default-image

খুব অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে কেটেছে গত দুই বছর। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা সময়মতো হবে কি না, তা-ও নিশ্চিত ছিল না। তবু করোনাকালেই নিজের লক্ষ্যটাকে আমি আরও ভালোভাবে অনুধাবন করেছি। মহামারি আমাদের বুঝিয়েছে, পৃথিবীতে চিকিৎসকদের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ, এ পেশার দায়িত্ব কত বড়। চিকিৎসকদের পরিশ্রম, ত্যাগ দেখেই মনে মনে আমার প্রতিজ্ঞা আরও দৃঢ় হয়েছে—নিজেকে আমি তাঁদের সারিতে দেখতে চাই।
আমার বাড়ি পাবনা জেলা শহরের রাধানগর নারায়ণপুর মহল্লায়। ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। পাবনায় তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতিমূলক একটি পরীক্ষা হয়েছিল। সে পরীক্ষায় আমি প্রথম হয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা, সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছি। সব সময় আত্মবিশ্বাস ছিল, ভর্তি পরীক্ষায় আমি সেরা পাঁচে থাকব। প্রথম হব, এভাবে হয়তো ভাবিনি।

বিজ্ঞাপন
পড়ালেখার জন্য যে আলাদা রুটিন করে নিয়েছিলাম, তা নয়। কিন্তু আমি প্রতিদিনই নিজের জন্য একটা লক্ষ্য ঠিক করতাম। সে লক্ষ্য পূরণ হলে নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করতাম। আর লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে শাস্তি হিসেবে পরদিন একটু পড়া বাড়িয়ে দিতাম।

পরিবারে আমি সবার ছোট। বাবা মো. আবদুল কাইয়ুম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা মুসলিমা খাতুন গৃহিণী। আমার বড় বোন চিকিৎসক, মেজ বোন স্নাতক পড়ছে। গত এক বছরে তাঁদের অনুপ্রেরণা আর শিক্ষকদের দেওয়া পরামর্শেই আমি কখনো হতাশ হয়ে পড়িনি। শিক্ষকেরা সব সময় বলেছেন, পরীক্ষা হবে কি হবে না, সেসব নিয়ে ভেবো না। তুমি তোমার প্রস্তুতি চালিয়ে যাও। আমার সব সময়ই আত্মবিশ্বাস ছিল, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে আমি সেরা পাঁচে থাকব।
আমি বই পড়তে ভালোবাসি। করোনায় ঘরবন্দী সময়ে যখনই অবসর পেয়েছি, বই পড়েছি। নিজেকে ও পরিবারকে সময় দিয়েছি। পড়ালেখার জন্য যে আলাদা রুটিন করে নিয়েছিলাম, তা নয়। কিন্তু আমি প্রতিদিনই নিজের জন্য একটা লক্ষ্য ঠিক করতাম। সে লক্ষ্য পূরণ হলে নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করতাম। আর লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে শাস্তি হিসেবে পরদিন একটু পড়া বাড়িয়ে দিতাম।
আমি মনে করি, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সবার আগে নিজের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। তারপর সবটুকু শ্রম দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পাঠ্যবই আয়ত্তে রাখা, নিয়মিত ক্লাস করা—এসব খুবই জরুরি। আর সব সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
এখন আমার লক্ষ্য—প্রথমত, ভালো ডাক্তার হতে চাই। তারপর মানুষের জন্য, নিজের এলাকার জন্য, দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন