default-image

লেখক-অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক বক্তৃতায় তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি খেয়াল করেছেন, ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগের ও পরের শিক্ষার্থীদের মনঃসংযোগে বিশাল ফারাক আছে। আগের তুলনায় এখনকার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে কম মনোযোগী। কারণ কী? ইন্টারনেট। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ফেসবুক; পলকে পলকে যেখানে নতুন তথ্য, নতুন ছবি ভেসে বেড়ায়। কোনো কিছুতেই মনোযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই। ভার্চ্যুয়াল এই অভ্যাস বাস্তবেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিইউ টুডে-তে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের একটি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল। ১৫ মিনিট সামনে ফোন রেখে বসে থাকতে হবে, কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সামনে ফোন রেখে সব শিক্ষার্থীই এমন উসখুস করতে থাকলেন যেন কোনো ভয়ানক নেশাদ্রব্যের অভাব বোধ করছেন! ব্যাপারটি আসলে নেশার মতোই হয়ে গেছে।
করোনাকালে আমাদের অনলাইন নির্ভরতা বেড়েছে আরও। আগে শিক্ষকেরা ক্লাসে মোবাইল বের করলে রেগে যেতেন। এখন তো ক্লাসই মোবাইলের ভেতর ঢুকে পড়েছে!
প্রশ্ন হলো, মনোযোগ বাড়ানোর উপায় কী?

করোনাকালে আমাদের অনলাইন নির্ভরতা বেড়েছে আরও। আগে শিক্ষকেরা ক্লাসে মোবাইল বের করলে রেগে যেতেন। এখন তো ক্লাসই মোবাইলের ভেতর ঢুকে পড়েছে!
প্রশ্ন হলো, মনোযোগ বাড়ানোর উপায় কী?
বিজ্ঞাপন

মনোযোগ বাড়াতে হলে

মনোযোগ বাড়ানোর এই পরামর্শগুলো দেওয়া হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা ও গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য ঘেঁটে:

  • একসঙ্গে একাধিক কাজ নয়: গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের সময় ফেসবুক, ই–মেইল বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার বন্ধ রাখুন। আমাদের মস্তিষ্ক একসঙ্গে একাধিক কাজ করার জন্য তৈরি হয়নি।

  • শারীরিক পরিশ্রম: ব্যায়াম, হাঁটাচলা বা দৌড়ঝাঁপ শরীরের জন্য ভালো, এটা আপনি জানেন। তবে এটাও মনে রাখুন, মস্তিষ্কও আপনার শরীরের অংশ। ফলে শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার জন্যও জরুরি।

  • ধ্যান (মেডিটেশন) করুন: মনোযোগ বাড়াতে খুব ভালো ফল দেয়।

  • প্রকৃতির কাছে যান: সবুজ একটা বৃক্ষ দেখলেও মস্তিষ্কে ইতিবাচক বার্তা যায়। এমনকি প্রকৃতির ছবি দেখলেও কাজে দেয়।

  • বিরতি নিন: একটানা কোনো কাজ করতে করতে বিরক্তি এসে গেলে বিরতি নিন। একটু ঘুরে আসুন, গান শুনুন, আড্ডা দিন।

  • সহজ দিয়ে শুরু: যেকোনো কাজের বেলায়, বিশেষ করে পড়াশোনার সময় সহজ বিষয় দিয়ে শুরু করুন। একটা গতি চলে এলে কঠিন বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়ে যাবে।

  • পরিমিত ঘুমান: কম ঘুম আমাদের মনোযোগে বিরাট অন্তরায়। আবার বেশি ঘুমও বড় ক্ষতি করে ফেলে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ঘুমের জন্য শারীরিক শ্রম জরুরি।

  • লিখে রাখুন: কোনো কিছু শোনার সঙ্গে সঙ্গে বা পড়ার পর লিখে ফেললে মনোযোগ অন্য কিছুতে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

  • মন দিয়ে শুনুন: কেউ কথা বলার সময় মন দিয়ে শুনুন। মাঝখানে কিছু বলতে গেলে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।

  • ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার বাইরে: ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দিষ্ট কিছু সময় ঠিক করে নিন। এটা এক দিনে হবে না, অভ্যাস করুন একটু একটু করে। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকুন।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন