বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৃত্তির সাধারণ যোগ্যতা

শেভেনিং বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পড়ার ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানবিক দক্ষতা, নেতৃত্বসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, নিজের সমাজ ও দেশের জন্য কাজের দিকটিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃত্তির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভিন্ন ভিন্ন ধাপে কয়েক মাস লেগে যায়। শেভেনিং কর্তৃপক্ষ বৃত্তির আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেয়। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অংশ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তির যেসব সাধারণ নিয়ম আছে, তা-ই কিন্তু অনুসরণ করা হয় বৃত্তির আবেদনে। আবেদন করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের জন্য ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা আইইএলটিএসে ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ থাকতে হয়। আগে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া না থাকলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরীক্ষা দেওয়া যায়।

আবেদনের উপায়

অনলাইনের মাধ্যমে শেভেনিং বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদন করতে হবে। পরে যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। আবেদনের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। অনলাইনেই ইংরেজি ভাষায় দুটি রেফারেন্স লেটার বা সুপারিশপত্র জমা দিতে হয়। মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া স্নাতক পড়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে,তার সনদ ও নম্বরপত্র আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ‘অফার লেটার’ জমা দিতে হয়। বৃত্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের ধাপে ধাপে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে।

যা খেয়াল রাখবেন

বৃত্তির আবেদনের সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও পেশাগত সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দক্ষতা, নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা, ভবিষ্যতের নেতৃত্বদানের সম্ভাবনা নিয়ে চারটি অনুচ্ছেদ আবেদনে লিখতে হয়। ৫০০ শব্দের মধ্যে লেখা এসব অনুচ্ছেদে শিক্ষার্থীর মানবিক ও আবেগীয় দক্ষতার পাশাপাশি আইডিয়া প্রকাশ, লেখার দক্ষতা খেয়াল করা হয়। এ বছরের বৃত্তির আবেদনের শেষ তারিখ ২ নভেম্বর। বৃত্তির বিস্তারিত জানা যাবে chevening.org ওয়েবসাইট থেকে।

আমার অভিজ্ঞতা

আমি নিজের কাজের পাশাপাশি ২০১৮ সালের শেষ সময় থেকে শেভেনিং বৃত্তির জন্য আবেদন করা শুরু করি। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস বিভাগে মাস্টার্স অব আর্টসে পড়ার সুযোগ পাই। শেভেনিং বৃত্তির মাধ্যমে পড়ার সুযোগে বিশ্বের নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ থাকে। আমাদের করোনা মহামারির মধ্যেই অনেক সময় আমাদের ক্লাস চলেছিল। আমার অনেক বিদেশি বন্ধুর কাছে নিজের দেশকে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছিলাম। ইন্দোনেশিয়ার তরুণ শিক্ষার্থী চিথা, মালয়েশিয়া থেকে আসা ইয়াসমিন, লিথুনিয়ার ড্যারিয়াস ও হংকং ক্রিস্টালের সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে উঠেছে। এখনো আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে আড্ডা আর আলাপ-আলোচনা হয়। ঘোরাঘুরির সুযোগ কম থাকলেও আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রিতে অবস্থিত। শেভেনিং বৃত্তির মাধ্যমে পড়ার কারণে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, তেমনি নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। কভেন্ট্রি ২০২১ সালে সিটি অব কালচার সম্মাননা পেয়েছে, এতেই বোঝা যায় আমরা কতটা সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি লিভারপুল ক্লাব ও ম্যানচেস্টার ক্লাবের স্টেডিয়ামে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আয়ারল্যান্ডের পাহাড়ে যাওয়ার সুযোগ মিলেছিল। বেলফাস্টে টাইটানিক জাহাজের নির্মাণকেন্দ্র ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়ার সুযোগে আমি অনেক কিছুই জেনেছি। যাঁরা ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চান, শেভেনিং বৃত্তি তাঁদের জন্য দারুণ এক সুযোগ।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন