বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ তো গেল অনুভূতির কথা। কিন্তু অতদিন পর ক্যাম্পাসে গিয়ে করবটা কী? লেখা শুরুর আগে এক বন্ধুকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম। সেই বন্ধু টিটকারি মেরে কাব্যিক ঢঙে বলেছিল, ‘বছরখানেক পর কোনো এক গোধূলি মাখা বিকেলে প্রাণের ক্যাম্পাসের সবুজাভ ঘাসে বসে প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটাবে জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু মুহূর্ত। এক হাতে টিএসসির অমৃতসম ধোঁয়া ওঠা চা, অন্য হাতে এক মুঠো স্বপ্ন।’

ঠাট্টাভরে এমন কথা বলার কারণটা পৃথিবী সুস্থ হলে এক বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিয়ে দাঁড়ালেই বুঝতে পারবেন। প্রতিদিন বেলাশেষে আমাদের সবার গন্তব্য সেই একই জায়গা। এত মানুষের ভিড় দেখে আমরা বন্ধুরাও ‘টিএসসিতে কেন এত ভিড়’ বলতে বলতে সেই প্রাঙ্গণেই গিয়ে ঢুকি, আরও ভিড় বাড়াই! এ ছাড়াও ঢাবির ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে বসলেই তো সেই গতানুগতিক টিএসসির ‘চায়ের সঙ্গে গান মিশিয়ে সন্ধ্যা পার’, লাল বাসের গল্প, হাকিমের খিচুড়ি, এ ক্লাব থেকে ও ক্লাবে মিটিংয়ের নামে আড্ডা, শ্যাডোতে নোট ফটোকপি করার ফাঁকে গরমের টোটকা হিসেবে এক গ্লাস শরবত, ফেরার পথে চারুকলার চিকেন, একটু এগোলেই কার্জন হল, পলাশি কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-ঘুরেফিরে এসব কথা আসবেই। শুনলেই মনে হয় ছবির মতো ভেসে ওঠা এক পরিবেশ। করোনার জন্য এই পরিবেশ থেকে দূরে আছি কতগুলো দিন!

যদিও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা না নেওয়ার ফলে ক্লাসে গিয়ে যে প্রথম দিনেই পরীক্ষার নোটিশ পাব, সে ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত। তাই ক্যাম্পাসটা খুলে গেলে কতটা আনন্দ করব তা ভাবার বদলে কতটা পড়াশোনা শেষ করা বাকি-ভেবেই কপালে চৌত্রিশটা ভাঁজ পড়ে যাবে বোধ হয়! হয়তো কেউ নোটিশ পেয়ে ক্লাস শেষে ঢুকবে লাইব্রেরিতে। কেউ কেউ পরীক্ষার ভয়কে থোড়াই কেয়ার করে বসে যাবে আড্ডা দিতে।

এতগুলো দিনের কোয়ারেন্টিন, মুখে মাস্ক, পকেটে স্যানিটাইজার আর ৬ ফিটের দূরত্বের ঝঞ্ঝাট শেষমেশ ঘুচে গেলে স্বাধীন মানুষগুলো তো সেই নিয়মিত রুটিনে ফিরে যাবে। কিন্তু সব কি একই থাকবে? করোনার দোলাচলে মানুষের জীবনে এসেছে কত নতুন সব মোড়। তবুও ল্যাপটপের সামনে বসে, অনলাইন ক্লাসের ফাঁকে, ‘ক্যাম্পাস যেদিন খুলে যাবে’ শিরোনামের লেখা লিখতে আর অনিশ্চিত সেই ভবিষ্যতের কথা ভাবতে কিন্তু বেশ লাগছে!

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন