default-image

‘প্রথম বর্ষে যখন পড়ি, তখন রোগীদের সঙ্গে আমাদের খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। আমরা মূলত থিওরির ওপর জোর দিতাম। ক্লাবে এলে ভালো লাগত; কারণ, আমরা রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। তাঁদের সাহায্য করতে পারতাম। এভাবেই ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া, ’ বলছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মেডিসিন ক্লাবের সোশ্যাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি ফেরদৌসী জাহান। ফেরদৌসী যোগ করলেন, ‘এখন চতুর্থ বর্ষে পড়ি। নিয়মিতই রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। তবে এই চর্চা আমাদের প্রথম বর্ষেই হয়েছিল মেডিসিন ক্লাবের সুবাদে।’

বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় যেসব শিক্ষার্থী পড়েন, তাঁদের অনেকের গল্পই হয়তো ফেরদৌসীর সঙ্গে মিলে যাবে। ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে, তা আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। দেশের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২৫টি মেডিকেল কলেজে কাজ করে যাচ্ছে মেডিসিন ক্লাব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে ৪০ বছর পূর্ণ করল এই সংগঠন।

বিজ্ঞাপন

বছরজুড়েই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মেডিসিন ক্লাব নিয়োজিত থাকে সাধারণ মানুষের সেবায়। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা, হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও স্বল্পমূল্যে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা প্রদান তাঁদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের রক্ত সরবরাহের কাজে এই সংগঠনের একটি আলাদা দল কাজ করে সব সময়। প্রয়োজনে রক্তের খোঁজ করে কেউ যেন ফিরে না যায়, তাই সারা বছরই চলে রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রম। এ ছাড়া গরিব রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ, প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ—এসব কর্মকাণ্ডও নিয়মিতই করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মেডিসিন ক্লাব।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও মেডিসিন ক্লাবের কার্যক্রমে ভাটা পড়েনি। শুরু থেকেই সংগঠনটি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্লাজমা সংগ্রহ করতে কাজ করেছে। মেডিসিন ক্লাবের সদস্যরা জানালেন, করোনায় আতঙ্কগ্রস্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মুঠোফোনে চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

ভালো কাজই এই শিক্ষার্থীদের ভালো চিকিৎসক হয়ে উঠতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ক্লাব রুমের লাইব্রেরিতে চলে তুমুল আড্ডা আর দেশ-বিদেশের খবরাখবর নিয়ে আলোচনা; সঙ্গে বই পড়া। সংগঠনের সদস্যরা বলছিলেন, চমৎকার একটা লাইব্রেরি আছে তাঁদের। সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট বই ছাড়াও জায়গা করে নিয়েছে নানা গবেষণামূলক বই, গল্প-উপন্যাস।

তবে করোনার এই বন্দী সময়ে আড্ডা থেমে আছে অনেকটাই। অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিবছর নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতেও বড় ভূমিকা পালন করে মেডিসিন ক্লাব। এ বছর সেই সুযোগ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ক্লাবের সভাপতি নিপুণ কুমার সরকার বলছিলেন, ‘করোনার কারণে নতুন ব্যাচ ভর্তি হয়নি। প্রত্যেক নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস নিই আমরা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হন। সবই থেমে আছে। তবে আমরা সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করেছি। আশা করছি দ্রুত স্বাভাবিক সময়ের দেখা মিলবে।’

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন