default-image

করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেল, অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতো আমিও বাড়ি চলে এসেছিলাম। শুরুতে বুঝতে পারিনি যে এ ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করবে। একসময় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকল, সঙ্গে দেশের অনেক এলাকা লকডাউনের আওতায় পড়ে গেল। যেহেতু অনেক প্রতিষ্ঠান তখন বন্ধ ছিল, তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে কারও কারও আয়ের উৎস গেল থমকে।

আমি তখন খেয়াল করলাম, গরিব মানুষ অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারলেও সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্তরা। তাঁরা আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারছিলেন না। এদিকে এ দুঃসময়ে নতুন করে চাকরি বা ব্যবসা শুরুরও পথ পাচ্ছিলেন না। তখন আমি ও আমার তিন বন্ধু মিলে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করলাম—কীভাবে তাঁদের সাহায্য করা যায়।

বিজ্ঞাপন

ভেবেচিন্তে একটা বুদ্ধি মাথায় এল। কারও কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আমরা একটা ব্যবসা শুরু করতে পারি। সেই ব্যবসার মুনাফা থেকে মানুষকে সাহায্য করার পথ তৈরি হবে। বলছি করোনা মহামারির শুরুর দিকের কথা। তখন সবকিছু বন্ধ ছিল বলে অনেকেই ঘরে বসে পণ্য কেনার পথ খুঁজছিল। তাই আমরা স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য বাইসাইকেলে হোম ডেলিভারি দেওয়া শুরু করি।

কাজটা যে সহজ না, সেটা শুরু করার পরপরই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু একটা বিপদে পড়া পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দের কাছে রোদ-বৃষ্টির ঝক্কি কিছুই না। তখন ঈদের মৌসুম, এই সুযোগে আমরা সুগন্ধি ও মিসওয়াক বিক্রি করতে থাকি। পরে আরও অনেক পণ্য নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এ কার্যক্রমকে অনেকেই সমর্থন করেন, পরে আরও অনেক বন্ধু আমাদের সঙ্গে যুক্তও হন। এভাবেই আমাদের উপার্জন করা প্রথম আয় দিয়ে ঈদের সময় বেশ কিছু পরিবারের হাতে ঈদের বাজার তুলে দিতে পেরেছিলাম।

পরেও কয়েকবার আমরা একইভাবে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করতে চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ প্রায় এক বছর হতে চলল। এ দুঃসময়েও আমি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতাটা পেয়েছি। এ অভিজ্ঞতা আমাকে যেমন ব্যবসার হাতেখড়ি দিয়েছে, তেমনি শিখিয়েছে—শুধু ইচ্ছা থাকলেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

প্রিয় পাঠক, স্বপ্ন নিয়ের এ সময়ের দিনলিপি বিভাগে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও। ইমেইল: Swapno@prothomalo.com

অথবা লেখা পাঠাতে পারেন স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজে

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন