বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুই কলেজেই সারিবদ্ধভাবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলেজে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাপমাত্রা মাপা কিংবা হাত স্যানিটাইজ করার চিত্র দেখা গেল দুই কলেজের প্রাঙ্গণেই। কোনো শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক না থাকলে কলেজ থেকেই মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ও শ্রেণিকক্ষের বারান্দায় রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে এ এক নতুন পরিবেশ।

দুই কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানালেন, দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকায় তাঁরা বাসায় থেকে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস হলেও ঠিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হচ্ছিল না। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সান্নিধ্যের অভাব বোধ করতেন প্রতিনিয়ত। সে তুলনায় প্রতিদিন দুটি ক্লাস হলেও কলেজে আসতে পেরে তাঁরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মৃন্ময় মোদক জানালেন, দীর্ঘদিন পর কলেজে এসে ক্লাস তাঁর ভালো লাগছে। কলেজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট। তাঁরই আরেক সহপাঠী রাইসুন্নাহার রাহা বলল, ‘জুমে ক্লাস হলেও আমি ঠিক পড়া বুঝতে পারতাম না। ক্লাসরুমে মনোযোগ দেওয়া যায়, অনলাইনে সেটা কঠিন।’ দুটি কলেজেই প্রতিটি ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া সুবিধা রয়েছে।

মুমিনুন্নিসা কলেজের সানজিদা রহমান, জিন্নাতুল ইসলাম, সাঈদা বিনতে রহমান—শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস করতে পেরে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানাল। প্রথমে কলেজে আসতে মনে ভয় কাজ করলেও কলেজের সার্বিক পরিবেশ দেখে সেই ভয় কেটে গেছে। ক্লাসরুমে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তৎপর দেখা গেছে।

default-image

আনন্দ মোহন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১ হাজার ১৯ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬ জন। মুমিনুন্নিসা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্রীর সংখ্যা ৯৭২ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ১ হাজার ৫৪ জন। এ ছাড়া আনন্দ মোহন কলেজে ২০টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এবং মুমিনুন্নিসা কলেজে ১৪টি বিভাগে স্নাতক ও ৮টি বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার ছাত্রী রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা না হওয়ায় এখনো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে ঘোষণা হলে যেকোনো সময় চালুর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের জানান, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির রুটিনে আধা ঘণ্টা বিরতি রাখা হয়েছে। একটি শ্রেণির ক্লাস শেষ হলে পরবর্তী আধা ঘণ্টা সময়ে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করা হয় এবং জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। ছাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দুটি বর্ষের ১৪টি সেকশনকে ২৮টি সেকশনে বিভক্ত করে মোট ২৮টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে।

আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষক এবং কর্মচারীদের ব্যাপারেও সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিএনসিসি এবং স্কাউট সদস্যরাও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে কাজ করছেন।’ এ ছাড়া কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছাড়াও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কলেজ আঙিনা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন