বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল ছয়টায় বন্ধু আজাদের ফোনে ঘুম ভাঙে! হাত-মুখ ধুয়ে তৈরি হয়ে সবার সঙ্গে ঠিক সাড়ে ছয়টায় মিলিত হই বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেটে। সেখান থেকে ভ্যানে করে আমরা ৯ জন রওনা হই। পথে বন্ধু কাইয়্যুম রসওয়ালা মামাকে ফোন করে, আমাদের জন্য যেন রস রাখা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে। দুপাশে ফসলি জমি, মাঝখানে পিচঢালা পথ ধরে চলতে থাকে তিন চাকার যান। হাড় কাঁপানো বাতাস! গল্পগুজব আর হাসি-তামাশায় আমরা উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করি।

ধীরে ধীরে পুবাকাশে সুয্যিমামা উঁকি দিতে থাকে। সকালের মিষ্টি রোদ হঠাৎ করেই পরিবেশটাকে অন্য রকম করে দেয়। রাস্তার দুপাশে দিগন্তবিস্তৃত বিভিন্ন শীতকালীন সবজির খেত আর মাথার ওপর কিচিরমিচির শব্দে খাবারের সন্ধানে পাখিদের ছুটে চলা। মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। কুয়াশার চাদরে লেপটে থাকা হলুদ শর্ষেখেত আর চারপাশে সেই ফুলের ম ম গন্ধ... আহা! কোদাল, কাস্তে হাতে সাত সকালেই জমির দিকে ছুটছেন কৃষকেরা। দেখে ছেলেবেলার রচনায় লেখা বহুল ব্যবহৃত বাক্যটা মনে পড়ে যায়—বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ।

হঠাৎ মহিষের গাড়ির দেখা পেয়ে আমাদের রোমাঞ্চ আরও বেড়ে যায়। গান গাইতে গাইতে গাড়োয়ানের গাড়ি হাঁকিয়ে চলা দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো সাদাকালো ছবির দিকে তাকিয়ে আছি। প্রায় ২০ মিনিটের ভ্যানভ্রমণ শেষে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাই। সেখানে আমাদের মতো রস খেতে আসা আরও একদলের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁদের পালা শেষে আমরাও রসের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাই।

প্রচণ্ড শীতে দাঁত শিরশিরে ঠান্ডা খেজুরের রস খেতে বন্ধুরা সবাই একরকম হুমড়ি খেয়ে পড়ি। রস খাওয়া শেষে শুরু হয় ছবি তোলা। সুন্দর মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করতে কারোরই আগ্রহের কমতি ছিল না। সব শেষে আবার ভ্যানে চড়ে ক্যাম্পাসে ফেরার মাধ্যমে শেষ হয় রস অভিযান!

(স্বপ্ন নিয়েতে লেখা পাঠাতে পারেন এই ঠিকানায়: [email protected])

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন