বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

জিইবি বিভাগের প্রধান মো. শামসুল হক বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কমিউনিটি সার্ভিসিংয়ের মানসিকতা থেকেই শাবিপ্রবির নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ বর্গফুট জায়গার মধ্যে বায়োসেফটি-২ লেভেলের পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিরতি ছাড়া এখন পর্যন্ত টানা নমুনা পরীক্ষা হয়ে আসছে। শুরুর দিকে এখানে ২৮ জন কাজ করতেন। এখন জিইবি বিভাগের ৬ জন শিক্ষক এবং স্নাতকোত্তরের ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত নমুনা শনাক্তের কাজ করছেন।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিনে পয়সায় এখানে কাজ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুধু ১২ জন শিক্ষার্থীকে খাবার ও হাতখরচের জন্য মাসে ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকেরা এ কাজের জন্য কোনো সম্মানী নিচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গেল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এখানে ৫২ হাজার ৬১৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮ হাজার ৩১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানালেন, গত বছর করোনাভাইনাসের প্রকোপে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। পরে যখন পরীক্ষাগার চালু হলো, তখন এখানে তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রম দিতে শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবন তাঁদের ঠিকানা। জরুরি প্রয়োজনে এক-দুবার বাড়িতে গেলেও বাইরের মানুষের কাছ থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পরীক্ষাগারে সকাল-সন্ধ্যা কাজ করছেন এই তরুণেরা।

সাধারণত বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নমুনা আসে। এরপর সেসব নমুনা পরীক্ষা শেষে ফলাফল সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ নমুনা পরীক্ষা হয় এখানে। নববর্ষ, ঈদ কিংবা পূজার ছুটিতেও নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকেনি।

জিইবি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মোশাররফ হোসেনের বাড়ি নরসিংদী সদরে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। পরীক্ষাগার চালু হওয়ার পর থেকে বাড়ি গেছেন মাত্র দুবার। বাকি সময়ের পুরোটাই তিনি পরীক্ষাগারে দিয়েছেন। মোশাররফ বলছিলেন, ‘মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে পেরে ভালো লাগছে। যত দিন করোনা পরিস্থিতি থাকবে, তত দিন কাজ করে যাব।’

জানা গেল, সাধারণত বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নমুনা আসে। এরপর সেসব নমুনা পরীক্ষা শেষে ফলাফল সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ নমুনা পরীক্ষা হয় এখানে। নববর্ষ, ঈদ কিংবা পূজার ছুটিতেও নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকেনি। করোনা শনাক্তকরণের পাশাপাশি সিলেটে নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে গবেষণা করছেন জিইবির একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

পরীক্ষাগারে দায়িত্বরত লোকজনের একজন নাজমুল হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। তিনি বললেন, ‘করোনা মহামারিতে যেহেতু আমাদের কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাই আমরা ঘরে বসে থাকার কথা ভাবিনি। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে, কিন্তু এ কাজে আত্মতৃপ্তি আছে।’

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন