহারিক পরীক্ষা (তৃতীয় ধাপ)

সাত দিনব্যাপী চূড়ান্ত লড়াইয়ে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীদের খেলা অনুযায়ী নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। যেমন ক্রিকেটে ভর্তি-ইচ্ছুকদের জন্য ব্যাটিং-বোলিং ড্রিল ও ফুটবলারদের জন্য স্কিল-গেম। প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য এই তিনটি ধাপই অনুষ্ঠিত হয় এক দিনে। এখান থেকে বাছাই করা ব্যক্তিদের নেওয়া হয় সাত দিনব্যাপী বাছাই পরীক্ষায়।

সাত দিনের বাছাইপর্ব

সপ্তাহব্যাপী বাছাইপর্বের ধাপটি পুরোপুরি আবাসিকভাবে পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের বিকেএসপির নিজস্ব হোস্টেলে রেখে আয়োজন করা হয় চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষা। সপ্তাহব্যাপী সকাল-বিকেল অনুশীলনে যাচাই করা হয় মেধা ও দক্ষতা। লক্ষ করা হয় আবেদনকারীর আচার-আচরণ। শেষের দিনে আগের ক্লাসের সিলেবাস অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ কেউ যদি সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়, ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে তার জন্য প্রশ্ন তৈরি হবে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন