default-image

উড়োজাহাজসংক্রান্ত পড়ালেখা

ছোটবেলায় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। সরাসরি বিমান চালনায় যুক্ত হতে না পারলেও, এ–সংক্রান্ত পড়ালেখা আপনি করতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে আকাশপথে পরিবহনের চাহিদা প্রতিবছর গড়ে ৪.৩% বাড়ছে। পর্যটকদের সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ২০৩৬ সালের মধ্যে উড়োজাহাজ খাতে বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা উড়োজাহাজ প্রকৌশল বিষয়টি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই আগ্রহ আছে। উড়োজাহাজের নকশা, যান্ত্রিক কলাকৌশলগত পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণাসহ বিমানবন্দর ও মহাকাশসংক্রান্ত নানা বিষয় পড়ানো হয় প্রকৌশলের এই শাখায়। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে পড়াশোনা করেও এই খাতে পেশা গড়া যায়।

বর্তমানে ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ও পরে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া আকাশ ও মহাকাশসংক্রান্ত পড়ালেখার জন্য বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি (বিএসএমআরএএইউ)। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অস্থায়ী কার্যালয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখতে পারেন ওয়েবসাইট: bsmraau.edu.bd

এ ছাড়া ঢাকায় দুটি বেসরকারি কলেজে উড়োজাহাজসংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হয়—কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি (catechedu.com) এবং ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশন, সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (uca.edu.bd)

উন্নয়ন অধ্যয়ন

বিশ্বের এক নম্বর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটিই বাংলাদেশে—ব্র্যাক। উন্নয়ন খাতে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের তরুণদের অবদান রাখার সুযোগ আছে। স্বপ্ন নিয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, এমআইটিতে একটা খুব বিখ্যাত প্রোগ্রাম আছে, নাম পোভার্টি ল্যাব। এই ল্যাবে দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণা হয়। কিন্তু দারিদ্র্যের গবেষণা তো এমআইটির চেয়ে এ দেশেই ভালো হওয়ার কথা। কারণ, এখানকার শিক্ষার্থীরা খুব কাছ থেকে দারিদ্র্য দেখতে পান।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ভাবনায় শিক্ষার প্রসার, দারিদ্র্য হ্রাস, পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ ও মানসম্মত জীবনযাপনের মতো বিষয়গুলোকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অধ্যয়ন আলাদা একটি বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোয় কীভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে গবেষণার সুযোগ পান উন্নয়ন অধ্যয়নের শিক্ষার্থীরা। পেশাজীবনে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করার সুযোগ থাকে। দেশীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো ছাড়া বিদেশি অনেক উন্নয়ন সংস্থাও বাংলাদেশে কাজ করছে। যেমন ইউনিসেফ, ওয়াটারএইড, একশনএইড, সেভ দ্য চিলড্রেন ইত্যাদি। এ ছাড়া জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থা আছে। এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের তরুণেরা ভালো অবস্থানে আছেন।

তুলনামূলক নতুন বিষয় হলেও এখন বাংলাদেশে এই বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (স্নাতকোত্তর), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ (এআইইউবি) কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন অধ্যয়ন নিয়ে পড়া যায়।

default-image

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ

বিনোদনজগতের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যায়নি কখনোই। ধরন বদলেছে কেবল। বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা, এখন তো মুঠোফোনের খুদে পর্দায়ও দর্শক সিনেমা-নাটক দেখছেন। ডিজিটাল মাধ্যমের প্রসারের ফলে এই খাতেও কাজের সুযোগ বাড়ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন নির্মাণের জন্য নির্দেশনা, চিত্রনাট্য লেখা, চিত্রগ্রহণ, ভিডিও সম্পাদনাসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি শেখানো হয় ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিষয়ে।

পড়াশোনা শেষে টেলিভিশন চ্যানেল, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও প্রোডাকশন হাউসগুলোয় পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, ভিডিও সম্পাদক, চিত্রনাট্য লেখকসহ বিভিন্ন পদে কাজের সুযোগ রয়েছে। ইউটিউবের মতো ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় স্বাধীন চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে পেশা বাছাইও এখন সহজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশসহ (ইউল্যাব) বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমসম্পর্কিত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা

ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে আমাদের অভিযোগের কমতি নেই। এই অব্যবস্থাপনাকে বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদেরা। ঢাকার মতো অন্য কোনো শহর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদেরা। এই পেশাজীবীরা যে শুধু নগরকেন্দ্রিক কাজ করেন তা কিন্তু নয়; গ্রাম থেকে শহর, নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল এমনকি দেশ—সবকিছুই নিয়েই তাঁদের কর্মযজ্ঞ।

বিষয়টি ঘিরে আরেকটি ভুল ধারণা হলো, শহরের নকশা তৈরি করাই এই বিষয়ের একমাত্র পাঠ্য। নকশার বাইরেও এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা গৃহায়ণের ধারণা, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণের ধরন, গ্রাম বা নগর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিবেশগত পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি বিষয়ে বিস্তর ধারণা লাভ করেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্বানাইজেশন অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং, অর্থাৎ নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা প্রকৌশল অনুষদের বিষয় হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পড়ানো হয়। উল্লেখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা যায়।

এই বিষয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরির ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট এজেন্সি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি কিংবা গবেষণায় পেশা গড়া যায়।

default-image

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত থাকলেও পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব নিয়ে অনেকেই অভিযোগ তোলেন। এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন পর্যটন বা ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল। যাঁরা পর্যটন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এবং ভিন্নধর্মী পেশা বেছে নিতে চান, তাঁরা ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নিয়ে পড়তে পারেন।

ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউস কিপিং ম্যানেজমেন্ট, ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট, রিক্রিয়েশন ম্যানেজমেন্ট, লেইজর ম্যানেজমেন্টসহ ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাসম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় পড়ানো হয় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে। এ ছাড়া কালিনারি আর্টস বা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের কোর্সগুলোয় শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে খাবার বানানো ও পরিবেশন নিয়ে জানতে হয়, রীতিমতো হোটেলের রান্নাঘরের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে শিখতে হয়। ফলে এই বিষয়ে পড়াশোনা করে কেউ চাইলে নিজেকে রন্ধনশিল্পী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে পৃথিবীব্যাপী কাজের সুযোগ রয়েছে। কারণ, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই পর্যটন খাত বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সেবাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্যারিয়ার গড়ার এখন ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা পাঁচ তারকা হোটেল, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান

অসুস্থ হলে আমরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। কিন্তু অসুস্থ যেন হতে না হয় বা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ব্যাপারে পরামর্শ নিতে আমরা আবার পুষ্টিবিদের কাছে যাই। কখন কী খাব, কতটুকু খাব, কোন খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে—আমাদের এসব প্রশ্নের সমাধান দেন পুষ্টিবিদেরা। পরিবারে একজন ডাক্তার থাকলে পরিবারের সবাই যেমন উপকৃত হয়, ঠিক তেমনই বর্তমান সময়ে পরিবারে একজন পুষ্টিবিদ থাকলেও মন্দ হয় না।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে পারেন। খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্যবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন, দেহতত্ত্ব ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্যতালিকা, পুষ্টির অভাবসম্পর্কিত রোগবালাই নিয়ে গবেষণা, খাদ্য ও পুষ্টি নীতিসহ এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রবিউল হক বলেন, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্পর্কিত কিছু বিষয়ও পড়ানো হয়। যেন তাঁরা ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারেন।

পুষ্টিবিজ্ঞানে স্নাতক করে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় নিউট্রিশন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, আইসিডিডিআরবি, ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক ও গবেষক নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরির বাইরে এই বিষয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারীরা ব্যক্তিগতভাবে পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারেন। এ ছাড়া শিক্ষকতায় আগ্রহী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশা গড়ারও সুযোগ আছে।

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করা যায়। এ ছাড়া কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি খাদ্য প্রকৌশল অথবা পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান নামেও পড়ানো হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম।

default-image

ফ্যাশন ডিজাইন

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ভবিষ্যতে সৃজনশীল পেশাগুলোর চাহিদা বাড়বে। প্রকৌশল বা হিসাবসংক্রান্ত বহু কাজ হয়তো চলে যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটের দখলে। কিন্তু রোবট তো একটা সুন্দর কবিতা লিখতে পারবে না, ছবিও আঁকতে পারবে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনব পোশাকের নকশা করার কাজটিও চলে যাবে না রোবটের দখলে। পোশাকের বিশাল বাজার বিবেচনায় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ আছে। তবে এই বিষয়ে পড়তে চাইলে অবশ্যই আঁকাআঁকি, দেশে ও বিদেশে পোশাকের চলতি ট্রেন্ড নিয়ে আগ্রহ থাকতে হবে।

নারী ও পুরুষের পছন্দ অনুযায়ী পোশাকের নকশা, প্যাটার্ন কাটিং, আবহাওয়া ভেদে ফেব্রিকসের ধরন, বুননপদ্ধতি, ফ্যাশন ইলাস্ট্রেশন, পোশাকসংক্রান্ত গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেন ফ্যাশন ডিজাইনের শিক্ষার্থীরা। দেশি বুটিক হাউসগুলোয় কাজের সুযোগ তো আছেই, আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনাররা কাজ শুরু করেছেন। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক এন কে কায়কোবাদ বললেন, ‘পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা যেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থানে আছি, ডিজাইনেও আমরা সে জায়গা নিতে পারি। গার্মেন্টসগুলোয় গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে ফ্যাশন ডিজাইনাররা কাজ করেন। আমাদের দেশে আগে এই পদে ভারতীয় বা শ্রীলঙ্কানদের বেশি দেখা যেত। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরাও কাজ করছেন। বিদেশি পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো যখন দেখল, ইউরোপের একজন ডিজাইনারের চেয়ে সাশ্রয়ে তাঁরা ডিজাইন করিয়ে নিতে পারছেন, তখন তাঁরা বাংলাদেশে উৎপাদনের পাশাপাশি ডিজাইনও করিয়ে নিচ্ছেন। এই জায়গায় আমাদের অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।’

ঢাকার বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগ আছে। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজি এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে পড়া যায়।

গ্রাফিক ডিজাইন

গ্রাফিক ডিজাইনকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক সময়ের ভিজ্যুয়াল আর্টস নিয়ে পড়াশোনা। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের এই সময়ে যোগাযোগ কিংবা বিনোদনমাধ্যমে ভিজ্যুয়াল আর্টের চাহিদা বহুগুণে বেড়েছে। ফলে চাহিদা বাড়ছে গ্রাফিক ডিজাইনারদেরও।

যাঁরা শিল্প ভালোবাসেন এবং আঁকাআঁকিতে দক্ষ, তাঁদের জন্য বেশ মজার একটি বিষয় হতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন। কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে দৃশ্যমান একটি কনটেন্ট বানানোর কাজ করেন গ্রাফিক ডিজাইনাররা। তাই এ বিষয় নিয়ে পড়তে চাইলে, নিজের মধ্যে সৃজনশীলতার চর্চাও থাকা চাই।

গ্রাফিক ডিজাইনাররা মূলত ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য কাজ করেন। বর্তমান বিনোদন ও বিজ্ঞাপন দুনিয়া অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রাফিক ডিজাইনারদের অবারিত কাজের সুযোগ আছে। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানি কিংবা ছোট কোনো ই-কমার্স সাইট সব ক্ষেত্রেই গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য আলাদা পদ তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই খাতে আরও দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। গৎবাঁধা চাকরি না করে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেও ভালো আয় করা যায়।

গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ের ওপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধীনে গ্রাফিক ডিজাইন পড়ানো হয়। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গ্রাফিক ডিজাইনে স্নাতক করা যায়। এ ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে চার বছর মেয়াদি বিশেষ কোর্স করার সুযোগ আছে।

অণুজীববিজ্ঞান

চোখে দেখা না গেলেও কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপ সারা বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের আক্রমণের পর অণুজীববিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রেও অণুজীববিজ্ঞানীদের চাহিদা আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম স্বপ্ন নিয়েতেই লিখেছেন, অণুজীব ব্যবহার করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা যায়। একে বলা হয় বায়োরেমিডিয়েশন। যেমন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে সমুদ্রের তেল, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ দূর করা সম্ভব। বিভিন্ন শিল্প যেমন চামড়া ও ডিটারজেন্ট তৈরিতে অণুজীব থেকে তৈরি বিভিন্ন এনজাইম ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধনেও অণুজীব ব্যবহার করা হয়। মানবকল্যাণে অণুজীববিজ্ঞানের বহুমাত্রিক ব্যবহার একটি পরিবেশবান্ধব ও সুন্দর পৃথিবী গড়তে সাহায্য করে।

উচ্চমাধ্যমিকে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ ও গণিত বিষয় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অণুজীববিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া যায়। এই বিষয়ের অধীনে শিক্ষার্থীরা অণুজীবের জীবনাচরণ নিয়ে গবেষণা এবং কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য খাতে এর প্রয়োগ নিয়ে পড়াশোনা করেন। অণুজীববিজ্ঞানকে বহুমুখী বিষয়ও বলা যেতে পারে। কারণ, অণুজীব নিয়ে পড়াশোনার বাইরেও রসায়ন, প্রাণরসায়ন, ইমিউনোলজি, জিনতত্ত্বের মতো বিষয়গুলোতেও শক্ত ধারণা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন খাতে অণুজীববিজ্ঞানীদের চাহিদা বাড়ছে। গবেষক ও বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন থাকলে অণুজীববিজ্ঞান হতে পারে অপার সম্ভাবনাময় একটি বিষয়। দ্রুত রোগ নির্ণয়, ওষুধ, খাদ্য ও চামড়াশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণে অণুজীববিজ্ঞানীদের কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি এমনকি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষক হিসেবে কাজ করতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অণুজীববিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

রোবোটিকস ও মেকাট্রনিকস

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটা সমীক্ষা বলছে, ২০২২ সাল নাগাদ সাড়ে ৭ কোটি মানুষের কাজ নিয়ে নেবে রোবট। তবে একই সঙ্গে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হবে। ফলে আঁচ করা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলোয় কাজের বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করবে রোবট। ফলে এখন যাঁরা রোবটিকস নিয়ে পড়াশোনা করার কথা ভাবছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান।

রোবটের নকশা, রোবট নিয়ন্ত্রণ-গবেষণা, রোবট নিয়ে কাজ করাসহ সার্বিকভাবে রোবট কীভাবে বানাতে হয়, সেটাই মূলত থাকে রোবটিকসের পাঠ্যক্রমে। এটি একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা বহুমুখী বিষয়, যা মূলত কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, যন্ত্রপ্রকৌশল এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের সমন্বয়ে গঠিত। তাই রোবটিকস নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে বেশ ভালো দখল থাকা চাই। এ ছাড়া সৃজনশীল চিন্তা, যৌক্তিকভাবে কোনো জিনিসের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতার পাশাপাশি তত্ত্বীয় জ্ঞানকে ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটানা লম্বা সময় কাজ করার মানসিকতাও থাকা জরুরি।

দেশে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রোবোটিকসে দক্ষ লোকের প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। নতুন গড়ে ওঠা রোবটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কন্ট্রোল সিস্টেম ডিজাইন বা সফটওয়্যার শিল্পের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোয় সরাসরি বিভিন্ন পদে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন রোবোটিকস জানা তরুণেরা। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, গবেষণা বা শিক্ষকতা পেশায়ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে রোবটিকস ও মেকাট্রনিকস নিয়ে পড়ালেখা করা যায়।

বিজ্ঞাপন

সমুদ্রবিজ্ঞান

সমুদ্র শুধু নীল জলরাশির আধারই নয়, এখানে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। এমনকি সমুদ্রকে ঘিরে অর্থনীতির একটি শাখাও রয়েছে; যাকে বলা হয় ব্লু ইকোনমি। আবার উত্তাল সমুদ্র থেকে সাইক্লোন, সুনামির মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও সৃষ্টি হয়। তাই সমুদ্রকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন। এমন মানবসম্পদের জোগান দিতে পারে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়টি।

সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে মূলত সামুদ্রিক জীবজগৎ, সমুদ্রের রাসায়নিক উপাদান, সেগুলোর বিন্যাস ও বিক্রিয়া নিয়ে পড়াশোনা থাকে। এ ছাড়া সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাটা, তাপমাত্রা, ঘনত্বের মতো ভৌত বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশের ভূতত্ত্ব নিয়েও পড়ানো হয় সমুদ্রবিজ্ঞানে।

ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশে সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু সমুদ্রের ভৌত, রাসায়নিক এবং ভূতাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা গবেষণায় অনেকটাই পিছিয়ে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।

সমুদ্রবিজ্ঞানসম্পর্কিত কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক ও বিস্তৃত। এই বিষয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। আবার বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতো আমাদের দেশে সমুদ্রবিজ্ঞানসম্পর্কিত বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে গবেষক হিসেবে যোগদান করা যায়। এ ছাড়া সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিবেশসম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা অথবা বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানেও কাজের সুযোগ রয়েছে।

সমুদ্রবিজ্ঞানে নিয়ে পড়তে আগ্রহী হলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণিত, পদার্থ, জীববিজ্ঞান ও রসায়নে ভালো দখল থাকা চাই। দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান পড়ানো হয়।

পরিবেশবিজ্ঞান

কিছুদিন আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, জলবায়ুর চেয়ে করোনা মোকাবিলা সহজ। বিল গেটসের মতো অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করছেন। সারা বিশ্ব এখন পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে হলে পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করার এটাই সময়।

পরিবেশবিদ্যায় পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা—এই দুই দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবেশকে পড়ানো হয়। পরিবেশবিজ্ঞানে পরিবেশগত সমস্যাগুলোর কারণ ও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আলোচনা করা হয়। আর পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এসব সমস্যার সমাধান খোঁজা হয়। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বন ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিয়েও পাঠদান করা হয়।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার বিভিন্ন নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে মূল ধারায় আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবিষয়ক এই সনদের পদ্ধতি চালুর পর থেকে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এনভায়রনমেন্ট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ বছর দশেক আগেও কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো পদ ছিল না। বিভিন্ন পণ্য উৎপদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলোয়ও পরিবেশ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, সরকারি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোয়ও কাজের সুযোগ রয়েছে।

পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ানো হয়, এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন