পরামর্শ

ব্যাংকে চাকরি যদি হয় লক্ষ্য

বিজ্ঞাপন
default-image

নিজের একটা অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করি। শেখার আগ্রহ কিংবা প্রবণতার পুরস্কার আপনি কীভাবে পেতে পারেন, এই ঘটনা সেটা বুঝতে সাহায্য করবে। করপোরেট জগতে পা রাখার পর প্রথম বছরেই আমাকে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে মানবসম্পদ-সংক্রান্ত তিনটি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। আমার চাকরির নিশ্চয়তা নির্ভর করছিল এই প্রকল্পের ওপর। মাথা নেড়ে সম্মতি জানানোর আগেও আমি আসলে জানতাম না, কাজটার ব্যাপ্তি কত বড়। তিন মাস পর দেখা গেল, আমি মাত্র দুটি প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ শেষ করতে পেরেছি। ধরেই নিয়েছিলাম, আমার চাকরিটা টিকবে না। অন্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার জন্য আমি সিভি হালনাগাদ করতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে কদিন পরই আমার হাতে চাকরি নিশ্চিতকরণের চিঠি তুলে দেওয়া হলো। সত্যি বলতে, সে সময় আমার শেখার আগ্রহ, সময়মতো কাজটা জমা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা, পুরো ব্যবসা পরিচালন পদ্ধতিটা বোঝার ইচ্ছা—এসবই গুরুত্ব পেয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ঘটনা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল। বুঝলাম, যদি পেশা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই, কঠোর পরিশ্রম, আগ্রহ আর শেখার প্রবল ইচ্ছার কোনো বিকল্প নেই। সফলতার কোনো নির্দিষ্ট ‘রেসিপি’ নেই। তবু আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দিতে চেষ্টা করছি।

১. সাধারণত ব্যাংকে চাকরির জন্য স্নাতক ডিগ্রি আবশ্যক। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে ব্যাংকেই পেশা গড়তে চান, আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবসা বা ব্যাংকিং–সংক্রান্ত পড়ালেখায় জোর দেওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে ফিন্যান্স বা অর্থনীতি হতে পারে আপনার মূল বিষয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) থেকে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (এমবিএম) করতে পারেন। পেশাগত সনদ আপনাকে এগিয়ে রাখবে। যেমন বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি কোর্স আছে। অনলাইন বা অফলাইনে এসব কোর্স থেকে শিখতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চান কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই এর পেছনে সময় দেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, গ্রেড বা সিজিপিএ নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পেশার ক্ষেত্রে সফলতার জন্য তার চেয়েও জরুরি হলো আচরণগত দক্ষতা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২. প্রতিটি চাকরির জন্য নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা, অভিজ্ঞতা কিংবা জ্ঞানসম্পন্ন লোক খোঁজা হয়। নবীন-তরুণ কর্মীদের মধ্যে সাধারণত আচরণগত দক্ষতা, যেমন যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস, শেখার আগ্রহ, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা, কথা বলার দক্ষতা, বিশ্লেষণের দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা—এসবই গুরুত্ব পায়। আপনার ইতিবাচক মনোভাব, পরিশ্রম, কাজই আপনাকে এগিয়ে নেবে।

৩. শুরু করুন শেষ মাথায় রেখে! সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন, তার একটা চিত্র মনের মধ্যে তৈরি করে নিন। তাই বলে নির্ধারিত গন্তব্যেই যে পৌঁছাতে হবে, এমন নয়। যদি চলার পথে পরিস্থিতি বদলে যায়, তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে চলার সক্ষমতাও যেন আপনার থাকে। চলতে চলতে কখনো আরও ভালো কিংবা দ্রুত উন্নতি করার মতো কোনো সুযোগ আপনার সামনে এলে হাতছাড়া করবেন না। আমি এমন অনেককে দেখেছি, যাঁরা কেবল ভালো বেতনের জন্য একটা দারুণ কাজের জায়গা ছেড়ে গেছেন। অথচ চাকরির শুরুর দিকে টাকার তুলনায় শেখার মূল্য অনেক বড়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
শেখার মানসিকতা তৈরি করুন। প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন ‘সমাধানদাতা’ হয়ে উঠুন। সমস্যা নয়, বরং সমাধান তুলে ধরার মানসিকতা গড়ে তুলুন। সাহস করে নিজের ভাবনাটা প্রকাশ করতে কখনো দ্বিধা করবেন না।
নিশাত আনোয়ার, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান, সিটি ব্যাংক

৪. একজন পরামর্শক বা মেন্টর থাকা ভালো। আশপাশে তাকান, এমন একজনকে খুঁজুন, যাঁর সঙ্গে আপনার মেলে বা আপনি যাঁর মতো হতে চান। পেশা জীবনের প্রথম কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া শেখার সুযোগগুলোর দিকে লক্ষ রাখুন, যা আপনাকে আপনার মেন্টরের মতো কিংবা তার চেয়ে ভালো কিছু করতে সাহায্য করবে।

৫. শেখার মানসিকতা তৈরি করুন। প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন ‘সমাধানদাতা’ হয়ে উঠুন। সমস্যা নয়, বরং সমাধান তুলে ধরার মানসিকতা গড়ে তুলুন। সাহস করে নিজের ভাবনাটা প্রকাশ করতে কখনো দ্বিধা করবেন না।

৬. সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর জোর দিন। করপোরেট দুনিয়ায় দ্বিতীয়বার সুযোগের ‘সুযোগ’ নেই বললেই চলে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৭. পড়ুন এবং পড়ুন—পৃথিবীজুড়ে এবং আপনার আশপাশে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে অবগত থাকুন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করুন। ইন্টারনেটের শক্তিকে কাজে লাগান। দেশ-বিদেশের খবর পড়ুন, নিবন্ধ পড়ুন, সফল মানুষদের বক্তৃতা শুনুন, আলোচনা শুনুন, সম্ভব হলে অনলাইন বা অফলাইনে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিন। বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সংগঠন, সংস্থা বা দল আছে, এসবের সদস্য হলেও অনেক কিছু জানতে পারবেন।

৮. শ্রদ্ধা করতে শিখুন। কাজ বা পদবি যা-ই হোক, সহকর্মীকে শ্রদ্ধা করার চর্চা করুন, তিনি পদের দিক থেকে আপনার ছোট-বড় বা সমপর্যায়ের, যা-ই হোন না কেন। সেই ব্যবহারই অন্যের সঙ্গে করুন, যেমনটা আপনি অন্যের কাছে আশা করেন। নিজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা বজায় রাখুন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন