বিজ্ঞাপন
default-image

সেদিন ঘুম ভাঙাতে অ্যালার্ম লাগবে না

খন্দকার মাহিন আরাফাত, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ঢাকা

যেদিন ক্যাম্পাস খুলে যাবে, সেদিন আর আমি ঘরে ফিরব না। সকাল থেকে সন্ধ্যা দুরন্ত কিশোরের মতো ছুটে বেড়াব ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোনায়। বুকভরে নিশ্বাস নেব। কখনো ক্লাসরুম, কখনোবা মাঠে খুঁজে ফিরব ফেলে আসা স্মৃতি। সেদিন নতুন করে আরেকবার আবিষ্কার করব আমার প্রিয় ক্যাম্পাসকে। ছুঁয়ে দেখব চেনা দেয়াল, চেয়ার, মাঠের সবুজ।

সেদিন নিশ্চয়ই ঘুম থেকে উঠতে আর অ্যালার্ম লাগবে না। অন্য দিনের মতো ক্লাসে পৌঁছাতে আর দেরিও হবে না। সবচেয়ে আগে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর রেকর্ডও করে ফেলতে পারি!সেদিন আমিই হয়তো হব ক্লাসের সবচেয়ে মনোযোগী ছাত্র।

২১ ইঞ্চি স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে ক্লাস করতে করতে হাঁপিয়ে গেছি। আবার সত্যিকার ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার দিনটা কত প্রাণবন্ত হবে, ভেবেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।ক্যানটিনের দোতলায় বন্ধুদের নিয়ে খাওয়ার আয়োজন তো হবেই। আবারও এক প্লেট খিচুড়ি আর ডিমের তরকারি নিয়ে ভাগাভাগি করে খাওয়ার দৃশ্যটা চোখে পড়বে। তবে সেদিন আর আগের মতো আমাদের মধ্যে ঝগড়া হবে না। ওই এক প্লেট খিচুড়ি আর ডিম দিয়েই খাব তৃপ্তি করে। তবে সেই পুরোনো দিনের মতো দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো ডিমের ঝোল চাওয়ার লোভ সামলাতে পারব না।

অনেক দিন পর আবারও ক্যাম্পাসের টং দোকানে আমাদের আড্ডা বসবে। চায়ের কাপ হাতে আমাদের সেই আড্ডা ঢাকা থেকে সুদূর মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে গেলেও অবাক হব না। সেদিন পুরোনো বন্ধুদের মতো ক্যাম্পাসের গাছ, লতাপাতা বা পশুপাখিরাও হয়তো আমাকে জড়িয়ে নেবে। মাঠের সবুজ ঘাসে শুয়ে আকাশ দেখতে দেখতে হয়তো চোখ বুজে আসবে।

default-image

বাস্তব বড়ই বেরসিক

ফারিহা বিনতে ফারুক, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যেদিন ক্যাম্পাস খুলে যাবে সেদিন আমার চেয়ে অসুখী আর কেউ হবে না। আশ্চর্যজনক, তা-ই না? তা বটে, কিন্তু কেন? হাজারো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস খোলার অপেক্ষায় আছে। কেউবা এক সেমিস্টারের জন্য পাস করে বেরোতে পারছে না। হয়তো কারও কারও ইচ্ছা ছিল প্রথম বেতন দিয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। বলবে, 'বাবা, তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও তো। আর এই নাও তোমাদের উপহার। আমি চাকরি করছি তো, তুমি শুধু শুধু কেন কষ্ট করবে? আমি আর ছোট্ট নেই...' সেই অপেক্ষা শুধু দীর্ঘায়িতই হচ্ছে।

শুধু কি তা-ই? অনেক ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন শহরের প্রেমিক-প্রেমিকার দেখা হওয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিল ক্যাম্পাস। গত এক বছরের বেশি সময়ে ক্যাম্পাসের মাটি থেকে তাঁদের চিহ্ন মুছে গেছে বললেই চলে। কয়টা সম্পর্ক টিকে আছে, এ নিয়ে অবশ্য কোনো গবেষণা চোখে পড়েনি!

এত মানুষের এত আকাঙ্ক্ষা, তাহলে আমার কেন ক্যাম্পাসের প্রতি এতই তিক্ততা? কারণ যেদিন ক্যাম্পাস খুলে যাবে, সেদিন থেকে আবার বিশাল দূরত্ব হয়ে যাবে মা-বাবার সঙ্গে। এই মহামারিতে যেন আবার শিশু হয়ে গিয়েছিলাম। সব সময় মা-বাবার কাছে থাকার বেশি প্রয়োজন বোধ করেছি। পড়ালেখার জন্য বাসা থেকে দূরে থাকতে হতো। মহামারি এই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে।

ক্যাম্পাস খুলে গেলে এই শহরে আর হাঁটা হবে না আমার। তখন হাঁটতে হবে অন্য শহরে। রাতে একা তালা খুলে ক্লান্ত শরীরে পরিবারের ছবি হাতে নিয়ে ভাবতে হবে—'এই তো, আর তো মাত্র দুটি পরীক্ষা বাকি! এরপর আমি বাসায়, আমার জগতে। যেখানে পা বাড়ালেই পাওয়া যায় আমার কাছের মানুষের গন্ধ! এই শহর শুধুই আমার।'

মহামারি আমার কাছে স্বপ্নের মতো! ক্যাম্পাস খুলে যাওয়া মানে স্বপ্ন ভেঙে আবার বাস্তবে পা দেওয়া। আর বাস্তব বড়ই বেরসিক। যেদিন ক্যাম্পাস খুলে যাবে, আবার মলিন হয়ে যাবে আমার জীবন!

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন