default-image

সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। জেএসসি আর এসএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকার পর কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তে একটু স্বস্তি পেয়েছে, আবার অনেক শিক্ষার্থীর মন খারাপ—তাদের হয়তো এসএসসি বা জেএসসির ফল ভালো ছিল না, কিংবা হয়তো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি ছিল। এ রকম হলে মন খারাপ হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু যা কিছু আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করব কেন? বরং সামনে তাকানোই তো বুদ্ধিমানের কাজ। উচ্চমাধ্যমিকের পর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়াটিকে আমরা বলি ‘ভর্তিযুদ্ধ’। এবারের যুদ্ধটা একেবারেই আলাদা। তিনটি কারণে। প্রথমত, আমরা জানি না ভর্তি পরীক্ষা আদৌ কবে হবে। দ্বিতীয়ত, কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তির যোগ্যতার মাপকাঠি কী হবে, সেটাও আমাদের অজানা। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা আমরা জানি না।

প্রতিবছরের মতো এবারও কি এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তির যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কি গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে? ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নই–বা কেমন হবে? এসব কোনোটাই আমরা জানি না। কিন্তু যা জানি তা হলো, আমাদের হাতে সময় আছে। ফেব্রুয়ারি মাসের আগে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হচ্ছে না। সে হিসেবে চার মাসের বেশি সময় আমরা প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগাতে পারি।

বিজ্ঞাপন
default-image

এখন প্রশ্ন হলো, প্রস্তুতি কীভাবে নেব।

১. এইচএসসির ফল কেমন হতে পারে, সেই হিসাবটা করে ফেলো। আগের বছরের মতোই এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা নির্ধারিত হবে, সেটা ধরে নিয়েই হিসাব করে দেখো, কোথায় কোথায় তুমি পরীক্ষা দিতে পারবে।

২. যে সুযোগগুলো তোমার জন্য খোলা আছে, সেসবের মধ্য থেকে কোনটাকে তুমি অগ্রাধিকার দিতে চাও, সেটা নির্ধারণ করো।

৩. বড় ভাই বা বোন, যাঁরা বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলো। জানার চেষ্টা করো, কোথায় কেমন পড়ালেখা হচ্ছে, কোন জায়গাটা তোমার জন্য মানানসই।

৪. আগের বছরের প্রশ্নগুলো দিয়েই বারবার মডেল টেস্ট দিতে থাকো। তুমি যদি তোমার সক্ষমতা না জানো, তাহলে সেই অনুযায়ী পরিকল্পনাও ঠিক করতে পারবে না।

৫. চতুর্থ ধাপে এসে তুমি তোমার শক্তি বা দুর্বলতার জায়গাগুলো জেনে যাবে। অতএব সব শেষ ধাপে এসে এবার তুমি একদম নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করতে পারো।

কোনো আফসোস নয়

অনেককেই দেখলাম, আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে আফসোস করছে। ভাবছে, কেন আমরাই এই বিপদে পড়লাম! ভেবে দেখো, তোমার প্রতিযোগিতা কিন্তু তোমার আগের ব্যাচের সঙ্গে নয়, তোমার ব্যাচের অন্যদের সঙ্গে। তুমি যে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছ, একই অনিশ্চয়তায় অন্য সবাই আছে—যারা তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। একটা ফুটবল ম্যাচের কথাই ধরো। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সমস্যা দুই দলেরই হয়। তুমি বলতে পারো, ‘আমাদের ম্যাচটা ভালো হলো না।’ কিন্তু মনে রেখো, একই সমস্যার মধ্য দিয়ে তোমার প্রতিদ্বন্দ্বীও গেছে। শুধু তুমি বা সে নয়, গোটা পৃথিবীই তো এই করোনা মহামারির দুর্যোগের মুখোমুখি।

এটা ঠিক যে জেএসসি ও এসএসসি থেকে নির্ধারিত এইচএসসির ফল যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়, তাহলে অনেকে সমস্যায় পড়ে যাবে। নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এটি যেন না করা হয়। শুধু ভর্তি পরীক্ষাই যেন হয় যোগ্যতার মাপকাঠি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সামনের দিনগুলোতে কী হতে যাচ্ছে, আমরা জানি না। কিন্তু সবাই মিলে ভাবলে নিশ্চয়ই একটা উপায় পাওয়া যাবে।

তবে তোমরা, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছ, তারা আপাতত অত সব ভাবতে যেয়ো না। তোমার চিন্তা হবে একটাই—পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, তুমি যেন তোমার সেরাটা দিতে পারো।

লেখক: টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0