default-image

‘করোনায় নানা সংকটের মধ্যে ছিলাম। এর মধ্যেই আহ্বানের “টিউশন সার্ভিস”-এর খোঁজ পেয়ে সিভি দিই। অল্প দিনের মধ্যে দুটি টিউশন পেয়ে গেছি। বিনা মূল্যে কেউ টিউশন পেতে এভাবে সাহায্য করে, জানা ছিল না।’ বিপদের সময় টিউশন পেয়ে এভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের (এম এম কলেজ) ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রহিমা ইসলাম।

যশোরের এম এম কলেজের সংগঠন ‘আহ্বান’ টিউশন দেওয়ার এ কর্মসূচি নিয়েছে সম্প্রতি। বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর সিভি যাচাই-বাছাই করে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। বেশ সাড়াও মিলছে অভিভাবকদের তরফ থেকে। অভিভাবকদের চাওয়া অনুযায়ী টিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে আহ্বান।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আহ্বান আগেও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের যেকোনো সংকটে ত্রাতার ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করেছে। এই করোনাকালেও প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থীকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দিয়েছে আহ্বান। সহায়তা কর্মকাণ্ড শুধু কলেজেই থেমে নেই। কদিন আগে জেলার শার্শা উপজেলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমরান

বিজ্ঞাপন

খানের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছিলেন আহ্বানের সদস্যরা। আর সবই চলছে সংগঠনের দেড় শ সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাঁদার টাকায়।

টিউশন খুঁজে দেওয়া, আর্থিক সহায়তা ছাড়াও নানা কার্যক্রম আছে আহ্বানের। মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে সংগঠনটি আয়োজন করছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর ১৯-২১ ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বইমেলা। শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে নিয়মিত বিরতিতে আয়োজন করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’ নামে একটি অনুষ্ঠান, যেখানে রণাঙ্গনের যোদ্ধারা এ প্রজন্মের তরুণদের তাঁদের গল্প শোনান। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠনটি হাতে নেয় নানা কর্মসূচি।

মফস্বলের কলেজে এমন গঠনমূলক কার্যক্রম দেখে একটু অবাকই হয়েছিলেন কলেজটির ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শাহ্জাহান কবির। বলছিলেন, ‘আমি ২০১৩ সালে কলেজে যোগ দিই। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রের সদস্য ছিলাম। ২০১৪ সালে আহ্বান প্রতিষ্ঠার পর তাদের বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চা, জনসেবামূলক কর্মসূচি দেখে অবাক হয়েছি। মফস্বল শহরে থেকেও যে কলেজকেন্দ্রিক বইমেলার আয়োজন করা যায়, তা আহ্বান দেখিয়েছে।’

গঠনমূলক নানামুখী এই কার্যক্রমের স্বপ্ন দেখেছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খানজাহান আলী। তাঁর হাত ধরেই আহ্বানের যাত্রা শুরু। এখন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত তিনি। বলছিলেন ‘প্রায়ই কোনো না কোনো শিক্ষার্থী নানা সমস্যা নিয়ে ফোন করেন। কারও টিউশন দরকার, কিংবা কেউ আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানান। আমি এবং আহ্বানের সদস্যরা সব সময়ই চেষ্টা করি কিছু একটা করার। তাঁরা যখন ফোন করে খোঁজ নেন, কৃতজ্ঞতা জানান...তাঁদের মুখের হাসিই আসলে বড় পাওয়া।’

খানজাহান আলীরা অবশ্য আরও বেশি তৃপ্তি পান যখন শিক্ষার্থীরা তাঁদের বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নেন, কিংবা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে ভিড় জমান। এসব নিয়েই আগামীর পরিকল্পনা তাঁদের। ‘এখনকার অনেক শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জানে না। বই পড়ে না। কলেজে ভর্তি হয়ে নেশা কিংবা খারাপ সঙ্গে মিশে যায়। তাদের ফেরাতে না পারলে আমাদের আগামীর সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। এসব শিক্ষার্থীর মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে আহ্বান কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকার কর্মসূচিও থাকবে আমাদের’, বলছিলেন খানজাহান আলী।

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন