বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্যাগল ডেজ মূলত ডেটা সায়েন্টিস্টদের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যারা নিয়মিত ডেটা সায়েন্স–সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ডেটা সায়েন্টিস্টদের উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষার্থী ছাড়াও এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। প্রোগ্রামিং করে নির্ধারিত একটি লক্ষ্য অর্জন করতে হয় এই প্রতিযোগিতায়। প্রথম পর্বের লক্ষ্য ছিল—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করা, যা যোগাসনরত কোনো মানুষের ছবি দেখেই যোগাসনের ধরন নির্ণয় করতে সক্ষম হবে। মোট ১২টি প্রতিযোগিতার সমন্বয়ে একটি ক্যাগল ডেজ গঠিত। এই ১২ প্রতিযোগিতা থেকে ৩টি করে বিজয়ী দল নিয়ে স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত আসর।

আরটিএক্স নামের এ দল অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করছে। এবার প্রতিযোগিতার সাংহাই পর্বে (১ম পর্বে) অংশগ্রহণ করে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন তাঁরা। দলের সদস্য বিস্ময় পাল বলছিলেন, ‘এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সবচেয়ে মৌলিক দিক ছিল—কতটা কম সময়ে একটি সমস্যার সমাধান করা যায়। এ ধরনের অন্যান্য প্রতিযোগিতায় সাধারণত ৩-৪ মাস সময় দেওয়া হয়, তবে আমাদের দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪ ঘণ্টা। তাই প্রোগ্রামিং করার পাশাপাশি অল্প সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

গত মে মাসে বুয়েটের এই দল এইচপি, ইন্টেল ও ক্যাগল আয়োজিত কোভিড-১৯ ডিটেকশন চ্যালেঞ্জ নামের আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন দেশের মোট ১৩০৫টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ‘আরটিএক্স ৪০৯০’। শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী দল পুরস্কারের জন্যও নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এমন কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করা, যা রোগীর এক্স–রের ছবি দেখে কোভিড-১৯–এর উপস্থিতি শনাক্ত করাতে সক্ষম হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পেশাদার কম্পিউটার গবেষক এবং ডেটা সায়েন্টিস্ট।

প্রায় তিন মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি এত লম্বা সময় প্রতিযোগিতায় থাকা বেশ কঠিন। এ বিষয়ে নাজিবুল হক সরকার বলছিলেন, ‘প্রায় তিন মাসব্যাপী আমাদের কাজ করতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত ক্লাস, পরীক্ষার পাশাপাশি এত দিন সময় দিয়ে আমরা যে একটা ফলাফল পেয়েছি, এই ব্যাপারটা অনেক আনন্দ দেয়। কোভিড নিয়ে আমাদের কাজটি ভবিষ্যতের গবেষণায় কাজে লাগলে সেটার অংশ হতে পারাটাও আমাদের জন্য আনন্দের।’

দলের আরেকজন সদস্য মো. আওসাফুর রহমান বললেন মিশ্র অনুভূতির কথা। তবে দুটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভালো করেও তিনি ততটা খুশি নন। কেন? আওসাফুর বলছিলেন, ‘এ ধরনের প্রতিযোগিতাগুলো সাধারণ কোনো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা নয়। শিক্ষার্থী ছাড়াও এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেশাদার ডেটা সায়েন্টিস্টরা অংশগ্রহণ করেন। শুধু তা–ই নয়, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকেই এসব অভিজ্ঞ প্রতিযোগীকে সরবরাহ করা হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জিপিইউসহ অন্যান্য সুবিধা, যা আমরা কখনোই পাই না। কম সুযোগ নিয়েই আমাদের অংশগ্রহণ করতে হয়। ওদের তুলনায় সময় ও শ্রম বেশি দিতে হয়। ওরা যেসব কাজ কয়েক ঘণ্টায় করে, আমাদের কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিনও লেগে যায়। ফলে ভালো করার সম্ভাবনা কমে যায়। গবেষণার জন্য আমাদের যদি আরও ফান্ডিং দেওয়া হতো, যদি বড় কোনো ল্যাব থাকত, তাহলে আরও অনেক ভালো কিছু করতে পারতাম৷ এগুলো নিয়ে মাঝেমধ্যে আক্ষেপ হয়। তবে জয়ের আনন্দ এসব আক্ষেপকে ম্লান করে দেয়।’

আরটিএক্স দলকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেনের বার্সেলোনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন