default-image

২০২০ অনেকের কাছে বিভীষিকাময়, অনেকের কাছে আবার বেশ আনন্দের। আমি হয়তো প্রথম দলের মানুষ। আর আমার ছোট ভাই দ্বিতীয় দলের। আগে ভাইয়েরটাই বলে শেষ করি। ক্রিকেট–পাগল ভাই আমার। পড়ালেখার চাপ থেকে বের হয়ে পুরো ১০ মাস সে মনমতো খেলাধুলা করেছে। ভয় পাবেন না, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই! বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরু হওয়ায় আনন্দ বেড়ে গেছে আরও।

এই বছরটা শিখিয়েছে অনেক কিছুই। আপন মানুষদের থেকে দূরে যেতে শিখিয়েছে, আপন মানুষদের আমাদের থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। আমি এই বছরে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি। অন্যদিকে আমি আমার মা-বাবাকে পেয়েছি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে। আমি বুঝতে শিখেছি, যত যা-ই হোক, দিন শেষে আমার কাছে মা-বাবা ছাড়া আর কেউ থাকবে না। অন্য অনেক কিছুর মোহে আমরা মা-বাবাকে ভুলে যাই, কিন্তু এর সবই আসলে মরীচিকা।

নতুন বছরে এসে মনে হচ্ছে, অনেক কষ্ট পেলেও ২০২০ মন্দ ছিল না। বারবার মা-বাবার কথা বলছি; কারণ, ২০২০ সালের আগে আমার সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্ক ছিল বাবা-মেয়ে কিংবা মা-মেয়ের। কিন্তু গত বছরের ঘরবন্দী দিনের সুবাদেই আমরা বন্ধু হয়েছি। আর এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করতে শিখেছি। একসঙ্গে বসে চা খাওয়া থেকে শুরু করে মায়ের কাছে বসে বিড়ালছানার মতো কুঁইকুঁই করা, আমি আগে ভাবতেই পারতাম না। এ ছাড়া দারিদ্র্য জিনিসটা কী, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমার পরিবারের আর্থিক কষ্ট তেমন হয়নি। তবে ৪ মাস কিডনির চেকআপ না করানোর ফলে বাবার কিডনি ৯০ শতাংশ কর্মক্ষমতা হারিয়েছে, যা আমাদের জন্য একটি বড় দুর্ঘটনা ছিল। বাবা বেঁচে আছেন ডায়ালাইসিসের ওপর। আর আমরা বেঁচে আছি বাবার দিকে তাকিয়ে। হারিয়েছি অনেক কিছু, পেয়েছি অনেক কিছু। কিন্তু দিন শেষে বেঁচে থাকাটাই একটা বড় ব্যাপার। বুকে হাত রেখে হৃৎকম্পন টের পাই, এটাই তো সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

লেখক: শিক্ষার্থী, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ

বিজ্ঞাপন
প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন