default-image

ওয়ার্ড

ওয়ার্ড আসলে একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং অ্যাপ্লিকেশন, যা মূলত লেখালেখির কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। কোনো প্রতিবেদন লেখা, তথ্য টুকে রাখা, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি কিংবা আবেদনপত্র লেখা—বাস্তবের খাতা/নোটবুকের একটা ডিজিটাল সংস্করণ বলা চলে এই ওয়ার্ড অ্যাপ্লিকেশনকে। বানানের ভুল বের করা, লিখিত তথ্যকে ছাপার উপযোগী করে পেজভেদে সাজানোসহ আরও নানা রকম ফিচার আছে এতে।

পাওয়ারপয়েন্ট

উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশনের কাজে অফিস/বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে পাওয়ারপয়েন্ট। গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন, টেক্সট মিলিয়ে চমকপ্রদ প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায় এটি দিয়ে। প্রতিবছর হালনাগাদের সঙ্গে সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রানজিশন ইফেক্ট, টাইমার ও অন্যান্য সুবিধা, যা একে ব্যবহারকারীদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।

এক্সেল

হিসাব–নিকাশ ও উপাত্ত বিশ্লেষণে উপযোগী বিশেষ সফটওয়্যার হচ্ছে এক্সেল। আশির দশকে আইবিএমের তৈরি লোটাস ১-২-৩ নামের একটি সফটওয়্যার এই কাজে খুব জনপ্রিয় হলেও ধীরে ধীরে বাজার দখল করে নেয় মাইক্রোসফটের এক্সেল। বিভিন্ন সূত্র, চার্ট, টেবিল তৈরি, ম্যাক্রো অ্যানালাইসিসসহ নানা পেশার নানা কাজের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে এই এক্সেল। তাই মোটামুটি সব করপোরেট প্রতিষ্ঠানেই এক্সেলের দক্ষতা খুব জরুরি।

বিজ্ঞাপন

পাবলিশার

প্রাথমিক পর্যায়ের ডিজাইন সফটওয়্যার হচ্ছে মাইক্রোসফট পাবলিশার। যেকোনো মাপের পৃষ্ঠায় ছবি, গ্রাফিকস কিংবা লেখা ব্যবহার করে চমৎকার ডিজাইনের ডকুমেন্ট বানানো যায় এই অ্যাপ্লিকেশনে। বিজনেস কার্ড, ক্যালেন্ডার, ব্রশিয়ার কিংবা নিউজ লেটার বানানোর কাজে ব্যবহার করা যায় এটি। কম খরচে সহজে ডিজাইন করার জন্য অধিকাংশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানেই ব্যবহার করা হয় পাবলিশার।

অ্যাক্সেস

তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) ব্যবস্থাপনার জন্য মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়। অফিসের কাজে বিভিন্ন রকম উপাত্ত নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে হয়। অন্যান্য ডেটাবেস সফটওয়্যার পরিচালনার জন্য অনেক কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হলেও এক্সেস ব্যবহার তুলনামূলক বেশ সহজ। কোনো ডেটাবেইস থেকে তথ্য ইমপোর্ট করা কিংবা অনেকের থেকে এন্ট্রি নিয়ে একই স্প্রেডশিটে উপাত্ত সাজাতে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা হয়। সংগৃহীত ডেটাবেইস ব্যবহার করে যেকোনো প্রতিবেদন, জিজ্ঞাসা কিংবা শর্ত নির্ভর ফরম বানানো যায়।

আউটলুক

এটি মূলত একটি ই–মেইল প্রোগ্রাম। মাইক্রোসফটের অফিশিয়াল ই–মেইল ঠিকানার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো ই–মেইল ঠিকানা যুক্ত করা যায় এতে। ই–মেইল খুলে অ্যাপ্লিকেশনেই ই–মেইলে যুক্ত ফাইল দেখা, সেগুলো ক্যালেন্ডারে নোট করা কিংবা টাস্ক হিসেবে লিখে রাখার সুযোগ থাকে এই অ্যাপ্লিকেশনে।

ওয়াননোট

মাথায় কোনো আইডিয়া বা ভাবনা আসতেই চট করে লিখে রাখতে বেশ উপযোগী এই ওয়াননোট। ভুলে যাওয়ার আগেই ডিজিটাল এই নোটবুকে লিখে রাখতে পারেন আপনার আইডিয়া। লেখার সঙ্গে সঙ্গে ছবি, অলংকরণ কিংবা যেকোনো তথ্য টুকে রাখা যায় ওয়াননোটে। হাতে থাকা ফোন বা নোটপ্যাডে এই তথ্য লিখে রাখলে পরে সেটি কাজের সময় চাইলে কম্পিউটারেও নিয়ে নিতে পারেন আপনি।

মোবাইলেও মাইক্রোসফট অফিস

অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোরেও পাওয়া যায় এই সফটওয়্যারগুলো, যা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতোই বেশ উপযোগী। ফোনে ব্যবহার করে একই ফাইল অন্য যন্ত্রে নিয়েও কাজ করতে পারবেন ব্যবহারকারী।

ওয়েবভিত্তিক অফিস ৩৬৫

২০১১ সালে অনলাইনে শুরু হয় ‘অফিস ৩৬৫’–এর যাত্রা। ডেস্কটপের সেবাগুলোর সঙ্গে আরও কিছু অ্যাপ্লিকেশন যোগ করে গ্রাহক ফি যুক্ত করে তারা। কম্পিউটার বদলে ফেললে কিংবা অপারেটিং সিস্টেম বদলে ফেললেও একটি ই–মেইল ঠিকানাযুক্ত অ্যাকাউন্টে সব তথ্য রাখা যায় অফিস ৩৬৫ সেবায়। ১ টেরাবাইট জায়গা ব্যবহার করে ব্যবহারকারী ওয়ানড্রাইভের সুবিধা পাবেন। সঙ্গে থাকছে বিনা মূল্যে স্কাইপের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ। আর অনলাইন সেবায় চাইলে নিজের বানানো ফাইলটি শেয়ার করা যাবে যে কারও সঙ্গে। প্যাকেজভেদে নির্ধারিতসংখ্যক যন্ত্রে ব্যবহারকারীরা এই সেবা পেতে পারেন।

কোথায় শিখবেন?

প্রাথমিকভাবে শেখার জন্য ইউটিউব, ইউডিমাই, টেন মিনিট স্কুলসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নানা রকম কোর্স পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অনলাইনে লাইভ ক্লাসেও শেখার সুযোগ আছে। মৌলিক বিষয়গুলো শিখে নিতে পারলে বাকিটা টিউটোরিয়াল দেখে নিজেই শিখতে পারবেন। এ ছাড়া সফটওয়্যার ও পেশাভেদে বিশেষ সনদের জন্য পরীক্ষা দেওয়া যায়, যা আপনাকে পেশাগতভাবে আরও এগিয়ে রাখবে।

বিস্তারিত দেখুন এখানে

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0