default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ একটু বোধ হয় বেশিই থাকে। একদিকে ক্লাস, আরেকদিকে ল্যাব। আর স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হিসেবে তো গবেষণা, থিসিস ডিফেন্স, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি, কারও জিআরই-টোয়েফলের প্রস্তুতি, কারও বিসিএস-সরকারি চাকরির আগ্রহের মতো নানা দিকে মনোযোগ দিতে হয়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ২০১৬-২০১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। স্নাতকোত্তরের থিসিসের অংশ হিসেবে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে আবেদন করেছিলাম।

আমার থিসিসের বিষয়—টেক্সটাইল ডাই যখন কোনো রকম প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই কোনো পানির উৎসে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন তা পরিবেশের জন্য কেমন মারাত্মক হুমকি হয়, তা পরীক্ষা করা। আমি গবেষণার মাধ্যমে তিনটি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি টার্নারী যৌগের মাধ্যমে টেক্সটাইল ডাইয়ের ‘ফটোক্যাটালাইটিক’ অবক্ষয়ের বিষয় নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা করেছিলাম। আমার মতো নানা বিষয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণা, পরিকল্পনা, গবেষণা জমা দেন ফেলোশিপের জন্য। আমাদের দেশে বিজ্ঞানে গবেষণার জন্য এমনিতেই তহবিল কম থাকে। যে কারণে এই ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আমি ২০১৮-২০১৯ সেশনের ফেলোশিপের জন্য আবেদন করি। আমার সাক্ষাৎকারের কেন্দ্র ছিল আমার ক্যাম্পাস এলাকাতেই—বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। বিভিন্ন বিভাগ ও বিষয়ের ওপর সাক্ষাৎকার বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আবেদনের পরে থিসিস ডিফেন্সের সমীকরণ আর ছোটাছুটিতে দিন-রাত একাকার হয়ে গিয়েছিল। এক বন্ধু আমাকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের ফলাফল প্রকাশের খোঁজ দেয়। অন্য সবার সঙ্গে নিজের নামটি দেখতে পেয়ে পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। আমার আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায় অন্য একটি কারণে। ফেলোশিপ গ্রহণের জন্য বৃত্তির চেকটি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাত থেকে গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে আমাকে। এক দিকে ফেলোশিপ আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক গ্রহণের সুযোগ কাজের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে যাঁরা আবেদন করতে পারবেন

প্রতি বছর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ও গবেষণারত এমএস, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী গবেষকদের প্রদান করা হয়। ১৯৭৭-১৯৭৮ সাল থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই ফেলোশিপ প্রদান করা থাকে। সাধারণত তিনটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

১. ভৌত, জৈব ও অজৈব বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য শক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি

২. জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং

৩. খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহ দেওয়াই এই ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ্য। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে ফেলোশিপের দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা, বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল প্রকাশনার সুযোগ থাকে।

যেভাবে আবেদন করবেন

প্রথমেই মন্ত্রণালয় নির্ধারিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় মৌলিক তথ্য সংযুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও নিজ গবেষণা কাজের সারাংশ বা ধারণাপত্র তত্ত্বাবধায়কের স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচনের পরে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ফেলোশিপ দেওয়া হয়।

বিস্তারিত দেখুন এই লিংকে

লেখক: ২০১৮-২০১৯ সেশনের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন